নিযামুদ্দিনের তাবলিগ মারকাজের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে : ওমর আবদুল্লাহ

নিযামুদ্দিনের তাবলিগ মারকাজের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে : ওমর আবদুল্লাহ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের দিল্লিতে তাবলিগ জামাতের প্রধান মারকাজ নিযামুদ্দিন মসজিদের সমাবেশ-জোড়ে অংশ নেয়া মুসল্লিদের করোনা সংক্রামিত হওয়ার বিষয়ে সরকার মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে টুইট করলেন কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ।

টুইট করে তিনি বলেন, এ ঘটনাকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর সুযোগ হিসেবে নিচ্ছেন অনেকে। আর যারা ‘তাবলিগ ভাইরাস’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে টুইট করছেন, সেটি ‘আরও বিপজ্জনক’।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিকভাবে আসা ভাইরাস একটা সময় শেষ হয়ে যায়, কিন্তু এ ধরনের বিদ্বেষ একটি ছাপ ফেলে রেখে যায় সমাজে। আল জাজিরা, এনডিটিভি সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় এ খবর প্রকাশ করেছে।

ওমর আবদুল্লাহ বলেন, সর্বত্র মুসলমানদের কলঙ্কিত করতে কারও কারও জন্য এখন তাবলিগ জামাত সহজ অজুহাত হিসেবে সামনে চলে এসেছে। মনে হচ্ছে, আমরাই কোভিড-১৯ সৃষ্টি করে বিশ্বজুড়ে তা ছড়িয়ে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে এটাই মনে হচ্ছে যে, এ ঘটনা তাবলিগ জামাতের দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপেরই ফল। তবে এটিও ঠিক যে, এই ধরনের সমাবেশ তাদের কাছে নতুন কিছু নয়। তবে ভারতের বেশিরভাগ মুসলমানই কিন্তু সরকারি নির্দেশিকাগুলো মানছেন এবং অন্যদের সেই নির্দেশ মেনে চলারই পরামর্শ দিচ্ছেন।

এদিকে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভারতের তাবলিগ জামাতের অন্যতম মুরব্বি মাওলানা সাদের বিরুদ্ধে মহামারী আইনে মামলা হয়েছে। দিল্লির মারকাজ নিজামুদ্দিন মসজিদে ধর্মীয় সমাবেশ থেকে ব্যাপকহারে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় এ মামলা হয়েছে। এতে মসজিদ কর্তৃপক্ষকেও আসামি করা হয়েছে।

নিজামুদ্দিন মসজিদে তাবলিগ জামাতে যোগ দেয়া তেলেঙ্গানার ছয়জন ও শ্রীনগরের একজন মোট সাতজন এরইমধ্যে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

এছাড়া ওই জমায়েতে অংশ নেয়া তামিলনাড়ুর আরও অন্তত ৫০ জনের করোনাভাইরাস পজিটিভ এসেছে।

দিল্লির নিজামুদ্দিন মসজিদটিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রায় ২০০০ লোকের জমায়েত হয়েছিল। তাদের মধ্যে করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা দেয়া তিন শতাধিক মানুষকে সোমবার হাসপাতালে নেয়া হয়। মঙ্গলবার মধ্য রাতে পুলিশ ও গোয়েন্দার যৌথ অভিযানে মসজিদটি সিল করে দেয়া হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *