ডাক দিয়ে যাই । লাবীব আব্দুল্লাহ
কওমী মাদরাসা : চিন্তার পুনর্গঠন
কওমী মাদরাসার কিতাবগুলো আধুনিকায়ণ করে আরও সহজ ভাষায় লেখা সময়ের দাবি৷ নাহু সরফ বালাগাত, মান্তেক, উসূলে ফিকহ, উসুলে তাফসীরসহ অন্যান্য কিতাব আরও সহজ ভাষায় রচিত হতে পারে৷ ফনগুলো ঠিক রেখে এই ফনে রচিত আধুনিক যুগের কিতাব পাঠ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে৷ প্রাথমিক শ্রেণিগুলোতে উর্দু ফার্সি আরবী ইংরেজি বাংলা এই পঞ্চভাষা কতটা যৌক্তিক? মাতৃভাষা ও আরবী ভাষায় শুরু হতে পারে দীনি শিক্ষার প্রথম পর্যায়৷ তাছাড়া আধুনিক ভাষা শিক্ষার সহজ পদ্ধিতগুলো গ্রহণ করতে সমস্যা কোথায়? আরবী ভাষার চার দক্ষতা অর্জন ছাড়া ফনের উচ্চস্তরের কিতাব পড়তে দেওয়া ততটা উপকারী পথ নয় মনে হয়৷ শরাহ, তালখিস বা আরবী উর্দু মিশ্রিত আরবী আদবের কিতাবে ছাত্রদের ততটা ফায়দা হচ্ছে না৷ দরসে নিজামীর কিতাবগুলো পুনঃবিন্যাস প্রয়োজন৷ শুধু ছাপায় আধুনিকায়ণ যথেষ্ট নয়৷ পাঠ্য কিতাব হবে বয়সের দিকে লক্ষ করে৷ তালেবে ইলমদের মারহালা ও বয়সের প্রতি লক্ষ্য না করে যেকোনো কিতাব পাঠ্য করলে তা পাঠের আনন্দ দিবে না৷
ক্লাসরুমের পরিবেশ, আবাসিক পরিবেশ, প্রয়োজনীয় বিনোদনের উন্নত পরিবেশ না করলে শিক্ষার মান ততটা উন্নত করা সম্ভব নয়৷ তালেবে ইলম ফেবু ও নেটের আগ্রাসনের শিকার৷ তালেবে ইলমদের উন্নত পরিবেশে ভালো মানের পাঠাগারের ব্যবস্থা করা ব্যতীত তাদেরকে পাঠমুখী করা প্রায় অসম্ভব৷ ইবারত পড়ে তরজমা ও তাশরিহ করার পুরনো পদ্ধতিরও পুনঃবিবেচনা করা যেতে পারে৷ তালেবে ইলম শুধু শ্রোুতা হয়ে বসে থাকলে অলস হয়ে যায়৷ তাদেরকে অংশগ্রহণমূলক দরস দিতে হবে৷ বাড়ির কাজ এবং লেখালেখির কাজ দিয়ে তা পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষণ করলে তালেবে ইলমদের যোগ্যতা বৃদ্ধি হবে৷
তাছাড়া শরীয়াহ উলূমের সঙ্গে প্রয়োজণীয় জ্ঞান বিজ্ঞানের ধারণা না দিলে আধুনিক সমাজে বড়ধরনের অবদান রাখা কঠিন৷ বর্তমান পৃথিবীতে জ্ঞানের নানা শাখা প্রশাখা নতুন করে উদ্ভাবিত হয়েছে সময়ের তালেবে ইলমেরদের উলূমে শরীয়াহর সঙ্গে কোনো একটি বিষয়ে তাখাসসুস পর্যায়ে ইলম থাকলে পৃথিবী উপকৃত হবে৷ উপকৃত হবে মুসলিম উম্মাহ৷ তাছাড়া সীমিত সময়ে সীমিত কিছু কিতাব পড়ে নিজেকে আলেম বা আল্লামা বা শায়েখ মনে করার প্রবণতা বাড়ছে৷
লকব ও শব্দ থাকলেও হাকিকত ভিন্ন৷ দীর্ঘ সাধনার বিষয় আলেম হওয়া৷ ফারেগ হলেই আলেম এই মনোভাব সবার জন্য যথাযথ নয়৷
ইবনে খালদুন ইনস্টিটিউট ময়মনসিংহ থেকে


