আদিল মাহমুদের চারটি প্রেমের কবিতা
১. পরশ
মৃত্যুমুখে তোমাকে ভাবলে জ্বলে ওঠে জীবন প্রদীপ
বুকের ভেতর ঘন্টি বাজে—
শ্বাস-প্রশ্বাস নড়ে ওঠে করে টিপ টিপ টিপ …
ধ্রুপদী মরণ দেশে তুমি জীয়নকাঠি
তোমার পরশ পেলেই নতুন জীবনে জেগে ওঠি
২. কিশোরী
তুমি কিশোরী
সদ্য ফোটা গোলাপের পাপড়ি
সৌন্দর্যের ফুল নগরী
অদ্ভুত মমতার ভান্ডারী
প্রেমের হিমাদ্রী
আমি তোমার বন্দনা করি
৩. পড়শি
আমাদের বাড়ি পাশে—
সে এসেছিলো নব আষাঢ়ের মেঘ-জলে ভিজে
স্নাত হয়ে বৃষ্টিতে
পুষ্পিত মাটিতে চন্দন চুয়ানো দু’টি পায়ে
মনে হলো— ‘সে পৃথিবীর একাই একটা শ্রাবণ
বেহেশত থেকে নেমে এসেছে সবেমাত্র’
বন্ধুর অন্তর গহীনে
তার চৌম্বকীয় আকর্ষণ প্রেমের উত্তাপ ছড়াচ্ছে ক্রমাগত
অতঃপর অনেক কষ্টে রাজি করিয়েছি পড়শিকে
আজ ওদের বিয়ে।
৪. বেশরম জল
সদ্য কিশোরী একটা মেয়ে
বিকালে শালুক কুড়ায় বাড়ির পাশের ক্ষেতে
তার হাঁটু অব্দি লেগে থাকে বেশরম জল
ঝিলের জলে দিকবিদিক
চঞ্চল মনে পানকৌড়ির ডুবসাঁতার অবিরাম
আহা! এ যেন আমার প্রেম
মিশে আছে জলে, লেগে আছে পানকৌড়ির ঠোঁটে
প্রতিদিন বিকেল হলে
চূড়ির রিনিঝিন শব্দ, নুপুরের ধ্বনি
আমায় ডাকে—ক্ষেতের পাশে
অদৃশ্য মায়াজালে বন্দী হয়ে বারবার আসি
এতো তাড়াতাড়ি ডেকেও না আমায় বাড়ি
এখনো সন্ধ্যা নামার অনেক সময় বাকি


