কবি আদিল মাহমুদ-এর দু’টি কবিতা
১.
প্রেমিকা কবিতা বুঝে না
কত কথায় খেলাপ করেছি, শব্দ ডুবিয়েছি মিথ্যাচারে। কত স্বপ্ন আকাশে উড়ে, হারিয়ে গেছে অন্ধকারে। কত দিন দেখি না তোমায়, জমে আছে হাজার কথা। কত বিষ তোমার আড়ালে, বুকের খাঁচায় দিচ্ছে ব্যাথা। কত সম্ভ্রম দিয়েছি বেচে, হিসেব কষার ফাঁকে। কত ভালোবাসা ফেলে এসেছি, গ্রামের অলি-গলির বাঁকে। কত ইচ্ছের মশাল নিভেছে, জ্বলে ওঠার আগে। হাজারো স্বপ্নরা পূর্ণতা পেতে, এখনো রাত জাগে। কত বিচ্ছেদ-দূরত্ব হলে, কবি আবার প্রেমে পড়বে। কত সহজে লিখলে, প্রেমিকা কবিতা বুঝতে পারবে।।
কিন্তু না! প্রেমিকা কবিতা বুঝে না।—
২.
বয়ঃসন্ধিকালের প্রেমিকা
আমার বয়ঃসন্ধিকালের একমাত্র প্রেমিকা—
খুব অল্পতেই খুশি হতো
অতি সামান্য কিছু পেয়েই তুষ্ঠ থাকতো
ফেসিয়াল, ভ্রুপ্লাক, মেনিকিউর-পেডিকিউর ইত্যাদি
ওসব তার সিলেবাসের বাইরে
সে সাধারণ, লাজুক, নিষ্পাপ, মায়াবী ছিল
ম্যাচিং জামা-জুতো, ভ্যানিটি ব্যাগ
মেকআপ, নাকফুল, বাহারি খোঁপা-কাটা, ঝোমকো-টায়রা
ওসব তার জন্য ছিল না
মা বলেছে— ‘সাধারণ মেয়েদের এত সাজতে নেই’
আমার প্রেমিকা এতটা সাধারণ ছিল যে—
কেউ তার প্রশংসা করেনি, তাকে নিয়ে কবিতা লিখেনি
অথবা তার এক চিলতে হাসিতে
কারো বুকে সাইক্লোন-টর্নোডো তোলেনি
মণি-মুক্তা ঝরা অশ্রুজলে কারো মনের বরফ গলেনি
ন্যাকামি করতে সে শিখেনি
তবে আমার কাছে সে— ‘রূপে লক্ষ্মী, গুণে সরস্বতী’
প্রেমিকা হিসেবে দারুণ
একদম নিরেট প্রেমিকা যাকে বলে
একদিন আমি তাকে জিজ্ঞেস করি
তুমি এত সাধারণ কেন?
উত্তর আসলো— ‘আমি নাটোরের বনলতা সেন নই
রামকিঙ্করের আঁকা নিখুঁত নারীচিত্রও না
আমি রবিঠাকুরের সেই ‘সাধারণ মেয়ের’ চাইতে সাধারণ।’
যেখানেই যাও! যেভাবেই থাকো! ভালো থাকো
আমার বয়ঃসন্ধিকালের একমাত্র প্রেমিকা—
আফরুজা ।।


