দিল্লির সহিংসতা রোধে অমিত শাহর নিষ্ক্রিয়তায় পশ্চিমবঙ্গ জমিয়তের প্রতিবাদ মিছিল ঘোষণা

দিল্লির সহিংসতা রোধে অমিত শাহর নিষ্ক্রিয়তায় পশ্চিমবঙ্গ জমিয়তের প্রতিবাদ মিছিল ঘোষণা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কট্টরপন্থি হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীদের সহিংসতা আর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মধ্যে ভারতের কেন্দ্রিয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই দাঙ্গা-সহিংসতা রোধে তার রাজধর্ম পালন না করার প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামা হিন্দ আগামী ১লা মার্চ, রবিবার কলকাতার মৌলালি ক্রসিং থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এথ্য নিশ্চিত করেছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামার সাধারণ সম্পাদক মুফতি আব্দুস সালাম।

বিজ্ঞপ্তিতে জমিয়ত কর্মী সমর্থকদের দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে মৌলালির মাজারওয়ালি মসজিদের নিকট জমায়েত হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে, দুপুর একটার সময় এ মিছিল শুরু হবে। মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামার সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।

দিল্লির এ সহিংসতা বিশ্বের সামনে আপমর ভারতবাসীর মাথা হেট করে দিয়েছে জানিয়ে এ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিগত বেশ কয়েকদিন ধরে দিল্লিতে যেভাবে সহিংসতার আবহ সৃষ্টি হয়েছে তা আপামর ভারতবাসীর মাথা হেট করে দিয়েছে। যা হয়েছে তাতে শান্তিপ্রিয় ভারতবাসীর দুঃখ-কষ্ট রাখার জায়গা নেই। রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট বিদ্বেষ ব্যবসায়ীদের জ্বালানো হিংসার আগুনে রাজধানী কার্যত জতুগৃহ। দিল্লিজুড়ে কোথাও স্বজন হারানোর হাহাকার, কোথাও আবার অজানা আতঙ্কের রেশে শ্মশানসম নিস্তব্ধতা।

‘আর এসব কিছু যখন হচ্ছে তখন কেন্দ্র সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পুলিশ নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে আর নির্দ্বিধায় ‘উপরওয়ালার’ নির্দেশের অপেক্ষা করছে আর দাঙ্গাকারীরা কার্যত নিরস্ত্র পুলিশকে পাশে পেয়ে অমিতবিক্রমে নিরীহ সাধারাণ মানুষের উপরে জুলুম-অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। এখানে পৃথকভাবে বলার অবকাশ রাখে না যে, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দিল্লির সহিংসতা রোধে যুগপৎ নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতার প্রমাণ দিয়েছেন। এবং এমন সময়ে নির্বিকার চিত্তে দেশের বিভিন্ন স্থানে সফর করছেন।’

এছাড়াও জমিয়তের আগের সকল মিছিলের মত এমিছিলেও সকলের প্রতি শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জমিয়ত যেহেতু বরাবর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে এসেছে; এই প্রতিবাদ কর্মসূচিও শান্তিপূর্ণ হবে। মিছিলে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্বেচ্ছাসেবক থাকবে। কুশপুত্তলিকা দাহ করা বা অন্যান্য শৃংখলাভঙ্গকারী কর্মকান্ড বরদাশত করা হবে না বলেও জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত , গত বছরের ডিসেম্বরে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস করে মোদি সরকার। তারপর থেকেই এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাসের পর থেকেই মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। সমালোচকদের দাবি, এই আইন ভারতের সংবিধানবিরোধী। এই আইনের কারণে মুসলিমরা আতঙ্কে আছেন যে, মোদির ভারতে তাদের হয়তো দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেখা হবে।

গত শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) জাফরাবাদে সিএএ-বিরোধীরা রাস্তা অবরোধ করে। রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে পাল্টা সিএএর পক্ষে সমাবেশ শুরু হয়। এরপরেই দু’পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ শুরু হয়। আর এই বিক্ষোভই সংঘাতে রূপ নেয় এবং দিল্লি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

ভারতের মুসলিমরা নাগরিকত্ব আইনের বিরোধীতা করে বিক্ষোভ করায় দেশটির ক্ষমতাসীন বিজেপি দল তাদের দেশদ্রোহী বলে উল্লেখ করেছে। বিজেপির একাধিক নেতার দাবি, যারা সিএএ-বিরোধী তাদের গুলি করে মারা উচিত। এসব নাগরিকদের চির শত্রু দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *