পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : হাতে মেহেদী রাঙিয়ে বিয়ের সাজে বসে আছে নববধূ। হলুদ সন্ধ্যাও পার হয়ে গেছে। এখন শুধু বিয়ের অপেক্ষা। তবে ২৩ বছর বয়সী সাবিত্রী বাড়িতে বসে কাঁদছে। তার এই কান্না বাবা-মাকে ছেড়ে নতুন ঠিকানায় যাওয়ার জন্য নয়। গত মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিয়ে হওয়ার কথা থাকলেও দিল্লির সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় তা ভেস্তে যাওয়ায় তার চোখে জল।
সাবিত্রীর এই কান্না অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি প্রতিবেশী এক মুসলিম পরিবার। সপ্তাহব্যাপী দিল্লির বিক্ষোভ ওই এলাকায় জাতিগত ঘৃণা চরমে ওঠার বহিঃপ্রকাশ হলেও এই মুসলিম পরিবার তা থেকে ব্যতিক্রম। তারা সাবিত্রীকে নিজেদের ঘরের বউ করে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিলে পরদিন ফের বিয়ের আয়োজন করেন সাবিত্রীর বাবা।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবিত্রীর বাবা তাদের বলেছেন, বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) তিনি নতুন করে মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেন প্রতিবেশী এক মুসলিম ছেলের সঙ্গে। মেয়ের বিয়ে ভেস্তে যাওয়ার পর প্রতিবেশী ওই পরিবার থেকে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়া হয়। তিনি এ নিয়ে ওই পরিবারের প্রতি তার পরিবারের কৃতজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
দিল্লির কেন্দ্রস্থল থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরের উত্তর-পূর্ব দিল্লি অঞ্চলে বিগত কয়েকদিন ধরেই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা চলছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হামলায় এখন পর্যন্ত ৪২ জন মারা গেছেন। পুরো দিল্লির পরিস্থিতি এখন থমথমে। এরমধ্যে সহিংসতা কবলিত ওই এলাকায় জাত-ধর্ম ভুলে একের বিপদে অপরের সাহায্যের নজির তৈরি হলো।
বিয়ের খবর পেয়ে ওইদিনই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একদল সাংবাদিক। কনে সাবিত্রী প্রসাদ তাদেরকে বলেন, ‘আমার মুসলিম ভাইয়েরাই আজ আমার সম্মান বাঁচালো।’ গত বুধবার উত্তর-পূর্ব দিল্লির চাঁদবাগ জেলার গলিতে সাবিত্রীদের ছোট্ট ইটের ঘরে বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। নববধূ এখন তার বরের ঘরে।
তবে সাবিত্রীদের বাড়ি থেকে সামনে পা বাড়ালেই মনে হচ্ছে এ যেন এক যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা। বাড়ি-গাড়ির সঙ্গে ভাঙা হয়েছে স্থানীয় দোকানপাট। এই চাঁদবাগেই গেল এক সপ্তাহের জ্বালাও-পোড়াও আর সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৮ জন। গত এক দশকের মধ্যে ভারতের রাজধানী শহরে এতটা সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনার বর্ণনায় সাবিত্রীর বাবা ভূদেব প্রসাদ বলেন, ‘আমরা নিচে নেমে দেখি চারদিকে শুধু ধোঁয়া আর ধোঁয়া। এটা খুবই ভয়ঙ্কর। আমরা শান্তি চাই। বছরের পর বছর ধরে মুসলিমদের সঙ্গে আমি এই এলাকায় বসবাস করছি কিন্তু কোনো সমস্যাই হয়নি। এর পেছনে কাদের হাত আছে জানিনা, যাদের হাতই থাক না, তারা আর যাই হোক প্রতিবেশী নয়।’


