স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই ১০ টাকার চাল বিক্রি
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: দশ টাকার চাল বিক্রি করতে গিয়ে স্বাস্থ্যবিধির কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না বলে দেখা গিয়েছে। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশের দুস্থ, অসহায় ও খেটে খাওয়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ১০ টাকা কেজি দরে খোলা বাজারে (ওএমএস) চাল বিক্রি শুরু করেছে সরকার।
রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর মিরপুরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শিয়ালবাড়ীর রূপনগর ঝিলপাড় বস্তি ও মহাখালীর সাততলা বস্তি এলাকায় এ চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। চলবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।
এদিকে নির্ধারিত সময়ের আগেই রূপনগরে ১০ টাকা দরে চাল নিতে মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বর্তমানে দেশের করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ কার্যক্রম চলার কথা থাকলেও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো সেটি মানছেন না। গা ঘেঁষে ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ১০ টাকা দরে চাল নিচ্ছেন অসহায় মানুষগুলো। একাধিকবার নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখার কথা প্রশাসন থেকে মাইকে বলা হলেও কেউ তা মানছেন না। কে আগে চাউল নেবে সেটি তাদের মূল লক্ষ্য ছিল।
এ ব্যাপারে রূপনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা শত চেষ্টা করেও সঠিকভাবে জনগণকে দূরত্ব বজায় রেখে লাইনে দাঁড় করাতে পারছি না। শত বুঝানোর পরও তারা গা ঘেঁষে দাঁড়াচ্ছেন।
এদিকে, সকাল ১০টায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর তফাজ্জল হোসেন টেনু। এসময় তার সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
রূপনগরে ওএমএসের কার্যক্রম মনিটরিং করছেন এলাকার রেশনিং কর্মকর্তা ডি-৭ এর মো. মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, আমরা দূরত্ব বজায় রেখেই কাজ করার চেষ্টা করছি। সকাল ১০টা থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ৬০০ পরিবারকে আমরা এ চাল বিতরণ করবো। আমাদের এখানে তিন মেট্রিক টন চাল রয়েছে। সপ্তাহে তিনদিন এ এলাকায় চাল বিতরণ করা হবে।
তবে, এ কার্যক্রম তদারকি করতে দেখা গেছে মহিলা আওয়ামী লীগের রূপনগর থানার আহ্বায়ক নাসরিন মজিদকে। তিনি সহ বেশ কয়েকজন কর্মী মাস্ক বিতরণ ও লাইনে দাঁড়ানোর বিষয়টি তদারকি করছেন। তিনি বলেন, আমরা জনগণকে সচেতন করতে অসহায় মানুষদের মাস্ক বিতরণ করছি। একই সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি বলে তিনি জানান।
এদিকে সকাল সাড়ে দশটার দিকে এই কার্যক্রম পরিদর্শন করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসমিন মনিরা।
একটি পরিবারের একজনই ৫ কেজি চাল নিতে পারবেন। তবে সেটি অনেকেই মানছেন না। একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে লাইনে দাঁড়িয়ে চাল নিতে দেখা গেছে।


