নদীর স্বাভাবিক স্বচ্ছন্দগতি প্রয়োজন

নদীর স্বাভাবিক স্বচ্ছন্দগতি প্রয়োজন

নদীর স্বাভাবিক স্বচ্ছন্দগতি প্রয়োজন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ফারাক্কা বাঁধ গলার ফাঁদ। এ নতুন কিছু নয়। তারা চাইলেই বাঁধ খোলে দেয় আবার চাইলেই বন্ধ করে দেয়। এই গলার কাঁটা নিয়েই চলতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। দেশের মানুষ অভ্যস্ত হয়ে গেছে। কই কোনো প্রতিবাদ নেই। কোনো লংমার্চ নেই। কোনো প্রতিরোধ নেই। বিমান বন্দর থেকে দিব্বি দিল্লির উদ্দেশে ছুটে যাচ্ছে বিমান। কেউ চিকিৎসার জন্য, কেউ ভ্রমণের জন্য, কেউ অন্য আরও কত প্রয়োজনে। যেনো ভারতের সঙ্গে আমাদের কোনো সমস্যাই নেই।

সত্য আসলে কোনটা? আমরা জানি, ভারত আমাদের স্বাধীনতার সময়কার বন্ধু রাষ্ট্র। ষড়যন্ত্র কম হয়নি। একটা শ্রেণি সবসময় ভারতের বিরুদ্ধে স্লোগানে মত্ত থাকে। কিন্তু একটা বড় রাষ্ট্রের পাশে ছোট একটা দেশকে ধনে সম্পদে একটা মানে পৌঁছাতে ধারাবাহিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি ক্ষমতায় এসে ভারতের সঙ্গে দূরত্ব ক্রমাগত বাড়িয়েছে। দেনা পাওনা কোনো শোধ হয়নি। কিন্তু স্বাধীনতা সপক্ষ শক্তির চেষ্টা ছিটমহল, সাগরসহ নানা বিজয় এসেছে লাল সবুজের ঘরে। একটা ফারাক্কা বিজয়ের প্রত্যাশা এখন সবার। ভয়াবহ ফারাক্কা বাঁধ খুলে দেওয়ায় বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা নতুনভাবে ছোবল হেনেছে।

পদ্মায় পানির তোড়ে নৌযান চালানোও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কায় পানি প্রত্যাহারের কারণে সংকটে পড়ে বাংলাদেশের মানুষ। বর্ষা মৌসুমে হঠাৎ ফারাক্কার সব গেট খুলে দেওয়ায় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নাটোর, রাজশাহী, মাদারীপুর ও রাজবাড়ীতে নদী ভাঙন তীব্র হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে রাজশাহীর দুটি বাঁধ। তীব্র স্রোতের কারণে পাটুরিয়ায় ফেরির সংখ্যা অর্ধেক কমানো হয়েছে। নাটোরের পদ্মায় পানি বৃদ্ধির কারণে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লালপুর, বিলমারিয়া ও ঈশ্বরদী ইউনিয়নের ১৮ চরের অন্তত ৩ হাজার মানুষ। পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে হুমকির মুখে পড়েছে রাজশাহীর দুটি বাঁধ। এর একটি নগরীর বুলনপুরে, আরেকটি শ্রীরামপুরে।

বাঁধ রক্ষায় বুধবার সকাল থেকে ফেলা হচ্ছে বালুভর্তি জিও ব্যাগ। তবে ধেয়ে আসা পানির প্রবল স্রোতে এখনো হুমকির মুখে রয়েছে বাঁধ দুটি। পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মাদারীপুরের শিবচরের চরাঞ্চলের তিন ইউনিয়নে তীব্র ভাঙন চলছে। বিলীন হয়েছে একটি মসজিদ ভবন, মাদ্রাসা, সড়ক ও অসংখ্য ঘরবাড়ি। এ ছাড়া ভাঙনে আক্রান্ত হয়েছে বহুতলবিশিষ্ট তিনটি স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ, বাজারসহ বহু স্থাপনা। ফারাক্কা বাঁধের কারণে ভারতের বিহারের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত হওয়ায় ওই রাজ্যের পানিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী ওই বাঁধ ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বলেছেন, নতুবা পানি নিষ্কাশনের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। বিহারে বন্যায় ৪০ জনেরও বেশি প্রাণ হারিয়েছেন।

নদ-নদীতে বাঁধ নির্মাণ বা স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ রোধ আসলে কারও কল্যাণ আনে না। কলকাতা বন্দরের নাব্য রক্ষার নামে ফারাক্কা বাঁধ দেওয়া হলেও তা উদ্দেশ্য পূরণের বদলে ভারত ও বাংলাদেশ সবার জন্যই বিড়ম্বনা বয়ে আনছে। বিহারে বন্যা কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ৪০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি তারই প্রমাণ। আমরা মনে করি, কোনোভাবে কাম্য হওয়া উচিত নয় বাংলাদেশকে এখন ভুগতে হচ্ছে ফারাক্কাজনিত বন্যার অভিশাপে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *