বাবরি মসজিদ মামলায় রায় মেনে নিলেন বুখারি!

বাবরি মসজিদ মামলায় রায় মেনে নিলেন বুখারি!

পাথেয় টোয়েনটিফোর ডটকম : দিল্লি জামে মসজিদের শাহী ইমাম সৈয়দ আহমেদ বুখারি আলোচিত বাবরি মসজিদ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। শনিবার (৯ নভেম্বর) তিনি বলেছেন, বিষয়টি আর দীর্ঘায়িত করা উচিত না।

শনিবার বাবরি মসজিদ মামলার চূড়ান্ত রায়ে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত অযোধ্যার বিতর্কিত ওই ভূমিতে একটি মন্দির নির্মাণের নির্দেশনা দিয়েছেন। পরিবর্তে অযোধ্যার অন্য কোনও স্থানে মসজিদ নির্মাণের জন্য ৫ একর ভূমি পাবে মুসলিমরা।

এক সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আহমেদ বুখারি বলেছেন, ‘ভারতের মুসলমানরা শান্তি চায়। এরই মধ্যে তারা বলেছে সর্বোচ্চ আদালতের যে রায় হবে তা মেনে নেবে’। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রায় মেনে নিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে হিন্দু-মুসলিম বিরোধ দীর্ঘদিনের, এর অবসান হওয়া উচিত।’

এর আগে রায় ঘোষণার পর ভারতের সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড জানিয়েছে, অযোধ্যার বিতর্কিত ভূমি নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলেও তারা এই রায়ে সন্তুষ্ট না। তাদের আইনজীবী জাফরাইব জিলানি বলেন, ‘আমরা রায়ে প্রতি শ্রদ্ধাশীল তবে আমরা সন্তুষ্ট নই। এই রায়ে স্ববিরোধিতা আছে। আমরা রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানাব। আমাদের কাছে ৫ একর জমির মূল্য নেই। তবে আমাদের এই রায় মানতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘রায়ের কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর জন্য ইতিবাচক হতে পারে।’

এদিকে আলোচিত বাবরি মসজিদ মামলার রায়ের পর ভারতের জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি, দারুল উলূম দেওবন্দের মুহাদ্দিস মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানী মুসলিমদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, এ রায়কে পরাজয় ও বিজয় হিসেবে না দেখে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মুসলিমদের নিরাপত্তার বিষয়কে প্রাধান্য দিতে হবে। এ রায় আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয় নাই। তারপরও আমারা দেশের আইনকে সম্মান করবো। হাঙ্গা দাঙ্গা না করে আমাদের উচিৎ আইনীভাবে লড়াই করা।

শনিবার বাবরি মসজিদ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আরশাদ মাদানী বলেন, আমরা চূড়ান্তভাবে ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করেছি, করবো। আমাদের বিশ্বাস ছিলো আমাদের পক্ষ্যে বাবরি মসজিদ মামলার রায় আসবে। কারণ আমরা মজুবত দলিল প্রমাণ পেশ করেছি।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *