বেতন-ভাতা পাচ্ছে না পৌরসভার কর্মীরা

বেতন-ভাতা পাচ্ছে না পৌরসভার কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ● সারা দেশে ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ শ্রেণি মিলিয়ে মোট পৌরসভার সংখ্যা ৩২৭টি। ওসব পৌরসভায় ১২ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি করেন। তাছাড়া মাস্টাররোলে নিযুক্ত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার কর্মী। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হলে প্রতিবছর প্রায় ৭০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। তাদের বেতন-ভাতার দায়িত্ব পৌরসভার। কিন্তু রাজস্ব আয়ের ঘাটতির অজুহাতে ২২৬টি পৌরসভার কর্মীদের বেতন-ভাতা ২ থেকে ৫৬ মাস পর্যন্ত বকেয়া পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে- বেতন দিতে না পারলে সেটি সংশ্লিষ্ট পৌরসভার ব্যর্থতা। এটা সরকার দেখবে না। সেজন্য কর্মচারী নিয়োগের সময় দেখা উচিত বেতন দেওয়ার সামর্থ্য আছে কি না। স্থানীয় সরকার বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সূত্র মতে, দেশের অধিকাংশ পৌরসভারই রাজস্ব আয়ের সাথে ব্যয়ের বিস্তর ফারাক। বর্তমানে ২২৬টি পৌরসভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন আটকে আছে। ৮০টি পৌরসভার পরিস্থিতি খুবই নাজুক। এ পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই নির্বাচিত মেয়র-কাউন্সিলররা সমস্যার সমাধান বের করতে পারছেন না। দীর্ঘদিন ঘুরেও অনেক পৌরসভা থেকে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের পাওনা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে কর্মকর্তাদের অবসরে যাওয়ার সময় হলে কৌশলে বদলি করে দেয়া হয়। নিয়ম অনুসারে যে পৌরসভায় চাকরিরত অবস্থায় তিনি অবসর নেবেন, সেই পৌরসভাকেই তার যাবতীয় পাওনা দিতে হবে। সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এমন পরিস্থিতিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত কয়েক মাস ধরে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন পৌরসভার কর্মীরা কর্মবিরতি পালন করছেন। ভুক্তভোগীদের অভিমত, সরকার পৌরসভাগুলোর রাজস্ব আয় নিয়ে যদি নিয়মিত বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করে, তাতেই তারা খুশি।

সূত্র জানায়, নতুন স্কেল ঘোষণার পর নিয়ম অনুসারে অধিকাংশ পৌরসভার কর্মীরাই বেতন-ভাতা পায়নি। অনেক পৌরসভায় গত বছরের জুন মাসের বদলে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নতুন বেতন-ভাতা কার্যকর করা হয়েছে। বেতন-ভাতা বাড়লেও সেই অনুপাতে রাজস্ব আয় না বাড়ায় পৌরসভাগুলোতে এমন ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিয়ম অনুসারে পৌরসভার স্থানীয়ভাবে আয় করা রাজস্ব থেকেই কর্মরতদের বেতন-ভাতা দেয়ার কথা। হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, জমি রেজিস্ট্রিসহ কয়েকটি খাত থেকে পৌরসভা রাজস্ব আয় করে থাকে। পৌরসভায় কর্মরতদের বেতন-ভাতা প্রদানের পাশাপাশি এ আয় থেকেই আনুষঙ্গিক অনেক ব্যয় করতে হয়। আর নতুন টাইমস্কেল ঘোষণার পর বেতন-ভাতা বেড়ে যাওয়ায় এখন বকেয়া আরো বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এদিকে পৌরসভা কর্মকর্তা-কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আবদুল আলীম মোল্লা জানান, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা পরিশোধসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ে ঢাকায় মহাসমাবেশ করার প্রস্তুতি চলছে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়েও যোগাযোগ চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মমতাময়ী, তিনি নিশ্চয় আমাদের দাবি পূরণ করবেন।

অন্যদিকে পৌরসভাগুলোতে বিদ্যমান সঙ্কট প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (নগর উন্নয়ন) মাহবুবুর রহমান জানান, নিয়ম অনুযায়ী পৌরসভাগুলোতে আয় থেকে দায় শোধ নীতিতে বেতন-ভাতা দেয়ার কথা। সরকার শুধু উন্নয়ন কর্মকা-ের জন্য টাকা দিচ্ছে। তাদের বেতন-ভাতা সরকার দেবে না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *