ইতিহাস স্রষ্টা বঙ্গবন্ধু

ইতিহাস স্রষ্টা বঙ্গবন্ধু

ইতিহাস স্রষ্টা বঙ্গবন্ধু

পাথেয় টোয়োন্টিফোর ডটকম : ‘ইতিহাসের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ যে ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছেন তা একাধারে তার এবং বাঙালি জাতির অমর সৃষ্টি। এই সৃষ্টির মূল নির্যাস হলো, নতুন বৈশিষ্ট্য ও চরিত্রসম্পন্ন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ। একটি দেশের ‘ইতিহাস’ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজন হয় ‘ঐতিহাসিক উপাদান’। জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এই চার মূলনীতিকে ভিত্তি করে নতুন রাষ্ট্রের জন্মের প্রধান স্থপতি হতে পারাটাই ছিল সেই ঐতিহাসিক উপাদান, যার কারণে বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠেছেন ‘ইতিহাসের স্রষ্টা। তাই বলা যায়, ইতিহাসের মহানায়ক ও স্রষ্টা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার হলো মহান মুক্তিযুদ্ধের এসব মূল আদর্শিক ভিত্তি।

তিন দশকের রাজনৈতিক জীবনে তার চিন্তাধারা-জীবন-দর্শনেও উত্তোরণ ঘটেছিল। শুরুটা ছিল পাকিস্তান আন্দোলনের ছাত্রকর্মী হিসেবে। কিন্তু সে সময়ও মুসলিম লীগের মধ্যে উদারনৈতিক ও কিছুটা প্রগতিমুখি যে প্রবণতা ও অংশ ছিল, বঙ্গবন্ধু ছিলেন সেই আবুল হাশেম- সোহরাওয়ার্দী সাহেবের অনুগামী। তিনি একইসঙ্গে ছিলেন নেতাজী সুভাষ বোসের ভক্ত। ইতিহাসের শত্রুরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে তার সৃষ্ট ‘ইতিহাসকে’ উল্টিয়ে দিতে। ‘ইতিহাস’ সৃষ্টিতে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেনÑ এই অপরাধেই ইতিহাসের নায়ককে পঁচাত্তরের ঘাতকরা তাকে হত্যা করে প্রতিশোধ নিয়েছে। দেশকে পাকিস্তানি ধারার উল্টোপথে ফিরিয়ে নিয়েছে। কিন্তু কালের চাকাকে চিরদিন উল্টোপথে চালানো যায় না। ইতিহাসের নিয়মেই ‘ইতিহাস’ আবার নতুন শক্তিতে একদিন না একদিন পুনর্জাগরিত হবে। তাই জোর দিয়ে এ কথাই বলবো, ‘ইতিহাসের’ সেই অমূল্য সম্পদ তথা মুক্তিযুদ্ধের ‘চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতি’ অবিকৃতভাবে পুনরুজ্জীবিত করাটিই হলো ‘ইতিহাসের নায়কের’ প্রতি আজ জাতির সবচেয়ে বড় দায় ও কর্তব্য।

রাজনৈতিক-সামাজিক পরিম-লে এক ক্রমঅগ্রসরমান বিবর্তন ও উত্তরণের ধারার মধ্য দিয়েই বঙ্গবন্ধু ‘ইতিহাসের মহানায়কের’ অবস্থানে উত্থান ঘটেছিল। তার ভাবনা-চিন্তা-আদর্শবোধ-জীবন-দর্শন ইত্যাদি বিভিন্ন আত্ম-পরিচয়ের মৌলিক উপাদানগুলো ক্রমান্বয়ে বিকশিত হয়েছিল।

রাজনীতির অনেক আঁকা-বাঁকা পথে বঙ্গবন্ধুকে চলতে হয়েছে। বাস্তবতার প্রতিকূলতার মুখে কখনো কখনো তাকে সাময়িক আপসও করতে হয়েছে। পথ চলতে গিয়ে ভুল-ত্রুটিও তার হয়েছে। কিন্তু তার সার্বিক বিবর্তনের স্বাভাবিক গতি ছিল সামনের দিকে, প্রগতি অভিমুখে। তার ক্ষেত্রে এমনটি স্বাভাবিকভাবে ঘটতে পেরেছিল। এ কারণে যে, তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের লোক, ছিলেন জনতার নেতা। রাজনীতির তাত্ত্বিত প-িত তিনি কখনই ছিলেন না। একজন সর্বজ্ঞানী স্কলার অথবা কোনো এক বা একাধিক বিষয়ে অসাধারণ দক্ষতাসম্পন্ন একজন বিশেষজ্ঞও তিনি ছিলেন না। কিন্তু তিনি ছিলেন ‘অসাধারণ প্রজ্ঞাবান’ নেতা। তিনি ছিলেন সর্বসাধারণের লোক। মানুষের কাছ থেকে তিনি গ্রহণ করতে পারতেন, বিচার-বিবেচনার রসদ সঞ্চয় করতে পারতেন। ভরসা করতেন মানুষের ওপরে। মানুষের ওপর, জনতার ওপর তার এহেন অপার ভালোবাসা ও নৈকট্যই তার ক্রমবিবর্তনের প্রগতিমুখি হওয়াটাকে স্বাভাবিক ও অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছিল। বঙ্গবন্ধুর মতো ক্ষণজন্মা গণমানুষের নেতা এদেশে দ্বিতীয়টি আর জন্ম নেয়নি। আর কোনোদিন জন্ম নেবে কিনা তা ইতিহাসই জানে। তার মতো নেতা থাকলে আজ জাতিকে কপট রাজনীতির আবর্তে পড়তে হতো না।
দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির বিস্তার ঘটতো না। শোকাবহ আগস্টে আমাদের শপথ হোকÑ বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বাংলাদেশের বিনির্মাণ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *