আয়ারল্যান্ড স্টেডিয়ামে ঈদের নামাজ

আয়ারল্যান্ড স্টেডিয়ামে ঈদের নামাজ

আয়ারল্যান্ড স্টেডিয়ামে ঈদের নামাজ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী সীমিত পরিসরে মসজিদে কিংবা বাসা বাড়িতে ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে উন্মুক্ত পরিবেশে নামাজ আদায়ের বিধিনিষেধ থাকলেও আইরিশের মুসলিমরা রোদ ঝলমলে উন্মুক্ত পরিবেশে ডাবলিনের স্থানীয় ক্রোক পার্ক স্টেডিয়ামে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। খবর আল জাজিরা।

স্থানীয় মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য স্টেডিয়ামের দরজা খুলে দেয় আয়ারল্যান্ডের ঐতিহাসিক ক্রোক পার্ক স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ। করোনা ভাইরাসের লকডাউনের পর স্টেডিয়ামে ঈদের নামাজের মাধ্যমে এই প্রথম বড় কোনো জামায়েতের আয়োজন করা হলো।

ইউরোপের এ দেশটিতে ঈদের দিন স্টেডিয়ামে ৫০০ লোক অংশ নেবার কথা ছিল। শেষ পর্যন্ত ২০০ জন মুসল্লি ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ করে। সামাজিক ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেই স্টেডিয়ামজুড়ে নামাজ আদায় করেন মুসলিমরা।

স্টেডিয়ামে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের অনেকেই নিজেদের ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে আসেন। মাঠজুড়ে শিশুরা ঘোরাঘুরি করছিল। আবার কেউ কেউ আয়ারল্যান্ডের পতাকা উড়াচ্ছিল।

ঈদুল আজহার এ দিনটি তাদের কাছে ছিল আনন্দের। এ দিন তারা নিজেদের দু’টি পরিচয় তুলে ধরেন। একদিকে তারা মুসলিম। অন্যদিকে তারা গর্বিত আইরিশ।

স্থানীয় ক্রোক পার্ক স্টেডিয়ামটি ভিন্ন কারণে ঐতিহাসিক স্থান। এ স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণেই আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা সংগ্রামে সবচেয়ে বড় হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছিল। একটি খেলা চলাকালে ব্লাডি সানডে হত্যাযজ্ঞে ১৪ জনকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ।

আয়ারল্যান্ডের এ স্টেডিয়ামটিকে স্বাধীনতার পরও নতুন ক্যাথলিক জাতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হতো। ক্যারে বলেন, ১৯৭০ এর দশক পর্যন্ত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ খেলার আগে বিশপ বল নিক্ষেপ করতেন।

এদিকে গত শুক্রবার এ স্টেডিয়ামে ঈদের নামাজ আয়োজনের ফলে ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বীদের একাংশ বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভকারীদের অনেকেই ইসলামবিরোধী প্রতীকসহ হাজির হয়েছিলেন। পাশাপাশি স্টেডিয়ামের বাইরে বর্ণবাদবিরোধী পাল্টা বিক্ষোভও হয়েছে।

স্টেডিয়ামের বাইরে অল্প সংখ্যক বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি ছাড়াও ঈদের নামাজ আয়োজন বন্ধের জন্য একটি অনলাইন পিটিশনে ২৪ হাজার স্বাক্ষর পড়ে। ঈদের জামাআত আয়োজনকে খ্রিস্টান সংস্কৃতির উপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে একটি অভিবাসীবিরোধী অ্যাক্টিভিস্টদের সংগঠন এই পিটিশন তৈরি করে।

ভুল খবর প্রকাশ করে এ উত্তেজনা তৈরি করা হয়। ঈদের জামাআত আয়োজনের বিষয়ে প্রথম ঘোষণার পর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছিল, কুরবানির অংশ হিসেবে স্টেডিয়ামে পশু জবাই হবে। তবে দ্রুতই এই দাবি খারিজ হয়ে যায়।

তবে ঈদের জামাআতে উপস্থিত হওয়া মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলেছেন আয়ারল্যান্ডে ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বীদের সর্বোচ্চ নেতা ডিয়ারমুইড মার্টিন। এসময় তার সঙ্গে অ্যাংলিকান ও ইহুদিদের প্রতিনিধিও ছিলেন। তারা স্টেডিয়ামে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ ও উৎসব উদযাপনের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য ২০১৬ সালে আয়ারল্যান্ডের আদমশুমারি অনুসারে, দেশটিতে ৬৩ হাজার মুসলিম বাস করেন। ১৯৯১ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪ হাজারের কম। ধারণা করা হয় বর্তমানে এ সংখ্যা এক লাখের বেশি হতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *