কাশ্মীর নিয়ে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব পাশ

কাশ্মীর নিয়ে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব পাশ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কাশ্মীরের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ফের সরব হয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা। অবরুদ্ধ উপত্যকায় আটক সব রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ছাড়াও সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার জন্য মোদি সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন তারা।

এ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভনে একটি প্রস্তাবও পেশ করা হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে। খবরে বলা হয়, ৬ ডিসেম্বর রিপাবলিকান দলের স্টিভ ওয়াটকিন্সের সঙ্গে মিলে ওই ‘বাইপার্টিসান রেজ্যুলেশন’টি পেশ করেন ডেমোক্র্যাট দলের প্রমীলা জয়পাল।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক প্রমীলার ওই প্রস্তাবে ভারত সরকারের কাছে আবেদন করে বলা হয়েছে, অবিলম্বে জম্মু ও কাশ্মীরে আটক সব রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেয়া হোক। একইসঙ্গে ইন্টারনেটসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে হবে। কাশ্মীরের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করার কথাও বলা হয়েছে ওই প্রস্তাবে।

গত ৫ আগস্ট সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর থেকেই উপত্যকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে সেখানে কড়াকড়ি শুরু করে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কট্টর হিন্দুত্ববাদী সরকার।

কারফিউ জারির পাশাপাশি তিন জন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ বহু রাজনৈতিক নেতাদের আটক করে রাখা থেকে শুরু করে সব যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বন্ধ রাখা হয় উপত্যকার স্কুল-কলেজ-দোকানপাট-অফিস। কিছুদিন আগে পোস্টপেড মোবাইল ও ল্যান্ডলাইন চালু করা হলেও এখনও বন্ধ প্রায় ২০ লক্ষ প্রিপেইড মোবাইল এবং ইন্টারনেট পরিষেবা।

এর মধ্যেই গত মাসে সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছিলেন, কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ওই দাবির কিছু দিনের মধ্যেই মার্কিন কংগ্রেসে এই প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। এতে ভারত সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে যাতে জম্মু ও কাশ্মীরের ইন্টারনেট তথা যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর জারি করা বাকি নিষেধাজ্ঞাও যত দ্রুত সম্ভব তুলে নেয়া হয়।

সেই সঙ্গে ওই প্রস্তাবে আবেদন করা হয়েছে, যে সব রাজনৈতিক নেতাকে আটক করা হয়েছে, তাদের মুক্তি দিতে হবে। ওই বন্দিদের মুক্তির শর্ত হিসেবে কোনও রকম রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ না করা বা ভাষণ না দেয়ার জন্য বন্ডে সই করানোও বন্ধ করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক এবং সাংবাদিকদের জম্মু ও কাশ্মীর-সহ ভারতে স্বাধীন ভাবে ঘোরাঘুরির অনুমতি দিতে হবে। ধর্মকে কেন্দ্র করে সব হিংসা, বিশেষত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে টার্গেট করা বন্ধ করতে হবে।

ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান— মার্কিন কংগ্রেসের দুই বিরোধী দলের সদস্যরাই গত কয়েক মাসে কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

অক্টোবরে ডেমোক্র্যাট দলের সদস্য ক্রিস ভ্যান হলেন অব মেরিল্যান্ড জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে উপত্যকায় যেতে গিয়ে ভারত সরকারের বাধার মুখে পড়েন তিনি।

এরপর কাশ্মীর প্রসঙ্গে মার্কিন কংগ্রেসে দু’বার আলোচনা হয়। ওই প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া দেয় ভারত সরকার। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার দাবি করেন, ‘জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের জীবন রক্ষায়, সেখানকার শান্তি ও সুরক্ষা বজায় রাখতে সম্প্রতি যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য যেভাবে এর অধিবেশনে প্রশ্ন তুলেছেন, তা সত্যিই দুঃখজনক।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *