বিদগ্ধ আলেম আল্লামা মনিরুজ্জামান সিরাজীর ইন্তেকাল

বিদগ্ধ আলেম আল্লামা মনিরুজ্জামান সিরাজীর ইন্তেকাল

বিদগ্ধ আলেম আল্লামা মনিরুজ্জামান সিরাজীর ইন্তেকাল

আমিনুল ইসলাম কাসেমী : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিদগ্ধ আল্লামা মনিরুজ্জামান সিরাজী আলেমেদ্বীন দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেন। ( ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন) তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ভাদুঘর মাদ্রাসার মুহতামিম ছিলেন। ছিলেন একজন খ্যাতিমান আলেম। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বড় হুজুর নামে তাঁকে সবাই চিনত এবং জানত।

মুলতঃ তাঁর পিতা মাওলানা সিরাজুল ইসলাম রহ. যিনি প্রায় অর্ধশতাব্দী যাবত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বড় হুজুর নামে পরিচিত ছিলেন। ফখরে বাঙ্গাল তাজুল ইসলামের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সাথী ছিলেন তিনি। জামেয়া ইউনুসিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে সিরাজুল ইসলাম সেখানকার সুপরিচিত অধ্যাপক ছিলেন। সুদীর্ঘ হায়াত পেয়েছিলেন তিনি। অনেক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। জামেয়া ইউনুসিয়া থেকে অবসর নিয়ে নিজ এলাকা ভাদুঘরে একটি বৃহৎ দ্বীনি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

মাওলানা সিরাজুল ইসলামই মূলতঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে বড় হুজুর নামে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। সিরাজুল ইসলাম রহ ইন্তিকালের পরে তাঁর সাহেবজাদা মাওলানা মনিরুজ্জামান সিরাজী সাহেব বড় হুজুর এর খ্যাতি পান তিনি। বর্তমানে ব্রাম্মণবাড়িয়ার বড় হুজুর মানেই মনিরুজ্জামান সিরাজী সাহেবকেই বুঝত।

মনিরুজ্জামান সিরাজীকে চিনি নব্বই দশক থেকে। সম্ভবত তিনি ১৯৯২ সনের দিকে ঢাকা মালিবাগ মাদ্রাসার মোহতামিম এবং শায়খুল হাদীস পদে যোগদান করেন। ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক কারণে তাঁর জামেয়া শারইয়্যাহ মালিবাগে থাকা হয় নি। মাত্র দুই / তিন মাসের মাথায় তিনি নিজ এলাকাতে ফিরে যান।

তীক্ষ্ন মেধার অধিকারী ছিলেন তিনি। অল্প সময়ে তাঁকে দেখলেও তবে তাঁর ইলমী যোগ্যতা ছিল প্রশংসনীয়। একজন উঁচু মানের মুহাদ্দিস ছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া মানেই আলেম- উলামার কেন্দ্রস্থল। ওলামাদের মিলনকেন্দ্র। আমার মনেহয় ব্রাম্মণবাড়িয়ার মাটি আলেম তৈরীর উর্বরভুমি। কেননা, আমাদের বাংলাদেশের খ্যাতিমান বহু আলেম ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে জন্মগ্রহণ করেছেন।

ফখরে বাঙ্গাল তাজুল ইসলাম রহ, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম রহ,, ( বড় হুজুর) মুফতী ফজলুল হক আমিনী রহ, মাওলানা মনিরুজ্জামান রহ, ( বড় হুজুর) মুফতী নুরুল্লাহ সাহেব রহ, মাওলানা যোবায়ের আনসারী রহ, এরকম শত শত উঁচু মানের আলেম তৈরী হয়েছে সেখানে। যুগ যুগ ধরে তাঁরা দ্বীন ইসলামের মশাল প্রজ্জ্বলন করে যাচ্ছেন। তাঁদের অবদান দেশ ও জাতির পরতে পরতে।

যেমন ফখরে বাঙ্গাল তাজুল ইসলামের খ্যাতি ছিল বিশ্বময়। তাঁর মেধা- জ্ঞান- গরিমায় বিশ্বের আলেম সমাজের মাঝে তাঁর সুনাম- সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল।অত্যান্ত ধী- শক্তির অধিকারী ছিলেন তিনি। তাঁর অবদান, তাঁর বর্ণঢ্য জীবনকথা আজো মানুষের হৃদয়ে স্থান করে আছে।

এমনি বিবাড়িয়ার সন্তান, মুফতি ফজলুল হক আমিনী রহ,। যিনি বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণের স্পন্দন ছিলেন। এদেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া সবাই তাঁকে চিনত। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর অপরিসীম অবদান রয়েছে।

মুফতী নুরুল্লাহ রহ, পুরো বাংলাদেশের আলেম সমাজের মধ্যমণি ছিলেন। তুখোড় মেধার অধিকারী এক মহান ব্যক্তিত্ব।
মাওলানা যোবায়ের আনসারী রহ, একজন খ্যাতিমান ওয়ায়েজ। দেশব্যাপি তাঁর ঈর্ষনীয় জনপ্রিয়তা ছিল। সুললিত কন্ঠে তাঁর বয়ানগুলো মানুষের হৃদয় কেড়ে নিত। তিনি বিগত রমজানের আগে ইন্তেকাল করেন।

আরো ছিলেন, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সাহেব। যিনি বড় হুজুর এবং মুফাচ্ছির নামে খ্যাত। তাঁর ইন্তিকালের পরে মাওলানা মনিরুজ্জামান সাহেব বড় হুজুরের খ্যাতি লাভ করেছিলেন। আজ তাঁর ইন্তেকাল হয়ে গেল। বিদায় নিলেন আমাদের থেকে।
জনপ্রিয় একজন আলেমেদ্বীন। মানুষের যেন ঢল নেমেছে আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে। লাখো মানুষের অশ্রুতে তিনি চলে গেলেন।
এভাবে খালি হয়ে যাচ্ছে দেশটা। খালি হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। আমরা মুরুব্বী শুণ্য হচ্ছি।

আয় আল্লাহ! আমাদের মুরুব্বী সকল আলেমদের তুমি জান্নাতুল ফিরদাউসে সুউচ্চ মাকাম দান কর। আমিন।

লেখক : শিক্ষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *