পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানাধীন শুলকবহর এলাকায় শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে একটি বস্তিতে আগুন লেগে পুড়ে গেছে শতাধিক ঘর। ফায়ার সার্ভিসের ১৫ ইউনিটের দেড়ঘন্টার চেষ্টায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। হতাহতের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে এই বস্তির ৩ নম্বর গলির একটি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিসের পাইপ দিয়ে বাবু কলোনিতে পানি ছিটানো হচ্ছে। স্থানীয় লোকজনও আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন। বস্তির আশপাশে থাকা টিনশেড ঘরগুলোতে যাতে আগুন না লাগে, এজন্য তিনটি উঁচু ভবন থেকেও পানি ছিটানো হয়।
ঘটনাস্থলে আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সকাল সাড়ে ১০টায় ডেকোরেশন গলির শেষ মাথায় বাবু কলোনিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট এক থেকে দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পুরো হিসাব তাঁরা বের করা চেষ্টা করছেন বলে তিনি জানান।
এদিকে কলোনিতে ঢোকার সড়ক সরু হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি নিতে খুব বেগ পেতে হয়েছে। আবার পানির সহজ উৎসও ছিল না। টিনশেড কাঁচাঘর হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে বলে ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ধারণা করছেন।
আগুনে ঘরের সব জিনিস হারিয়ে কলোনির বাসিন্দাদের ঘটনাস্থলে আহাজারি করতে দেখা যায়। বেবী বেগম নামে কলোনির এক বাসিন্দা বলেন, ‘আগুন আগুন’ বলে চিৎকার শুনে দেখি কলোনির লাকীর ঘর দাউ দাউ করে জ্বলছে। এরপরই নয় বছরের মেয়েকে নিয়ে ঘর থেকে দ্রুত বাইরে চলে আসি। ঘরের সব জিনিস পুড়ে গেছে বলে তিনি জানান।
এই বস্তির আরেক বাসিন্দা পারভীন আক্তার বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে সেই এক বাসায় কাজে গিয়েছিলেন। আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে আসেন। কিন্তু রেফ্রিজারেটর ছাড়া আর কিছুই তিনি ঘর থেকে বের করতে পারেননি।
এছাড়াও কলোনির রফিক সওদাগরের ঘরে ভাড়া থাকতেন অটোরিকশা চালক বেলাল হেসেন। তিনি জানান, রাতে গাড়ি চালিয়ে সকালে ঘরে এসে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ঘুম ভেঙে দেখতে পান চারদিকে আগুন। তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে এসে প্রাণে বাঁচলেও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ঘরের সব জিনিসপত্র।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের পাঁচলাইশ জোনের সহকারী কমিশনার দেবদূত মজুমদার বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত কারও হতাহতেরও খবর তারা পাননি।


