সময় অসময় । আমিনুল ইসলাম কাসেমী
আপনার চক্ষুশূল মানুষটি এখন উম্মতের কাণ্ডারী
যিনি আপনার চক্ষুশূল। যাকে সবচেয়ে বেশী অবজ্ঞা করা হয়েছে। যার প্রতি অবিরাম গালি বর্ষণ করা হয়েছে। রাজপথে যার বিরুদ্ধে হাজারো তালেবুল ইলম এবং কতিপয় যুব আলেম মিলে যে ব্যক্তির চৌদ্দগুষ্ঠি শ্রাদ্ধ করা হয়েছে। যার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে। যাকে বলা হত,মুনাফিক,মুলহিদ, দালাল। আপনাদের বস্তা বস্তা গালি যাকে রাত – দিন বর্ষণ করেছেন। যার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হেনেস্তা করা হয়েছে। যিনি এই বাংলার জমীনে সবচেয়ে মজলুম আলেমে দ্বীন, তিনি আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ
।
আহ, কষ্টে বুকটা ফেটে যায়, যখন ফরীদ উদ্দীন মাসউদ সাহেবের বিরুদ্ধে নির্জলা মিথ্যা প্রচার করা হল, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক নাগাড়ে তাঁর বিরুদ্ধে, যার যা ভাষা আছে, সেটা ব্যবহার করে তাঁকে গালমন্দ করল সবাই। কোন প্রকার তাহকীক ছাড়া ফরীদ উদ্দীন মাসউদ সাহেব কে দোষারোপ করে যেভাবে তাঁকে বেইজ্জতি করা হয়েছিল, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজীর বিহীন। এরকম অত্যাচার, মিথ্যাচার, জুলুম, তোহমত, আর কোন আলেমের বিরুদ্ধে দেওয়া হয় নি।
এই বাংলাদেশে আর কোন আলেমের বিরুদ্ধে এমন জুলুম নির্যাতনের খড়গ চাপানো হয় নি। এমন অকথ্য ভাষা আর কারো ব্যাপারে ব্যবহার করা হয় নি। এমন অমানসিক জুলুম আর কারো বিরুদ্ধে করা হয়নি, যা করা হয়েছে ফরীদ সাহেবকে।
আমরা দু চারজন যারা একটু ফরীদ উদ্দীন মাসউদ সাহেবকে আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসি, কোন পাত্তা পায় নি। দু একটা প্রতিবাদ মুলক ষ্টাটাস লিখলে, আহ,, সে যে কি গালি!! শত শত ফেসবুক মুজাহিদ নগ্নভাবে হামলে পড়ত। এমন এমন ভাষা তারা ইউজ করতেন, যা আমার দ্বারা লেখা সম্ভব নয়। কত যে গালি খেয়েছি, কতজন যে কত কথা বলেছে, লিখেছে। এমনকি বিভিন্ন কায়দায় হমকি- ধমকি দেওয়া হয়েছে। শেষমেষ আমি যাদের সমীহ করি, শ্রদ্ধা করি, তাদেরকে দিয়ে আমাকে পারিবারিক ভাবে, সামাজিক ভাবে, চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।
অবশ্য সেটার জন্য কিঞ্চিত পরিমান দুঃখ নেই। কেননা, আমি ব্যক্তি স্বার্থ বা দুনিয়াবী কোন মাকসাদ হাসিলের উদ্দেশ্য আমি করি নি। আমি সম্পুর্ণ আল্লাহর সন্তুষ্টি নিমিত্তে একজন মাজলুম আলেমের পক্ষে কথা বলার চেষ্টা করেছি।
যাইহোক, সেই আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ সাহেব, যিনি আপনাদের কাছে অপ্রিয়। যাকে অবজ্ঞা করেছেন, অবমূল্যায়ন করেছেন। মিথ্যাচার করেছেন যার সম্পর্কে। যাকে হাজারো বার গালি দিয়েছেন, সেই ফরীদ উদ্দীর মাসউদ এখন উম্মতের কান্ডারী।
মাজলুম আলেম ফরীদ উদ্দীন মাসউদ সাহেবের বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়া এখন আপনার – আমার ত্রাণকর্তা। অথচ যাদের এত্ত হম্বি- তম্বি, যারা এত্ত চিল্লা- চিল্লি করেছেন, তাদের কারো মুরোদ হয় নি।
কোথায় গেল বেফাক? কোথায় হাইঅা? সবই তো ফেল মারল। নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে টানাটানি। আজ কতদিন ধরে চলছে, বেফাকের কর্মকর্তাদের অনিয়ম এবং অনৈতিক কাজের অভিযোগ। পুরো দেশব্যাপি ছড়িয়ে পড়েছে। খবরের হেডলাইনে চলে এসেছে এখন বেফাকের দুর্নিতীর কথা। নিজেদের ঘরের আগুন নিভাতে পারছে না।
ফরীদ উদ্দীন মাসউদ এর চার শাগরেদ, যারা ফরীদ সাহেবের বোর্ডের কর্ণধর। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রথমে হেফজখানা খুলেছে, এরপর এখন কওমীর বাকি অংশ খোলার আস্বাস পাওয়া গেল। অথচ আর কারো দ্বারা এমন মহৎ কাজের সাহস হয় নি। কেউ এব্যাপারে সামনে অগ্রসর হন নি।
ওয়াজের ময়দানের হাকীমুন নফস, সোনায়ে সোহাগা, আর মিষ্টার সাউন্ড গ্রেনেড, ইনারা তো আদাজল খেয়ে লেগেছিলেন।বড় অবাক হই, ওনারা ওয়াজের ষ্টেজে কেঁদে বুক ভাসিয়ে দেন, আরেকজন তো মঞ্চ কাঁপিয়ে দেন, কিভাবে ওনারা আন্দাজে মিথ্যা তোহমত দিলেন ফরীদ সাহেব সম্পর্কে। একটুও বুক কাঁপল না? ওয়াাজের ময়দানে হাজারো মানুষের সামনে মিথ্যাচার কত বড় জঘন্যতম কাজ।
ফরীদ উদ্দীন মাসউদ সাহেবের লাখো আলেমের ফতোয়া নিয়ে আপনারা কটাক্ষ করেন। ধুম্রজাল সৃষ্টি করেন। তিনি কি নিজেই সাইন করেছেন? লাখো আলেম সেজেছেন? তিনিতো একা সাইন করেন নি। বাংলাদেশের প্রায় উল্লেখযোগ্য মুফতীগণের দস্তখত সেখানে পড়েছে। এমনকি আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর সাইন সেখানে আছে। রাস্তার থেকে উঠে আসা কোন লোকের সাইন সেখানে নেই। বাংলাদেশের আলেম এবং মুফতীদের দস্তখত সম্বলিত লাখো আলেমের ফতোয়া।
আজো ফতোয়ার সুফল নিয়ে চিন্তা করে দেখলাম না। আল্লামা মাসউদ সাহেব তাঁর দক্ষতায়, তাঁর বিচক্ষণতায় আজ দেশের কওমী অঙ্গনের উলামায়ে কেরাম নাকে সরিষার তৈল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন। একটু চিন্তা করে দেখুন! যেখানে দেশী ও বিদেশী গণমাধ্যমগুলোর বাঁকা দৃষ্টি ছিল কওমী মাদ্রাসার উপরে। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে নিচু পর্যায়ের লোকগুলো পর্যন্ত কওমীতে জঙ্গী তালাশ করত। কিন্তু আল্লামা মাসউদ সাহেবের বিচক্ষণতা প্রসংসনীয়।তাঁর চিন্তা- চেতনার সাথে আর কারো মিল পড়ে না। তিনি সন্ত্রাস- জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন। জিহাদ আর জঙ্গীবাদ এক নয়, তা মানুষকে বোঝাতো সক্ষম হলেন।
সবচেয়ে যুগান্তকরি পদক্ষেপ ছিল, সন্ত্রাস- জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে লাখো আলেমের ফতোয়া। যে ফতোয়ায় সকল গণমাধ্যম এবং সরকারের মন- মগজ ধোলাই হল, তাদের বাঁকা দৃষ্টি ওঠে গেল কওমী মাদ্রাসা থেকে।
এখন উপরের মহল থেকে নিচু পর্যন্ত সকলের কথা, কওমীতে কোন জঙ্গী নেই। আচ্ছা, এগুলো কি এমনি এমনি হয়েছে? এর পিছনে আল্লামা মাসউদ সাহেবের বিরামহীন পরিশ্রম। দেশ- বিদেশের সকল জায়গাতে তিনি ফতোয়ার কপি পৌছে দিয়েছেন। সকলে এখন অবগত, কওমী মাদ্রাসাতে এবং আলেম সমাজের মধ্যে কোন জঙ্গী- সন্ত্রাসী নেই।
সেই আল্লামা মাসউদ, তাঁকে যতই কোনঠাসা করা হোক না কেন, তিনি কাজ করেই যাচ্ছেন। ঝিনুক নীরবে সয়ে মুক্তা ফলায়। তিনি এরকমই। অত্যান্ত দরদ ব্যাথা নিয়ে উম্মতের কাজ করে যাচ্ছেন। ঝিনুকের মত মুক্তা ফলাচ্ছেন। কোন গলাবাজি করা নয়। তিনি দুর্দর্শী এক ব্যক্তিত্ব। ধৈর্য – সহিঞ্চুচিত্তে উম্মতের ফিকির নিয়ে কাজ করছেন। যার সুফল সবাই এখন ভোগ করছেন।
অথচ লাখো আলেমের ফতোয়া যখন বের হয়, কত কথাই না তাঁকে বলেছি।কত গালিগালাজ করেছি। মুনাফেক- মুলহিদ বলে তাঁকে কোণঠাসা করেছি, শেষমেষ ফরীদ মাসউদ সাহেবের দর্শনের কাছে সবাই হার মেনেছে।
আস্তে আস্তে এখন সবার বুঝে আসছে। এখন সব আলেম বলেন, সন্ত্রাস – জঙ্গীবাদের সাথে আলেমদের কোন সম্পর্ক নেই। এখন সবার মুখে এক কথা।
তবলীগের ব্যাপারে ফরীদ উদ্দীন মাসউদ সাহেবের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, আমি দারুল উলুম দেওবন্দের সাথে আছি। তিনি এ কথাও বলেছেন, দেওবন্দ তবলীগের ব্যাপারে যা বলবে, আমিও তাই বলব। দেওবন্দ যদি মাওলানা সাদ সাহেবকে কাফের বলে আমিও কাফের বলব।
তারপরেও ফরীদ সাহেবের বিরুদ্ধে এক শ্রেণীর লোক ওঠে পড়ে লাগল। তাঁকে কিভাবে ফাঁদে ফেলা যায় সেই চেষ্টা করতে থাকল। কোথাকার ফাহিম সিদ্দিকীর ভিডিওকে কেন্দ্র করে, যেটার কোন ভিত্তি নেই, পুরো দেশব্যাপি পোষ্টারিং করা হল। বাংলাদেশের কোন মাদ্রাসা মনেহয় বাদ ছিল না, সেখানে ফরীদ সাহেবকে বেইজ্জতির পোষ্টার সাঁটা হয় নি।
ফরীদ সাহেব একা কেন? আরো কত আলেম নীরবতা পালন করেছেন, তাদেরকে কিছুই বলা হয় নি। কিন্তু যত দোষ ফরীদ সাহেবের! যত বেইজ্জতির খড়গ ফরীদ সাহেবের উপর। দেখুন! আজ কি অবস্থা। যারা নিজেদের ক্লিন ইমেজ ভেবেছে। আর অন্যরা যা হয় হোক। এখন তো তাদের অপমানের শেষ নেই। বারবার ঘাটে ঘাটে তারা লাঞ্চিত হচ্ছে।
ইজ্জতের মালিক আল্লাহ। মহান আল্লাহ ফরীদ উদ্দীন মাসউদ সাহেবকে হেফাজত করেছেন। কেউ কোন দুর্নিতীর অভিযোগ আজো করতে পারিনি। কোথাও কোন মাল আত্মসাতের অভিযোগ কারো মুখে শুনিনি। আবার কাউকে কোন ফাঁদে ফেলার বা প্রতিশোধ নেওয়ার মানসিকতাও তাঁর নেই।
যাইহোক, আজ এই ক্রান্তিকালে ফরীদ উদ্দীন মাসউদ সাহেব এবং তাঁর বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়া মানুষের বন্ধুরূপে আভির্ভূত হলো।দীর্ঘদিনের বন্ধ থাকা দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলো আবার আলোর মুখ দেখল। এক মহৎ এবং সাহসী পদক্ষেপ তাদের। তারাই জাতির সত্যিকার রাহবার। এ যেন আকাবির- আছলাফের পরিপুর্ণ উত্তরসুরী।নববী আদর্শে অনুপ্রাণিত তারা।
ঠিক আমাদের পুর্বসুরীগণ এভাবেই তারা উম্মতের পাশে ছিলেন। না বুঝে অনেক গালমন্দ করা হত। তারপরেও স্বীয় দায়িত্ব থেকে পিছপা হননি। আকাবিরদের পদাঙ্ক অনুসারী আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ। বহু চড়াই- উৎরাই পেরিয়ে তিনি সম্মুখপানে ছুটে চলেছেন। তাঁর চলার রাস্তা আরো মসৃণ হোক।
পরিশেষে দুআ কামনা। আল্লামা মাসউদ সাহেবের নেক হায়াত এবং সুস্বাস্থ্য কামনা করি। আমিন।
লেখক ; কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক ও কলামিস্ট


