হঠাৎ থমকে গেল আফগান শান্তি প্রক্রিয়া!
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছিল। ৪০০ তালেবান বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দেশটির সংসদ লয়া জিরগা। চলতি সপ্তাহেই তালেবান ও আফগান সরকারের মধ্যে শান্তি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে তা ভেস্তে গেছে।
আফগানিস্তান প্রশাসন সোমবার জানিয়ে দিল, আপাতত তারা বাকি তালেবান বন্দিদের মুক্তি দেবে না। তালেবানও জানিয়ে দিল, বন্দিদের মুক্তি না দিলে শান্তি বৈঠকের প্রশ্ন নেই। ফলে এই সপ্তাহের শেষের দিকে দুই শিবিরের বৈঠক আপাতত ভেস্তে গেল।
কেন বৈঠক হচ্ছে না : ফেব্রুয়ারি মাসে আমেরিকা এবং আফগান সরকারের সঙ্গে শান্তি চুক্তি হয়েছিল তালেবানের। সেখানে স্থির হয়েছিল, আফগান সরকার পাঁচ হাজার তালেবান বন্দিকে মুক্তি দেবে। তালেবানও এক হাজার বন্দি আফগান সেনাকে মুক্তি দেবে। এর পর কয়েক মাস কেটে গেছে। এখনো পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার তালেবানকে মুক্তি দিয়েছে আফগান প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে ঈদের আগেই তালেবান ঘোষণা করেছিল, ঈদের পরে আফগান সরকারের সঙ্গে ফের শান্তি বৈঠকে বসতে প্রস্তুত তারা। আফগান সরকারও তাতে সম্মত হয়েছিল।
এরই মধ্যে গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের সংসদ লয়া জিরগা রায় দেয়, দ্রুত তালেবানের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হওয়া উচিত। সেই রায়কে স্বাগত জানিয়েছিল তালেবান এবং আফগান প্রশাসন। তালেবান জানিয়েছিল, আরো ৪০০ বন্দির মুক্তি হলে ১০ দিনের মধ্যে তারা বৈঠকে বসতে রাজি। সেই অনুযায়ী এই সপ্তাহের শেষের দিকে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। আফগান প্রশাসন জানিয়েছিল, ৪০০ বন্দিকে মুক্ত করা হবে। তালেবানকেও এক হাজার বন্দির সকলকে ছেড়ে দিতে হবে। তালেবান তাতে রাজি হয়েছিল। রবিবার পর্যন্ত সেই মোতাবেক ৮০ জন তালেবান বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে আফগান সরকার। কিন্তু সোমবার তারা বাকি বন্দিদের মুক্তি দিতে অস্বীকার করে।
অস্ট্রেলিয়া এবং ফ্রান্সের চাপ : আফগান প্রশাসনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, কোনো কোনো দেশ সমস্ত তালেবান বন্দির মুক্তির বিরুদ্ধে। আফগান সরকারের উপর তারা চাপ সৃষ্টি করছে। আফগানিস্তান সরকার দেশগুলোর নাম প্রকাশ করেনি। তবে অস্ট্রেলিয়া এবং ফ্রান্স সরাসরি নিজেদের আপত্তির কথা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে।
তাদের বক্তব্য, যে সমস্ত তালেবান বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে তার মধ্যে বেশ কিছু শীর্ষ জঙ্গি রয়েছে। যারা অস্ট্রেলিয়া এবং ফ্রান্সের নাগরিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অফিসারদের হত্যা করেছে। ফ্রান্স এবং অস্ট্রেলিয়ার ওই সমস্ত বন্দির মুক্তিতে যথেষ্ট আপত্তি আছে।
কূটনৈতিক মহলের প্রশ্ন, আফগনা সরকার কি ফ্রান্স এবং অস্ট্রেলিয়ার এই দাবির সামনেই মাথা নত করল? ফ্রান্স এবং অস্ট্রেলিয়ার চাপ যে আফগান সরকারকে ভাবাচ্ছে, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রকাশ্যে আফগান প্রশাসন তা মানতে চাইছে না। বরং তারা জানিয়েছে, তালেবানের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে তা পালন করা হবে। কিন্তু সাময়িক ভাবে তা স্থগিত করা হয়েছে।
কেন স্থগিত হলো : প্রশ্ন উঠছে, ফ্রান্স এবং অস্ট্রেলিয়ার চাপ না থাকলে, কেন সোমবার আচমকা বন্দি মুক্তি স্থগিত করল আফগান সরকার? আফগান প্রশাসনের আরেক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তালেবানরা চুক্তি মেনে আফগান সেনাদের মুক্তি দিচ্ছে না। সে কারণেই তালেবান বন্দিদের মুক্তি আপাতত বন্ধ করা হয়েছে। তবে দ্রুত এই জট কাটবে বলেই মনে করা হচ্ছে। তালেবান অবশ্য জানিয়েছে, তারা নিয়ম মেনেই বন্দি হস্তান্তর করছে। আফগান সরকারই চুক্তিভঙ্গ করেছে।
আফগান সরকারের বক্তব্য, চুক্তি মেনে হামলা বন্ধ করেনি তালেবান। চুক্তিতে বলা হয়েছিল, মার্কিন এবং আফগান সেনার যৌথ বাহিনীর উপর আক্রমণ চালাবে না তালেবান। কিন্তু গত কয়েক মাসে তারা একাধিক আক্রমণ চালিয়েছে। আফগান সেনারাও অবশ্য তালেবান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শান্তি বৈঠকের যে পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা খানিকটা বিনষ্ট হয়েছে। তবে দুই পক্ষই বৈঠকের বিষয়ে আশাবাদী। ফলে সমাধানসূত্র পাওয়া যাবে বলেই আশা।
শান্তি প্রতিষ্ঠা হলে আফগানিস্তান থেকে সমস্ত বিদেশি সৈন্য চলে যাবে। নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে আফগানিস্তান। ফলে ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় তৈরির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, এ কথা বলাই যায়।
সূত্র : ডয়েচে ভেলে


