‘আমি বিশ্বাস হারাচ্ছি। আর কবে পাব ন্যায়?’

‘আমি বিশ্বাস হারাচ্ছি। আর কবে পাব ন্যায়?’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ফাঁসির দিনক্ষণ চূড়ান্ত ছিল, সে অনুযায়ী নেয়া হয়েছিল সকল প্রস্তুতিও। তবে প্রাণভিক্ষা চাওয়ায় শেষ মুহূর্তে আটকে যায় ফাঁসি কার্যকর। এবার আবার পিছিয়ে গেল নির্ভয়া ধর্ষণ মামলার শুনানি।

আলোচিত এ ধর্ষণ মামলায় দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এবার আদালতের বাইরে বসে গেলেন নির্ভয়ার মা আশা দেবী। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টের বাইরে বসে পড়েন নির্ভয়ার বাবা-মা। তাদের সঙ্গে সমাজকর্মী যোগিতা ভাওনাও উপস্থিত ছিলেন।

আদালতে শুনানি পেছনোর পরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন আশা দেবী। বলের, ‘গত এক বছর ধরে আমি আদালতে ঘুরে চলেছি। অপেক্ষা করছি কবে দোষীদের সমস্ত আইনি সহায়তা পাওয়া শেষ হবে। ধর্ষকদের অধিকার আছে, আমার নেই? আমি চাই দোষীদের নামে নতুন মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হোক।’

গত ১ ফেব্রুয়ারি নির্ভয়া কাণ্ডের চার দোষীর ফাঁসি কার্যকরে কথা ছিল। তবে ৩১ জানুয়ারি বিকেলে আসে ভিন্ন খবর। দিল্লি পাটিয়ালি হাউস কোর্টের নির্দেশে স্থগিত হয় নির্ভয়ার চার অপরাধীর ফাঁসি। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ফাঁসি হবে না বলেও জানিয়ে দেন আদালত। তখনও কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন নির্ভয়ার মা।

এরপর চার দোষীর নামে নতুন করে মৃত্যু পরোয়ানা জারির আরজি জানানো হয়েছিল। চারজনকে ২০ ফেব্রুয়ারি ফাঁসিতে ঝোলানোর পরিকল্পনা করেছিল জেল কর্তৃপক্ষ। তবে গত শুক্রবার তা খারিজ করে দেয় আদালত। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কেন্দ্র।

এ বিষয়ে সরকার পক্ষের আইনজীবী তুষার মেহতা আদালতে বলেন, ‘দেশের যথেষ্ট ধৈর্যের পরীক্ষা হয়েছে। এ ব্যাপারে এবার সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করুক।’ তবে এর আগে চার দোষীর আইনি সহায়তা পাওয়ার জন্য আবেদনের জন্য সাতদিন সময় বেঁধে দিয়েছিল আদালত। ফলে চার দোষীর ফাঁসি কবে হবে, তা নিয়েও জটিলতা এখনও অব্যাহত।

নির্ভয়ার মা আশা দেবী ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘আজ আদালতের কাছে ক্ষমতা রয়েছে আর আমাদের কাছে সময় আছে। কোথাও কোনো আবেদন বাকি পড়ে নেই। তারপরও মৃত্যু পরোয়ানা জারি হলো না। এটা আমাদের প্রতি অবিচার। আমিও দেখব আদালত দোষীদের আর কতদিন সময় দেয়, আর সরকারও তাদের কতদিন সমর্থন করে।’ তবে নির্ভয়ার মা এও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস হারাচ্ছি। আর কবে পাব ন্যায়?’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *