আহ প্রিয় আবু সুফিয়ান যাকী রহ…
সারওয়ার আলম ভূইয়া : রাজধানীর দারুল কোরআন শেখ জনুরুদ্দীন রহ. চৌধুরীপাড়া মাদরাসায় হযরত আবু সুফিয়ান যাকী রহ. যখন শিক্ষক আমি তখন ছাত্র। ছাত্র-শিক্ষক লাজনার মিটিং করতাম রামপুরা যেয়ে। এক মিটিংয়ে হুজুর বল্লেন, তোমাকে যদি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ লাজনা করার কারণে মাদরাসা থেকে বিদায় করে দেয়, আমি তোমার পক্ষে সুপারিশ করতে যাব না। এটাই লাজনার প্রশিক্ষণ।
নিজের লাভের জন্য লাজনা করছো। শত ভাগ গোপনীয়তার সাথে করবে। সাহিত্য মজলিস করতে যাবে ঠিকই কিন্তু প্রকাশ্যে নয়। অনেক শিক্ষকই চায় না লাজনার মাধ্যমে ছাত্ররা প্রশিক্ষিত হোক।
লাজনার কাজ করার পদ্ধতি এভাবে হুজুর শিখিয়ে দিতেন। আবু সুফিয়ান যাকী সাহেব হুজুর অসম্ভব বিচক্ষণ ছিলেন। লাজনা যখন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করে, হুজুর এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করতেন। প্রেসক্লাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমিও উপস্থিত হয়েছিলাম। সে সমাবেশের প্রচারপত্রটি এত প্রাঞ্জল ভাষায় লিখা হয়েছিল যে, আমি প্রায় পুরোটিই মুখস্ত করে ফেলেছিলাম।
শহিদবাগ ইসলামী গবেষণা পরিষদে, বাইতুল মোকাররমে কোন প্রতিবাদ সমাবেশ ডাকলে, আমাদেরকে শহিদবাগে ডেকে নিয়ে মতবিনিময় করতেন। যে কোন সমাবেশে হুজুর বক্তৃতা দিতেন একজন প্রাজ্ঞ রাজনৈতিক নেতার মতো হাত উঁচিয়ে। কণ্ঠও ছিল চমৎকার। সেই
জ্বালাময়ী বক্তৃতা আজও যেন কানে ধ্বনিত হয়।
ঐতিহাসিক পথযাত্রার বিভিন্ন জেলার সমাবেশগুলোর সফরকালে আমি অধমকে ১ যুগ সাক্ষাত বিরতীর প্রসঙ্গ টেনে নিজেকে পরিচিতি করতে চাইলে হুজুর বলেন, পুরনো স্মৃতি সব আমার মনে আছে। তোমার চেহারাও মনে আছে। লাজনার প্রথম দিকের কর্মীদের কি কখনো ভুলে যাওয়া সম্ভব।
কিন্তু প্রথম দিকের, প্রথম সারীর সব রাহনুমা আকাবিরকেই আমরা হারিয়ে ফেলছি দিনকে দিন। আল্লামা ইসহাক ফরিদী রহ., মাওলানা আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইয়াহইয়া রহ.,মুফতি আবদুল বাতেনসহ আরো অনেককেই।
আহ….. আবু সুফিয়ান যাকী সাহেব হুজুরসহ সব্বাইকে আল্লাহ জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করুক।
লেখক : লাজনাতুত তালাবার কর্মী


