জম্মু-কাশ্মীর; ৩৭০ ধারা পুনর্বহালের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক নেতারা

জম্মু-কাশ্মীর; ৩৭০ ধারা পুনর্বহালের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক নেতারা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ৩৭০ ধারা পুনরুদ্ধারের জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা বলেছে রাজ্যের সব প্রধান রাজনৈতিক দল।

শনিবার (২২ আগস্ট) জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এ সংক্রান্ত একটি ইশতেহার প্রকাশ করেছে। যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে ৩৭০ ধারা এবং রাজ্যের পূর্বের স্থিতি পুনর্বহালের দাবী জানানো হয়েছে।

এদিকে, শুক্রবার (২১ আগস্ট) এনডিটিভিকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাতকারে ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান ডা. ফারুক আবদুল্লাহ বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীকে আরও সৎ হতে এবং প্রকৃত তথ্যের মুখোমুখি হওয়ার জন্য অনুরোধ করব। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ওঁরা ৩৭০ ধারা ৩৫-এ ধারা বাতিল করেছে। যতদিন তা ফিরিয়ে না দেওয়া হবে এখানে কখনও শান্তি আসবে না। কখনও জনগণের হৃদয় জয় করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কখনও সংলাপের রাস্তা বন্ধ করিনি। আমরা এটাই বলে আসছি যে সংলাপের মধ্য দিয়েই জম্মু-কাশ্মীর ইস্যু সমাধান হতে পারে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও আলাপ-আলোচনার মধ্যদিয়েই পথ বের করতে হবে। আর কোনও পথ নেই। কারণ এটা যুদ্ধের বিষয় নয়। কেউই ধ্বংস চায় না।’

শনিবার ‘আজতক’ হিন্দি টিভি চ্যানেলের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ৩৭০ ধারা ও ৩৫-এ ধারা পুনর্বহাল প্রসঙ্গে যৌথ ঘোষণাপত্রে ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান ডা. ফারুক আব্দুল্লাহ, পিডিপি নেত্রী মেহেবুবা মুফতি, জেকেপিসিসি’র জি এ মীর, সিপিআই নেতা এম ওয়াই তারিগামী, জেকেপিসি’র সাজ্জাদ গণি লোন, জেকেএএনসি’র মুজাফফর শাহের নাম রয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক দলগুলি খুব কঠিনতার সাথে বেসিকস্তরের আলোচনার চেষ্টা করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ৫ আগস্টের ঘটনায় অপ্রত্যাশিতভাবে কেন্দ্রীয় সরকার এবং জম্মু ও কাশ্মীরের সম্পর্কের পরিবর্তন করেছে।

২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে নেয় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

আজ যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ৩৭০ ধারা ও ৩৫-এ ধারা বাতিল করা হয়েছে। রাজ্যকে দুটি কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চলে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এরফলে সংবিধানকে অস্বীকার করার চেষ্টা হয়েছে।জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ২০১৯ সালের ৫ আগস্টে কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণাকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে অভিহিত করেছে। তাঁরা বলেন, প্রকৃতপক্ষে জম্মু-কাশ্মীরের জনগণকে দুর্বল করে তাঁদের মৌলিক পরিচয়কে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। এখন জম্মু-কাশ্মীরের শান্তিকামী মানুষদের জন্য পরীক্ষার সময়।

রাজনৈতিক নেতারা বলেন, আমরা সবাই সংবিধানের আওতায় জম্মু-কাশ্মীরের ‘বিশেষ মর্যাদা’ ফিরিয়ে আনার জন্য সম্মিলিতভাবে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি।

অন্যদিকে, গত বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান ডা. ফারুক আবদুল্লাহ নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকের পরে, মানুষ আজ সবচেয়ে করুণ অবস্থায় রয়েছে। মোটেই ব্যবসা নেই, পর্যটন শূন্য। সবখানেই কষ্ট হচ্ছে বলে ডা. ফারুক আবদুল্লাহ মন্তব্য করেন।

/এএ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *