‘নদী আমাগ্যারে ফহির বানাইলো, কি হোইরা যে খামু’

‘নদী আমাগ্যারে ফহির বানাইলো, কি হোইরা যে খামু’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ‘নদী আমাগ্যারে ফহির বানাইলো। বার বার বান এ্যাসা ফসল গিল্যা গ্যাছে। বড় আশ হরছিলাম। গ্যানজা ধান গ্যাড়া ক্ষতি পোশামু। কিন্ত অসময়ে নদীর পানি বাড়ছে। গ্যানজা ধান ডুব্বা মানজা ভ্যাঙা দিছে। মানজা আর খাড়া কোরব্যার পারমু না। হাতে কাম নাই, ঘরে ভাত নাই। এবার কি হোইরা যে খামু।’- আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার বানিয়াজান চরের কৃষক বাহের আলী।

চরের কৃষক বাহের আলী শুধু নয়, তার মতোই যমুনা নদীর চরাঞ্চলের হাজারো কৃষকের শেষ ভরসা স্থানীয় জাতের গাইঞ্জা ধানের জমি বানের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ উপজেলায় কমপক্ষে ৬০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। ফলে কৃষকের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

বন্যায় আমন চাষ করতে না পারলে যমুনা চরের চাষির শেষ অবলম্বন স্থানীয় জাতের গাইঞ্জা ধান। চরের পলি মাটিতে রাসায়নিক সার ছাড়াই কম খরচে উৎপন্ন হয়। চিকন, সুস্বাদু এ ধানের দাম বেশি পায় বলে চাষও করেন কৃষকরা। কিন্তু সেই ধান ক্ষেতও বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চরের চাষিরা।

দফায় দফায় বন্যায় রোপা আমন নষ্ট হওয়ার পর চরের চাষিরা গাইঞ্জা ধান রোপন করেছিলেন। কিন্তু গত সাত দিন ধরে যমুনার পানি বৃদ্ধিতে সব তলিয়ে গেছে। ধুনটের বানিয়াজান গ্রামের কৃষক মালেক উদ্দিন জানান, যমুনার পানি কমলেও পানি জমি থেকে নামতে যদি দেরি হয়। এরই মধ্যে বেশির ভাগ গাইঞ্জার আবাদ নষ্ট হয়ে যাবে। একমুঠো ধানও ঘরে উঠবে না।

পুকুরিয়া চরের হামেদ আলী জানান, এমনিতে চরের কৃষক গাইঞ্জা ধান চাষ করে বেশি। এছাড়াও রোপা আমনও চাষ করে থাকে। বন্যায় রোপা আমন নষ্ট হলেও শেষ সময়ে গাইঞ্জা ধান চাষ করা যায়। এবার দফায় দফায় বন্যায় রোপা আমন নষ্ট হয়ে গেছে। হঠাৎ আরেক দফা বন্যায় গাইঞ্জা ধানের জমিও ডুবে গেছে। দ্রুত পানি নেমে না গেল ধান আর হবে না।

একই এলাকার আব্দুল কাদের জানান, তারও তিন বিঘা জমির ধান তলিয়ে গেছে। বন্যার পানি কমতে দেরি হলে নুতন করে গাইঞ্জা লাগানোর সময়ও থাকবে না। আর সময় পাওয়া গেলেও চারা জোগাড়ে সংকট হবে। জীবনে এতো দীর্ঘমেয়াদি বন্যা কোনো দিন দেখা যায় নাই। কতদিন পানিবন্দী থাকার পর তা কমে গেল, হঠাৎ আবার পানি বৃদ্ধির কারণে দুশ্চিতায় আছেন তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিদুল হক বলেন, চার দফা বন্যায় রোপা ধান নষ্ট হয়ে গেছে। চরের কৃষক বন্যার কারণে রোপার চেয়ে গাইঞ্জা ধান চাষের প্রস্তুতি রাখে বেশি। বন্যার কারণে দুই-তিন বারের টার্গেট রাখে। বন্যায় ধান গাছ নষ্ট হলেও পানি কমায় শেষ সময়ে কৃষকরা ফের এ ধান লাগাতে পারবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *