জামিআ ইকরায় দরস প্রদান করলেন সালমান মানসুরপুরী
পাথেয় রিপোর্ট : রাজধানীর স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিআ ইকরা বাংলাদেশের ইফতা বিভাগের দরস প্রদান করেছেন জামিআ কাসিমুল উলুম শাহী মুরাদাবাদের মুফতী ও উচ্চতর হাদীস বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক, আওলাদে রাসূল মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানীর খলিফা, মুফতী সাইয়্যিদ মুহাম্মদ সালমান মানসুরপুরী।
শনিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুর ১২ টায় জামিআ ইকরা মিলনায়তনে এ দরস প্রদান করেন মুফতী সালমান মানসুরপুরী।
বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত তিনশোর বেশি তামরীন করায় জামিআ ইকরার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
শাহী মুরাদাবাদের মুফতী বলেন, ইফতার বছর পড়ার বছর নয়, ইফতার বছর মূলত তামরীনের বছর। এ বছর তামরীনের মাধ্যমে মাসআলা-মাসাইল শেখাও লেখার মশক করতে হয়। ইফতার বছর যেসব কিতাবগুলো দরসের পড়ানো হয়, সেগুলো পড়ার জন্য নয়, এ কিতাবগুলো তামরীন সম্পর্কে জানা, বুঝা এবং সহায়কের জন্য।
তারমীনের মশকের জন্য মুতালার পরিধি বড়ানোর কথা উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মুফতী সালমান মানসুরপুরী বলেন, মুতলার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। মুতালায় জেহেন খোলে, কিতাব বুঝার যোগ্যতা বাড়ে। যে কোন বিষয় মুতালা করার পর তা নোট করে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
মুফতী সালমান মানসুরপুরী বলেন, মুফতী মাহমুদ সাহেব রহ. বলেছেন, ফতওয়ার কিতাবগুলোর মধ্যে তারতীবের দিক থেকে ‘বাদাইউস সানাই’ সুন্দর, দলিল-আদিল্লার দিক থেকে ‘বাহরুর রায়কে’ শ্রেয়, জুযয়ী মাসআলা মাসাইল বেশি আছে ‘ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়্যাহ ও ফাতওয়ায়ে তাতারখানিয়্যাহে’তে, আর রাজেহ কউলের দিক থেকে ‘ফাতওয়ায়ে শামী’ বেশ ভালো।
আরবি কিতার দেখে তামরীন করার কথা উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তারমীন সবসময় আরবি কিতাবগুলো দেখে করার চেষ্টা করবে। কারণ, আরবি কিতাবগুলোই হলো আসল। দ্বিতীয় স্তরে আছে উর্দু কিতাবগুলো। আরবি কিতাবে কোন মাসআলা মিসাইল বের করতে না পারলে তখন উর্দু কিতাবগুলোকে আরবি কিতাবের সহায়ক হিসেবে দেখবে।
উল্লেখ, ২০১৫-১৬ সালে মুফতী সাইয়্যিদ মুহাম্মদ সালমান মানসুরপুরীরের পরামর্শে এবং তাঁকে প্রধান মুশরিফ নিযুক্ত করে জামিআ ইকরার বাংলাদেশের ইফতা বিভাগ চলু করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর নির্দিষ্ট একটা সময় মুফতি সালমান মানসুরপুরী জামিআ ইকরার ইফতা বিভাগে দরস প্রদান করেন এবং শিক্ষার্থীদের তামরিন দেখেন।
জামিআ ইকরার শিক্ষার্থী ছাড়াও দরসে উপস্থিত ছিলেন জামিআ ইকরা বাংলাদেশের রাঈস মাওলানা আরীফ উদ্দীন মারুফ, মাওলানা ফয়জুল্লাহ আমান কাসেমী, মাওলানা সাইফুল ইসলাম কাসেমী, মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন, মাওলানা আমিনুল ইসলাম, মাওলানা শফিকুল ইসলাম, মাওলানা রিয়াজুল ইসলাম, মুফতী আবদুস সালামপ্রমুখ।


