করোনা বনাম মোকাবেলা | মুহাম্মাদ আইয়ুব
যারা ক্রীড়াঙ্গনের খোঁজ খবর রাখেন তারা নিশ্চয়ই ২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপের বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্টইন্ডিজ আর ২০১৪ ফুটবল বিশ্বকাপের ব্রাজিল বনাম জার্মানির ম্যাচ দুটোর কথা ভুলে যাননি। উভয় ম্যাচেই কিন্তু জয়ী দল দুটো স্বাগতিকদেরকে তাদের মাঠেই তুলোধুনো করে ছেড়ে দিল।
পরাজয়বরণকারী দল দুটোর অবস্থা হয়েছিল ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’। মাঠভর্তি দর্শক নিজেদের, দেশ নিজেদের তারপরও জয় তো দূরের কথা, অবস্থা এমন হল যে, পড়িমরি করে কোনোমতে জীবনটা নিয়ে বাঁচলেই হয়।
পাঠক! আজকের করোনা ইস্যুতে মনে পড়ে গেল অতীতের ঐ দুটো ম্যাচের কথা। করোনা যখন চীনে হানা দিল তখন ইউরোপ আমেরিকা ওদেরকে টিটকারি আর অভিশাপ দেওয়া শুরু করল। আমেরিকার বুড়ো পাগলটা বললো, এটা চীনা ভাইরাস। পৃথিবীর নামীদামী সব সাগর সৈকতে তখনও অতীত সেই নেংটো উদাম লোকদের ভীড়! হযরত নূহের (আঃ) প্লাবন যে দুনিয়াটাকে গিলে ফেলতে ঘাড়ে গরম নিশ্বাস ফেলছে সেদিকে কারো কোন তোয়াক্কা নেই!
প্রযুক্তির নমরূদ আর ফেরাউনি উন্মত্ততায় আচ্ছাদিত আজকের ডিজিটাল দুনিয়াটাকে গোগ্রাসে গিলতে নিলনদ যে তার ভয়াবহ গর্জনে কুলে এসে আছড়ে পড়ছে তাতে কারো কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। অবশেষে করোনা ছড়িয়ে পড়ল বিশ্বময়।
বিশ্বনেতাদের রসে ভরা টইটম্বুর চেহারাগুলো সেকেন্ডেই চুপসে গেল।
শত শত বছরের পরিশ্রমের ফল অতি উন্নত প্রযুক্তি এক অদৃশ্য করোনায় কুপোকাত হয়ে গেল। যাদের তর্জন গর্জনে সবসময় কানটা তব্দা ধরে থাকত তারা মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল। বিশ্বনেতাদের রসে ভরা টইটম্বুর চেহারাগুলো সেকেন্ডেই চুপসে গেল। মোদি আর অমিত বাবু খুব খুশি যে, এখন থেকে মুসাফাহার পরিবর্তে বিশ্বব্যাপী তাদের হাতজোড় নমস্তে প্রসিদ্ধী পাবে।
ও মা! করোনার ঠেলায় এখন তো মোদি অমিত শাহদের টিকিটার দেখা মেলা ও ভার লকডাউন আর লকডাউন! লকডাউন আর লকডাউন!
পাতিনেতা থেকে শুরু করে বিশ্ব নেতা সবার মুখে মোকাবেলা আর মোকাবেলা! (খেলা শুরুর আগে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার বেলায় যা হয় আর কি) যেই করোনার খেল শুরু হয়ে গেল তখনই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হসপিটালে!
সবারই এক দশা। ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’।
বেচারা কানাডার প্রধানমন্ত্রীর চোখে পানি! ইতালির প্রধানমন্ত্রী বলে সমাধান আসমানে! শি জিন পিং, ট্রাম্প, মোদি, মার্কেল, নেতানিয়াহু সব যার যার ঘরে। বিশ্বনেতাদের থেকে শুরু করে অভিনেতা, গায়ক, নর্তক, খেলোয়াড়, পুরুষ নারী মোটকথা সব যার যার গর্তে। সবারই এক দশা। ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’।
এদিকে আমাদের দেশের কিছু রথী মহারথীরা করোনা মোকাবেলা করে সব ছিঁড়ে ফেলবে। পরে দেখা গেল প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তারা-ও গর্তে ঢুকে পড়ল। লও ঠেলা!
মোটকথা ছোট্ট এক অদৃশ্য করোনায় সারা বিশ্ব ধরাশায়ী। তারপরও কি বলবেনা, ‘সব ক্ষমতার উৎস এক আল্লাহ। সব প্রভাব প্রতিপত্তির একছত্র মালিক তিনিই পরাক্রমশালী মহান মাওলা’!!!
তিনি ছাড়া রক্ষা করার মালিক আর কেউ নেই। সুতরাং যদি বাঁচতে চাও, তাহলে এবার সম্মিলিত ভাবে ইউনুস আঃ এর জাতীর মতো আল্লাহর কাছে ভিক্ষা চাও। দয়া ভিক্ষা, জীবন ভিক্ষা, তওবা ভিক্ষা। এ ছাড়া বাঁচার কোন সম্ভাবনা নেই।
মুসলিম বলেই তুমি বেঁচে যাবে? তাহলে যে এখনো গুনাহের উপর অটল আছ? বিগত বছরগুলোর মতো এবছরও রোজা রাখলে না? করোনার সাথে সাথে ঘুর্ণিঝড় আম্পানও তোমাকে শবে কদরের রাতে আল্লাহমুখি করতে পারলোনা? এখনও তুমি সুদ, ঘুষ, মিথ্যা, চুরি, গীবত, গান বাজনা, অশ্লীলতা দেদারসে করে যাচ্ছ?
ও! কতিপয় বাজারি বক্তার বয়ান শুনে ভাবছ তুমি মুসলিম তাই করোনা তোমাকে ধরবে না?! তোমার মতো পাপিষ্ঠ এই যাত্রায় রক্ষা পেলেও মরণের হাত থেকে কিন্তু আদৌ রক্ষা পাচ্ছো না। সুতরাং সময় থাকতে তওবা করে ফিরে এসো। নইলে করোনা, না হয় এর মত কোন গজবে বেঘোরে মারা পড়তে হবে। ভাল মানুষ না হয়ে কি ভাবছ করোনা নিয়ে মোকাবেলা করবে?! সত্যিই?!! ঠিক আছে অপেক্ষায় থাকলাম!!!
লেখক: শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক


