‘হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে অদৃশ্য বিভাজন?’

‘হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে অদৃশ্য বিভাজন?’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে এবার মোদি সরকার তথা বিজেপির বিরুদ্ধে সোচ্চার হল উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনাও।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পেশ করেছেন। তার আগে বিজেপির প্রাক্তন মিত্র শিবসেনা বললেন, এই বিলটির মাধ্যমে আসলে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে “অদৃশ্য বিভাজন” তৈরি করার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার।

শিবসেনার মুখপত্র সামনায় সম্পাদকীয়তে তীব্র আক্রমণ করা হয় সরকারকে। পাশাপাশি হিন্দু অবৈধ অভিবাসীদের “নির্বাচিত গ্রহণযোগ্যতা” তৈরি করে অর্থাৎ তাঁদের নাগরিকত্ব দিয়ে দেশে ধর্মীয় যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরির জন্যে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তুলল উদ্ধব ঠাকরের দল।

নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা অ-মুসলিম শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়টি সহজ করার জন্য ছয় দশকের পুরনো আইনটি সংশোধন করার চেষ্টা করতে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। অনেক বিরোধী দল প্রস্তাবিত আইনটিকে বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করে বলেছে যে এটি ভারতের সংবিধানে থাকা ধর্মনিরপেক্ষতার মূল নিয়মের পরিপন্থী।

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বিজেপির পাশে থাকা শিবসেনার মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয় মহারাষ্ট্রে। ওই রাজ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে বিজেপির সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাঁধে উদ্ধব ঠাকরের দলের। অবশেষে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) এবং কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে সে রাজ্যে সরকার গড়ে শিবসেনা। উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার অভিযোগ, দেশের স্বার্থে নয়, আসলে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিলের মাধ্যমে “ভোট ব্যাঙ্ক রাজনীতি” করছে বিজেপি।

শিবসেনার মুখপত্র সামনার সম্পাদকীয়তে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটির সময়কাল নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। “ভারতে এমনিতেই এখন সমস্যার কোন অভাব নেই, তার মধ্যে আবার আমরা সিএবির মতো নতুন এক সমস্যাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। দেখে মনে হচ্ছে কেন্দ্র আসলে এই বিলের মাধ্যমে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে এক অদৃশ্য বিভাজন তৈরি করছে”, বলে ওই দল।

“অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে কেবল হিন্দুদেরই গ্রহণ করার মাধ্যমে কি এদেশে কোনও ধর্মযুদ্ধের সূত্রপাত হতে পারে?”, প্রশ্ন শিবসেনার।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *