আবাসনশিল্পের সংকট দূর করতে হবে
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : লকডাউনে যখন বিশ্বই মুখ থুবড়ে পড়েছে ঠিক তখন দেশের আবাসানশিল্পের অবস্থা নাজুক হবে তা স্বাভাবিক। দেশের পরিস্থিতি করোনা শনাক্তের দিক থেকে খারাপের দিকেই যাচ্ছে। অর্থনীতির চাকা ঘুরতে শুরু করেছে পরিবহনসহ দোকানপাট খোলে দেওয়ায়। এর সঙ্গে সঙ্গে আবাসনশিল্প নিয়ে তড়িৎ ভাবা উচিত।
যেহেতু রাজধানীর ওপর দেশের মানুষের নির্ভরতা বেড়েই চলেছে, তাই এ শিল্প খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি মধ্যবিত্ত পরিবারও এখন ঢাকায় নিজেদের একটি আবাসের স্বপ্ন দেখে। আর মানুষের এই মৌলিক চাহিদা পূরণ তথা স্বপ্নপূরণে সহায়তা করে যাচ্ছে দেশের আবাসন খাত। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতায় দেশের আবাসন খাত বিকশিত হতে পারেনি। আর এখন এই করোনাকালে মহাসংকটে পড়ে ধুঁকছে ২৫ হাজার কোটি টাকা বার্ষিক আয়ের এই খাত। বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ নিয়ে দুশ্চিন্তায় উদ্যোক্তারা। আর আবাসনের ৪৫৬টি উপখাতের ৩৫ লাখ শ্রমিক বর্তমানে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
আবাসন খাতকে এই সংকট থেকে উদ্ধারের উপায় বের করা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদগণ। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা মনে করেন, করোনাকালে অর্থনৈতিক সংকটে কালো টাকা সরকারের রাজস্বের একটি বড় উৎস হতে পারে। কর না দিয়ে ঘরে লুকিয়ে রাখা টাকা সরকার অনুমোদিত জমি ও ফ্ল্যাট প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, করোনাকালের এই অর্থনৈতিক সংকটে কালো টাকা ঘরে লুকিয়ে না রেখে সরকার অনুমোদিত জমি ও ফ্ল্যাট প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হলে বাঁচবে অর্থনীতি। কেমন করে তা সম্ভব, সে পথও বলে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
তাঁরা বলছেন, কালো টাকার উৎস সম্পর্কে কাউকে প্রশ্ন করা হবে না-এমন আশ্বস্ত করা গেলে অনেকে আগ্রহী হবেন। আবার উৎস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে না-এমন আশ্বস্ত করে বিধান যুক্ত করা হলে অনেকে এগিয়ে আসবেন বলেও মনে করেন তাঁরা। তাঁদের মতে, সরকারি কোষাগারে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে কালো টাকায় নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে প্রশ্নহীন বিনিয়োগের সুযোগ থাকলে আবাসনের প্লট ও ফ্ল্যাটে বিনিয়োগ বাড়বে। আর সংকটকালীন সরকার রাজস্ব পেয়ে যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, করোনার এই সংকটে নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে মানুষের মৌলিক চাহিদা বাসস্থান নিশ্চিতে সহায়ক আবাসন খাতে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হলে দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আবাসন খাতের বাধা দূর করতে সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।


