নিজস্ব প্রতিবেদক ● জোর খাটিয়ে শিক্ষককে আটকে রাখায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শাহুল আফজালকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছে এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি। পাশাপাশি লাঞ্ছিত শিক্ষক ফারহান উদ্দিন আহমদকে নিয়োগপত্রের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে অব্যাহতি দেওয়া যাবে না বলে সুপারিশ করেছে তারা।
কমিটি বলছে, ওই শিক্ষকের অব্যাহতি বা স্থায়ীকরণ হতে হবে অ্যাকাডেমিক গবেষণা, শিক্ষকতা মূল্যায়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি দায়িত্ব পালন, সামাজিক দায়িত্ব পালন ও আত্মবিকাশের ওপর ভিত্তি করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ সাদ আন্দালিবের কাছে গত বুধবার তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন দিয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। ফারহান উদ্দিন আহমেদ গত ৩০ জুলাই রেজিস্ট্রারসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তোলার পর থেকে রাজধানীর মহাখালীতে এ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তাদের উপর হামলা করে নিরাপত্তাকর্মীরা। এ ঘটনা তদন্তে এই কমিটি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কমিটির সদস্যরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক এ এফ এম ইউসূফ হায়দার, অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আফসান চৌধুরী, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাজদিন হাসান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রতিনিধি মাইমুনা সৈয়দ আহমেদ।
শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক আন্দোলনের মুখে গত ৫ অগাস্ট রেজিস্ট্রারকে দীর্ঘমেয়াদি ছুটি পাঠানো হয়। চাকরি ছাড়েন একজন সহকারী রেজিস্ট্রারসহ দুইজন কর্মকর্তা। ওই শিক্ষককে চাকরিতে পুনর্বহালের কথাও জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এখন রেজিস্ট্রারকে সরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি বলছে, রেজিস্ট্রার কোনো ব্যক্তিবিশেষকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আটক করে রাখার উদ্দেশ্যে কাউকে আদেশ দেওয়ার আইনগত অধিকার রাখেন না। আরেকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগ্রাসী ও উস্কানিমূলক শব্দ উচ্চারণের জন্য তাকে তিরস্কার করা উচিত। যেহেতু রেজিস্ট্রার নিজে অথবা অন্য ব্যক্তিবর্গকে আদেশ প্রদানের মাধ্যমে জনাব আহমেদকে অবৈধভাবে আটকে রাখার আইনগত অধিকার রাখেন না, সেহেতু আমরা তার পদত্যাগের সুপারিশ করছি। এ ক্ষেত্রে তিনি অপারগ হলে তাকে আইন অনুসরণপূর্বক অব্যাহতি প্রদান করা উচিত হবে।


