বানভাসিদের পাশে দাঁড়ান

বানভাসিদের পাশে দাঁড়ান

বন্যার ছোবল

বানভাসিদের পাশে দাঁড়ান

সুনামগঞ্জ থেকে হবিগঞ্জের আজমীরীগঞ্জ। উত্তরাঞ্চল বন্যার পানিতে যেনো ভাসছে। অসহায় হয়ে পড়েছে বানভাসিরা। এখনই তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। বন্যার পানি কবে নামবে তা এখনো কিছুই বলা যাচ্ছে না। বন্যার্তদের যা ত্রাণ দেয়া হচ্ছে তা খুবই অপ্রতুল। বানভাসিদের জানমালের সংরক্ষণে প্রশাসনের জোরালো প্রয়োজন। গতকাল গণমাধ্যমে প্রকাশিত শীর্ষ সংবাদের শিরোনাম ছিলো, ‘পানিবন্দি মানুষের হাহাকার, বাড়ছে নদীভাঙ্গন’। বিভিন্ন জেলায় বন্যার অবনতি। বন্যার ধকল এ বছর দেশবাসীর জন্য মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

একদিকে করোনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। বন্যার কারণে তারা যে আরও নাজুক অবস্থার শিকার হচ্ছে তা দিবালোকের মতো সত্য। ইতোমধ্যে এক দফা বন্যার ক্ষত না শুকাতেই প্লাবিত হচ্ছে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলো। একদিকে ভারি বৃষ্টিপাত, অন্যদিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা-ধরলা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বাড়তে শুরু করেছে। উজানের ঢলে ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা। সিলেটের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা, যদুকাটা ও গুড় নদের পানি চারটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের ২ হাজার ৮৬৬টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা এবং জামালপুর, ফরিদপুর, সিলেটসহ ১২ জেলায় ইতোমধ্যে বন্যা ছোবল হেনেছে।

সাধারণত ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা ও মেঘনার পানি বাড়লে দেশের ২০ থেকে ২৪টি জেলায় বন্যা দেখা দেয়। এবার আরও বেশকিছু জেলায় বন্যার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বন্যার কারণে ইতোমধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে নিত্যপণ্যের দাম। বিশেষ করে সবজির দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। গরিব মানুষের জন্য যা বিড়ম্বনা হয়ে দেখা দিয়েছে। এমনিতেই করোনার কারণে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙে পড়েছে। সবজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা ত্রিশঙ্কু অবস্থার শিকার। আমরা গভীর বেদনার সঙ্গে খবরে পড়ছি, সবজির খেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকও চোখে শর্ষে ফুল দেখছে। কৃষকের আয় রোজগারে এসেছে বড়ধরনের ভাটা।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিতদের ত্রাণকাজে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ নির্দেশ যেনো দ্রুত কার্যকরের মুখ দেখে। করোনাকালের এ বন্যরা আঘাত দেশের মানুষের জন্য খুবই কঠিন কাজ। আমরা আশা করবো, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন বানভাসিদের সমস্যা লাঘবে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালাবেন।

– মাসউদুল কাদির

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *