‘নিজামুদ্দীন মারকাজের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীরা দেশ ও ধর্মের শত্রু’

‘নিজামুদ্দীন মারকাজের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীরা দেশ ও ধর্মের শত্রু’

‘নিজামুদ্দীন মারকাজের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীরা দেশ ও ধর্মের শত্রু’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সর্বভারতীয় জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি, দারুল উলুম দেওবন্দের সিনিয়র শিক্ষক, আওলাদের রাসুল মাওলানা সাইয়েদ আরশাদ মাদানী সোমবার (২৪ আগস্ট) ভারতীয় কয়েকটি টিভি চ্যানেল-এর সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যারা নিজামুদ্দিনে আশা মেহমানদের সাথে জঘন্য আচরণ করেছে ও নানান অপবাদ দিয়ছে এরা দেশ ও ধর্মের শ্রত্রু। নিচে মিডিয়ার সামনে দেয়া মাওলানা সাইয়েদ আরশাদ মাদানীর ভিডিওটির অনুবাদ তুলে ধরা হলো-

আমরা সুস্পষ্ট করে বলছি যে, আজ মুসলমানদের বিরুদ্ধে, তাবলীগ জামাত ও মারকাজের বিরুদ্ধে মিডিয়া যা করছে তা মারাত্মক ভুল। রাজনৈতিক ভাবেও মুসলমানদের যেভাবে দোষারোপ করা হচ্ছে এটা খুবই জঘন্য ও ঘৃনীত কাজ!

মুসলমানদের করোনা বহনকারী,জিবাণু বাহক ইত্যাদি ইত্যাদি বলে সারাদেশে কোনঠাসা করা হচ্ছে পরিকল্পিত ভাবে। অথচ আমার নিজের তত্বাবধানে ১৬০০ ১৭০০ তাবলীগের সাথীর করোনা টেস্ট করিয়েছি, এর ভিতর মাত্র ৬৩ বা ৬৪ জনের মাঝে করোনা পজিটিভ পেয়েছি এবং এদের ও পরবর্তীতে নেগেটিভ এসেছে। অথচ মিডিয়া এটাকে এমনভাবে পেশ করেছে যে, এরা সবাই অসুস্থ এবং সারাদেশে এরাই এই ভাইরাস বহন করছে!

কাল বোম্বের আদালতের বিচারকরা এটা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছে যে, তাবলীগী সাথীদেরকে বিদ্বেষবশতঃ বলির পাঠা বানানো হয়েছে। এরা তো ভীনদেশ থেকে এখানে ভাইরাস নিয়ে আসেনি! বিচারকদের কথা থেকে ফলাফল পরিষ্কার যে, যারা এ ঘৃণ্য কাজ করেছে তারা ভূল কাজ করেছে এবং তাদের হৃদয়ে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা ছিল, বিদ্বেষ ছিল।

মাওলানা আরশাদ মাদানী আরো বলেন, তারা এই বিদ্বেষ চারিদিকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিত ভাবে এ কাজ করেছে! আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে, বোম্বের হাইকোর্টের বিচারকরা বিষয়টিকে দিবালোকের মতো সুস্পষ্ট করে পানিকে পানি দুধকে দুধ বানিয়েছেন এবং হলুদ সাংবাদিকতা আর ক্ষমতাসীন দলের ইশারায় পরিচালিত মিডিয়ার মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছেন। বিচারক মহোদয়গণ স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, ভারতের ক্ষমতাসীন সরকার ও এই ন্যাক্কারজনক কাজে কোন না কোনভাবে শরিক ছিল!

তিনি বলেন, অন্যদিকে আদালত তাবলীগ জামাতের সদস্যরা যে সম্পূর্ণ নির্দোষ এটা পুরোপুরিভাবে পরিষ্কার হয়ে গেল এই ঐতিহাসিক রায়ের মধ্য দিয়ে।

মাওলসনা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী বলেন, দ্বিতীয়ত; হাইকোর্ট এ বিষয়টিও তুলে ধরেছে যে, বিদেশী সদস্যরা হচ্ছে আমাদের মেহমান, সুতরাং এদের সাথে খুব ভাল ব্যবহার করা দরকার ছিল। বিষয়টি অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

আমরা দেখতে পাই যে, আমাদের ইসলাম ধর্মে মেহমানের সর্বোচ্চ খাতির যত্নের কথা রয়েছে এবং আমরা সেটা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করি। আমাদের মহানবী সাঃ বলেছেন, ‘পূর্ণ ঈমানদার ঐ ব্যক্তি যে মেহমানের সম্মান করে, তার পূর্ণ খেয়াল রাখে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে সে যেন তার মেহমানের সম্মান ও যত্ন করে।’ এখানে খাবার খাওয়ানোর কথা বলা হয়নি, সম্মান করার কথা বলা হয়েছে।

এখানে শুধু মুসলমানের কথা বলা হয়নি বরং মেহমান হিন্দু হোক, মুসলমান হোক, খৃষ্টান হোক, ইহুদি হোক, শিখ হোক মোটকথা যে ধর্মেরই হোক না কেন সে যখন তোমার ঘরে মেহমান হয় তখন তার সম্মান কর, সেবা কর। খাবার খাওয়ানো হচ্ছে মেহমানদারির একটা অংশ। সুতরাং খাবার খাওয়াও,পানি পান করাও, বিশ্রামের জন্য বিছানা দাও, তাকে সম্মান কর,সুন্দর সুন্দর কথা বল।তার উপর অপবাদ দিও না!

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের প্রধান আরো বলেন, আজ যারা নিজামুদ্দীনে আসা মেহমানদের সাথে এই জঘন্য কাজ করেছে তারা নিজেদের ধর্মবিরুদ্ধ কাজ কাজ করেছে। এরা দেশ ও জাতীর দুষমন। কেননা তাদের ধর্মে বলা হয়েছে যারা মেহমান তারা তো আমাদের ভগবান সমতুল্য, তাদের অযত্ন করা মানে ধর্মের সাথে গাদ্দারি করা। অথচ তারা তাদের সাথে চরম শত্রুতা পোষণ করেছে। সুতরাং তাদের আচরণ থেকে এটা সুস্পষ্ট যে, এরা আপন ধর্মের সাথে গাদ্দারি করেছে।

মাওলানা মাদানী বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে এমন মানুষের দেখা আমরা পেয়েছি যারা পরস্পর পরস্পরকে ভালবাসা, মুহাব্বতের ডোরে আবদ্ধ রাখতে চায় এবং দেশ ও সমাজকে জুলুম অত্যাচার ও ঘৃণা থেকে মুক্ত রাখতে চায়!

মহারাষ্ট্রের হাইকোর্টের বিচারকদের কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমি হারিয়ে ফেলেছি। মিডিয়া যেভাবেই উপস্থাপন করুক না কেন আমরা সবসময় দেখে এসেছি যে, যখনই কোন বিষয়ে মুসলমানদের নাম আসে তখনই তাদেরকে দেশদ্রোহী, সন্ত্রাসী আখ্যা দেওয়া হয়, গুন্ডা বলা হয়! আর এক্ষেত্রে সব মিডিয়া এক হয়ে যায় কিন্তু যখন হাইকোর্ট থেকে নিজামুদ্দীনের পক্ষে নিরপরাধের রায় আসে তখন সকল মিডিয়া বোবা হয়ে গিয়েছে! এটা তো ঐ মস্তিষ্কের ফসল যে মস্তিষ্কে মুসলমানদের বদনাম করা ও তাদের দোষারোপ করে বিশ্ববাসীর সামনে পেশ করার হীন চেষ্টা করেছিল।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *