পোশাকশিল্পের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চেষ্টা অব্যাহত রাখুন

পোশাকশিল্পের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চেষ্টা অব্যাহত রাখুন

পোশাকশিল্পের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চেষ্টা অব্যাহত রাখুন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :  দেশের তৈরি পোশাক খাতে আবারও সুসংবাদ। লকডাউনে এমন একটি সুসংবাদের জন্য দেশবাসীই অপেক্ষা করেন। দেশের অর্থনীতি যে পোশাকশিল্পের উপর নির্ভর করে সে শিল্পের সুসংবাদ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। গত মার্চ-এপ্রিলে বাতিল ও স্থগিত হওয়া রপ্তানি আদেশের ৮০ শতাংশই আবার ফিরে এসেছে।

বিদেশি ক্রেতারা রপ্তানি আদেশ দিচ্ছেন। একইসঙ্গে বকেয়া পরিশোধেও এগিয়ে এসেছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এর ফলে করোনা ভাইরাস মহামারীর ধাক্কা কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে দেশের তৈরি পোশাক খাত। এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, এটা অবশ্যই আমাদের জন্য একটা স্বস্তির সংবাদ। ফলে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

গত এক দশকে বিশ্বে যে কয়েকটি দেশের রপ্তানি আয় খুব দ্রুত বেড়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। গড় হিসাবে এক দশক ধরে দেশের রপ্তানি আয়ে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। অগ্রসরমাণ অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়, ওপরে আছে কেবল ভিয়েতনাম। রপ্তানিতে বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রার অগ্রভাগে পোশাক খাত। পোশাক রপ্তানিতে একক দেশ হিসেবে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীতে পোশাক রপ্তানি চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছিল। ইউরোপ-আমেরিকার ৩ শতাধিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ৩১৫ কোটি ডলারের রপ্তানি আদেশ স্থগিত করে। কঠিন সংকটে পড়া পোশাক রপ্তানি খাত আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মার্চ-এপ্রিলে বাতিল ও স্থগিত হওয়া রপ্তানি আদেশের ৮০ শতাংশই আবার ফিরে এসেছে। বিদেশি ক্রেতারা রপ্তানি আদেশ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে বকেয়া পরিশোধেও এগিয়ে আসছেন। এটা আমাদের জন্য অবশ্যই ইতিবাচক খবর। সারা দুনিয়ার মতো বাংলাদেশেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলতে শুরু করেছে শিল্পকারখানা।

বন্ধ আকাশপথ ফের খুলতে শুরু করেছে। ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোয় ধীরে ধীরে বাংলাদেশের রপ্তানির বাজার স্বাভাবিক হচ্ছে। করোনার কারণে সদ্যসমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে ৬৮৬ কোটি ডলার বা প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকা। অনেকে বলছেন, এ বছর আদেশ দিলেও তারা কোনো পণ্য নেবেন না।

পণ্য নেবেন আগামী বছর। এটাকেও বর্তমান পরিস্থিতিতে রপ্তানি খাতের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। করোনাকালে যা হয়েছে স্বাধীনতার পর রপ্তানিতে এত বেশি ধস কখনই ঘটেনি। আমরা মনে করি, করোনা-পরবর্তী সময়ে সারা বিশ্বে নতুন করে কর্মকা- শুরু হলে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়বে এবং এতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *