বেফাকের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফ বরখাস্ত হচ্ছেন!

বেফাকের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফ বরখাস্ত হচ্ছেন!

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশজুড়ে শুধু দুর্নীতি আর দুর্নীতি। একটার পর একটা কেলেঙ্কারি ফাঁস হচ্ছে করোনার এই দুর্যোগকালে। এবার দুর্নীতির কবলে আক্রান্ত হল দেশের বৃহৎ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া।

কেন্দ্রীয় পরীক্ষার মেধা তালিকা নিয়ে সিরিয়াল জালিয়াতি, পরীক্ষার মারকাজ নিয়ে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, স্বজন-প্রীতি, মুরব্বি আলেমদের নামে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য এবং সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে তিনি বরখাস্ত হতে পারেন বলে জানা গেছে একাধিক সূত্রে।

বেফাক নেতৃবৃন্দের সম্প্রতি ফাঁস হওয়া ফোনালাপের ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন সোর্স থেকে মাওলানা আবু ইউসুফের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ আসতে থাকে। ক্রমশ বাড়তে থাকা এই চাপের মুখে অনির্দিষ্টকালের জন্য তিনি ছুটি চান বলেও জানা গেছে। এমনকি বেফাক মহাসচিবও তার পক্ষে সুপারিশ করেন বলে জানা গেছে। তবে মহাপরিচালক তা মঞ্জুর করেননি।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সাম্প্রতিক ফোনালাপ বিষয়ে বেফাকের খাস কমিটির মিটিং হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে আবু ইউসুফসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র।।

মাওলানা আবু ইউসুফের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ নিয়ে অনেক আগ থেকেই একটি সাব কমিটি তদন্ত করছে। অবশ্য বেফাকের সব অনিয়মের বিরুদ্ধেই কাজ করছে ১০ সদস্যের এই কমিটি। তদন্ত কমিটিতে আছেন-মুফতি ওয়াক্কাস, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা নুরুল ইসলাম, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা নুরুল আমিন, মাওলানা মনিরুজ্জামান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, বরাবরই তদন্ত কমিটির কাজ ব্যাহত করা হয়েছে। যথানিয়মে তদন্ত আগাতে দেয়া হয়নি। জানা গেছে, এ যাবৎ তদন্ত কমিটির মাত্র দুটি মিটিং হয়েছে। তারা বেফাকের সকল বিভাগের অনিয়মের তদন্ত করছেন। বিশেষ করে-প্রকাশনা বিভাগ, পরিদর্শন বিভাগ, পরীক্ষা বিভাগ এবং হিসাব বিভাগের অনিয়ম খোঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।

বেশ কিছু অভিযোগের কারণেই মাঠে নেমেছ এই তদন্ত কমিটি। অভিযোগগুলো হচ্ছে-প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষার কাগজ কেনায় অনিয়ম, প্রকাশনা বিভাগে স্বজন- প্রীতি ইত্যাদি।

তদন্ত কমিটির একজন সিনিয়র সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা যথাযথভাবে তদন্ত করেতে পারিনি। সঠিক তদন্ত হলে ঘটনা এ পর্যন্ত গড়াতো না।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফসহ অভিযুক্তদের কী শাস্তি হতে পারে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সদস্য বলেছেন, একা কোনো সিদ্ধান্তের কথা বলতে পারবো না। তবে আগামীকাল (১৪ জুলাই) মঙ্গলবার বেফাকের খাস কমিটির বৈঠক আছে। সেখানে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফকে বরখাস্তসহ যেকোনো কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বেফাক সূত্র জানিয়েছে, মাওলানা আবু ইউসুফ গতকাল রাতে অফিস থেকে চলে যান। অনেকে ধারণা করেছিল, তিনি আর ফিরবেন না। তবে সোমবার তিনি অফিস করেছেন। আগামীকালের মিটিংয়ে তাকে ডাকা হতে পারে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফোনালাপ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। এসব ফোনালাপসহ এ পর্যন্ত বেফাকে হওয়া সব অনিয়মের বিচার দাবি করেছেন কওমি মাদরাসা সংশ্লিষ্টরা।

তাদের দাবি, শুধু আবু ইউসুফ নয়, মহাসচিবসহ যারা নানা অপকর্মে জড়িত তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। বেফাককে একটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে তারা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

/এএ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *