পড়ালেখা ছেড়ে প্লিজ কাতারে যাবেন না
মাওলানা আমিনুল ইসলাম : কাউকে খাঁটো করা উদ্দেশ্য নয়, কোন পেশাকে ছোট করা নয়। শুধু বোঝার জন্য। আমাদের কওমী অঙ্গনের অধিকাংশ মেধাবী মুখগুলো হাফেজে কোরআন হয়ে থাকে। আর প্রথম সারির যারা মেধাবী, তারা অধিকাংশ আন্তর্জাতিক মানের হাফেজ।
কিন্তু কথা হল, এই মেধাবী মুখগুলো কোন দিকে যাচ্ছে?
বছর দুয়েক আগে একবার কাতারে ইমাম / মুয়াজ্জিন নিয়োগ হলো, আমাদের দেশ থেকে বহু মেধাবী হাফেজ বাছাই করে তারা নিয়ে চলে গেল। সেখানে গিয়ে ইমামতি আর মুয়াজ্জিন হিসেবেই তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। এছাড়া অন্য কোন লেখা/পড়া করার সুযোগ তাদের থাকছে না।
এদেশ থেকে যারা কাতারে যাচ্ছে, তাদের অনেকেই শিক্ষার্থী। বিভিন্ন মাদ্রাসায় পড়ালেখা করছে। কেউ কাফিয়া/শরহে বেকায়া/ জালালাইন/মেশকাত, এরকম বিভিন্ন জামাতের ছাত্র তারা। একদম পড়ার মাঝখানে কাতারে ইন্টারভিউ দিয়ে টাকা উপার্জনের নেশায় কাতার চলে যাচ্ছে। ওসব ছাত্রদের লেখাপড়া এই পর্যন্তই শেষ। আর সামনে এক কদমও চলতে পারছে না।
কাতার যাওয়া নিষেধ নয়। কাতার যাওয়ার জন্য ইন্টারভিউ দিতেও মানা নেই।
যারা লেখাপড়া শেষ করেছেন, তাদেরকে বলছি না। তারা তো অবশ্যই যাবেন। কিন্তু লেখাপড়া না করে টাকা উপার্জনের নেশায় মেধাবী মুখগুলো কাতারে চলে যাওয়া বড়ই বেমানান।
এসব মেধাবী ছাত্রগুলো ভাল করে লেখাপড়া করলে তাদের থেকে জাতি অনেক উপকৃত হত। দেশের অনেক কল্যাণ বয়ে আনত।
কেননা যারা ভাল হাফেজ, তারা লেখাপড়ার শেষ পর্যায়ে যেতে পারলে অনেক ভাল আলেম তারা হতে পারে। কিন্তু পড়ার মাঝখানে চলে যাওয়াটা মোটেও সমীচিন নয়।
আমরা যখন ছাত্র ছিলাম, তখন দেখেছি কাতারে হাফেজ নেওয়ার সে সব দৃশ্য। আমাদের অনেক মেধাবী সাথী লেখাপড়া শেষ না করে, কাতারে ইমাম আর মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ হয়েছেন। তাদের কেউ ছিল, মেশকাতের ছাত্র, কেউ জালালাইন, এরকম বিভিন্ন জামাতে অধ্যয়নরত। তারা অনেক তুখোড় মেধাবী ছিল। কিন্তু কাতারে যাওয়ার কারণে আর তাদের লেখাপড়া হয়নি।
আমাদের একজন শ্রদ্ধেয় উস্তাদ, তিনি একবার কাতারে ইন্টারভিউ দিয়ে সুযোগ পেলেন। কিন্তু ছয় মাসের মধ্যে আবার ফেরত আসতে বাধ্য হলেন।
বেচারা আলেম মানুষ, দেশে দরস -তাদরীসের কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন। কিন্তু বিদেশে তো অসহায়ের মতো থাকতে হয়। তাই তিনি ফেরত আসতে বাধ্য হয়েছিলেন।
তো যাইহোক, কাতার যাওয়া নিষেধ নয়। তবে যারা শিক্ষার্থী আছেন, তাদের চিন্তা করা উচিত। এই ইলম হাসিল না করে আগেই অর্থ উপার্জনের ফিকিরে কাতারে চলে যাওয়াটা ভাল দেখায় না।
আপনি এখন ছাত্র। ভাল করে পড়াশোনা করুন। ভাল আলেম হন। আপনার রিযিকের ব্যবস্থা আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই করবেন। পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে কেউ কাতারে যাবেন না। অন্য কোন ধান্ধা করবেন না। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সঠিক বোঝার তাওফিক দেন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক


