রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : গ্রাম আর শহর সবখানেই একটা প্রবাদ আছে, ‘দাঁড়াতে দিলে বসতে চায়, বসতে দিলে শুইতে চায়’- রোহিঙ্গাদের অবস্থাও তা-ই হয়েছে। মিয়ানমার থেকে আসা এই রোহিঙ্গারা এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হলো, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে দেশি-বিদেশি কিছু এনজিও সম্পৃক্ত আছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞজনেরা বলছেন, বাংলাদেশ নানামুখী আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছে এদের কারণে। গত কয়েক দিনে অন্তত ১১টি এনজিও জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আবেদন জানিয়েছে। মিয়ানমারে ফেরার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি, এই অজুহাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্পাদিত প্রত্যাবাসন পরিকল্পনার বিরোধিতা করারও আহ্বান জানিয়েছে তারা। একই সঙ্গে লাখখানেক রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনারও বিরোধিতা করতে বলেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে। এসব ষড়যন্ত্র কঠোরভাবে মোকাবেলা না করলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে চরম মূল্য দিতে হবে বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রকৃত সত্য এই যে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের ওপর তেমন কোনো চাপই দিচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দিন আগেও আসিয়ানের অংশ হিসেবে মিয়ানমার নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়া করেছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান মিলে মিয়ানমারে বাণিজ্যবিষয়ক সেমিনার করেছে, যাতে প্রধান অতিথি ছিলেন অং সান সু চি।

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইউরোপীয় দেশগুলোও রোহিঙ্গা সমস্যা সামনে রেখে মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে আর সেই ঘুঁটির চালে বাংলাদেশ হয়ে গেছে গিনিপিগ। কক্সবাজারে এখন স্থানীয় জনসংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে। ফলে জননিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। অঞ্চলটির সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। স্থানীয় দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান নেই বললেই চলে। চুরি-ডাকাতির ঘটনা বেড়ে গেছে অস্বাভাবিক হারে। তদুপরি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের অকারণ হামলারও শিকার হচ্ছে তারা। তাই স্থানীয় মানুষ ক্রমেই অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে।

এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে ফেরত না পাঠানো গেলে তাদের অধিকাংশকে দেশের অন্যান্য স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। যেসব এনজিও এই দুই উপায়েরই বিরোধিতা করছে তারা কী চায়, তাদের কাছ থেকেই জানতে হবে। তারা প্রত্যাবাসনের আগে রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিকত্ব, পূর্ণ নিরাপত্তা, জমিজমা ফিরিয়ে দেওয়া, অর্থনৈতিক নিশ্চয়তাসহ যেসব দাবি তুলেছে, মিয়ানমারের কাছ থেকে সেসব দাবি আদায়ের জন্য ওই সব এনজিও কী করছে? মিয়ানমার যদি আগামী ১০০ বছরেও এসব দাবি পূরণ না করে, তাহলে কি রোহিঙ্গারা তত দিন পর্যন্ত এভাবেই কক্সবাজারে থেকে যাবে? তখন রোহিঙ্গাদের নিয়ে তারা কোন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সেটিও জানা দরকার। দেশের প্রয়োজনে যা যা করা প্রয়োজন হবে, অকুণ্ঠচিত্তে তা করতে হবে। ভাড়াটে লোকজনের কথায় বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। হয় প্রত্যাবাসন, না হয় স্থানান্তরের কাজ দ্রুত শুরু করা হোক-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

ইনসার্ট : গ্রাম আর শহর সবখানেই একটা প্রবাদ আছে, ‘দাঁড়াতে দিলে বসতে চায়, বসতে দিলে শুইতে চায়’- রোহিঙ্গাদের অবস্থাও তা-ই হয়েছে। মিয়ানমার থেকে আসা এই রোহিঙ্গারা এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হলো, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে দেশি-বিদেশি কিছু এনজিও সম্পৃক্ত আছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *