অগ্রগতির চিত্রে দারিদ্র্য জয় একটি মাইলফলক
স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ একটি অসম্ভব রকম দুর্ভিক্ষে পড়েছিল। পঁচাত্তরের মুজিব পরিবার হত্যাকাণ্ডের পর দেশ পড়েছিল আরও বেশি বিপদে। এরপর কেউই আর দেশকে অথনৈতিক উন্নতির পৃষ্ঠে নিয়ে আসতে পারেনি। শেখ হাসিনা সরকার কয়েকবার ক্ষমতায় থাকায় দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণে একটি মাইলফলক স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ১৯৭২ সাল থেকে দেশে দারিদ্র্যের হার ক্রমশ কমছে। মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে ওই সময়ে দারিদ্র্যের হার ছিল ৭৮ শতাংশ। সর্বশেষ ২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী তা ২১ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। দারিদ্র্যের হার কমানোয় ধরাবাহিক অগ্রগতির চিত্রে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য, দারিদ্র্য জয়ে বাংলাদেশ মাইলফলক স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব পর্যালোচনা করে এ চিত্র প্রকাশ করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। বঙ্গবন্ধু জন্মশতবাষির্কীতে মধ্যম আয়ের পথে বাংলাদেশ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে পরিকল্পনা বিভাগ। সর্বশেষ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে প্রতিবেদনটি উপস্থাপনও করা হয়।
পরিকল্পনা সচিব নুরুল আমিন বলেন, বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন ও অগ্রগতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ দারিদ্র্য নিরসনে, নারীর ক্ষমতায়নের শিক্ষা বিস্তার, তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতি, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পরিবেশ রক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সামনে রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। দ্রুততম সময়ে আর্থসামাজিক উন্নয়নের রূপরেখা বাস্তবায়নে এ দেশের ঈর্ষণীয় সক্ষমতা এরই মধ্যে প্রমাণিত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৭৮ শতাংশ। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় ২০০৯ সালে এই ছিল ৩৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এরপর ২০১০ সালে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০১১ সালে ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ, ২০১২ সালে ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০১৩ সালে ২৭ দশমিক ২ শতাংশ, ২০১৪ সালে ২৬ শতাংশ, ২০১৫ সালে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ, ২০১৬ সালে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ, ২০১৭ সালে ২৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ২১ দশমিক ৮ শতাংশে এসে দাঁড়ায় দারিদ্র্যের হার। বিপুল সম্ভাবনাময় এই বাংলাদেশকে আর কেউ রুখতে পারবে না। যেসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে, দারিদ্র্য তার মধ্যে অন্যতম।
বিশ্বে ক্ষুধা নিবারণের সূচকে বাংলাদেশ যে উন্নতি করেছে তা আশাব্যাঞ্জক। অভিনন্দন বিশ্বব্যাংকও। এরই মধ্যে বাংলাদেশকে দারিদ্র্য হ্রাসের ক্ষেত্রে রোল মডেল ঘোষণা করেছে বিশ্বব্যাংক। দেশের মানুষের মুখে পরিমাণমতো অন্নযোগানে দেশকে আরও বেশি লড়তে হবে। অপচয়রোধ করে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে পারলেই অগ্রগতির চিত্রে দেশকে আরও উন্নততর করা সম্ভব হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
– মাসউদুল কাদির


