৮ মাসে মারা গেছেন ৭ এমপি

৮ মাসে মারা গেছেন ৭ এমপি

৮ মাসে মারা গেছেন ৭ এমপি

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বর্তমান সংসদের সময় সংসদ সদস্য মারা যাওয়ার রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের (৩০ ডিসেম্বর) পর এ পর্যন্ত ১৩ সংসদ সদস্য মারা গেছেন। অথচ গত সংসদের পাঁচ বছরে বিভিন্ন দলের ১৫ সংসদ সদস্য মারা যান। চলতি সংসদে সাবেক এক মন্ত্রীসহ দুইজন করোনায় মারা গেছেন। তবে করোনাকাল হওয়ায় পাঁচ এমপির সংসদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি।

জানা গেছে, গত বছর মারা গেছেন ছয়জন সংসদ সদস্য। আর চলতি বছরের আট মাসে মারা গেছেন আরও সাতজন। মারা যাওয়া দুইজন ছাড়া সবাই আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য।

সংসদের আইন শাখা-২ সূত্র জানায়, নির্বাচনের ঠিক পরই আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম (কিশোরগঞ্জ-১) মারা যান। তিনি সংসদের একটি অধিবেশনেও যোগ দিতে পারেনি। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মারা যান তিনি। এমনকি এমপি হিসেবে শপথও নিতে পারেননি সৈয়দ আশরাফ। তবে এমপি হিসেবে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন।

একই বছরের ৯ জুলাই আওয়ামী লীগের রুশেমা বেগম (মহিলা আসন-৩৪), ১৪ জুলাই জাতীয় পার্টি প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ (রংপুর-৩) মারা যান।

জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুতে সংসদে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তার সহধর্মিণী রওশন এরশাদ আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।

ওই বছরের ৭ নভেম্বর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের কার্যকরী সভাপতি মঈনউদ্দীন খান বাদল (চট্টগ্রাম-৮), ২৭ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের মো. ইউনুস আলী সরকার (গাইবান্ধা-৩) মারা যান।
চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি মারা যান আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোজাম্মেল হোসেন (বাগেরহাট-৪), ১৮ জানুয়ারি আব্দুল মান্নান (বগুড়া-১), ২১ জানুয়ারি ইসমাত আরা সাদেক (যশোর-৬), ২ এপ্রিল সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ (পাবনা-৪), ৬ মে হাবিবুর রহমান মোল্লা (ঢাকা-৫), করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৩ জুন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম (সিরাজগঞ্জ-১), ১০ জুলাই সাবেক স্বরাষ্ট্রমমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন (ঢাকা-১৮) ও করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৭ জুলাই ইসরাফিল আলম (নওগাঁ-৬) মারা যান।

চলতি বছরের জানুয়ারির পর মারা যাওয়া কারোরই রীতি অনুযায়ী সংসদ ভবনে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি। অথচ কোনো স্ট্যান্ডিং এমপি মারা গেলে সংসদে অনুষ্ঠিত জানাজায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ছাড়াও নিজ নিজ দলের পক্ষ থেকে মরদেহে শ্রদ্ধা জানানো হয়। মুক্তিযোদ্ধা হলে পান গার্ড অব অর্নার। জানাজায় সহকর্মীরা ছাড়াও সংসদে কর্মরত ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারীরা অংশ নেন। কিন্তু শেষ পাঁচজন এমপির ভাগ্যে এসব জোটেনি।

দলের একের পর এক এমপি মারা যাওয়ায় জুনে সংসদে অশ্রুসিক্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘খুব দুঃখজনক… আসলে আমার জন্য খুব কষ্টকর হচ্ছে বলতে, এভাবে সবাইকে হারানো খুবই দুঃখজনক।’

প্রাণঘাতী করোনার আওয়ামী লীগের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ (এমপি নন) মারা যাওয়ায় সংসদে আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বার বার চোখ মুছেন প্রধানমন্ত্রী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *