বাবরি মসজিদ নিয়ে রায় মানতে পারছেন না মাহমুদ মাদানী
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মুসলমান ও আলেম উলামার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভারতে ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে তীব্র সন্দেহে পড়েছেন ভারতীয় মুসলমানদের সামাজিক সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী। বাবরি মসজিদে হামলাকারীদের রহস্যজনকভাবে বেকসুর খালাস করে দেয়ায় নিজের এই সন্দেহের কথা প্রকাশ করেন তিনি।
আদালতের এ রায়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মাওলানা মাহমুদ মাদানী বলেন, দীর্ঘ ২৮ বছর প্রতীক্ষার পরে বিশেষ সিবিআই আদালত বাবরি মসজিদে হামলায় জড়িত দোষীদের বিচারের আওতায় না এনে আশ্চর্যজনকভাবে খালাস করে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত করুণ এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
ভারতীয় মুসলমানদের সামাজিক সর্ববৃহৎ সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সিনিয়র এই নেতা আরও বলেন, সিবিআই আদালতের এই রায়ে যেভাবে প্রমাণ ও সত্যকে উপেক্ষা করা হয়েছে এবং দোষীদের লজ্জাজনক ও অপরাধমূলক কর্ম প্রকাশ্যে আসার পরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিয়ে তাদেরকে বেকসুর খালাস করা হয়েছে, এর নজির আমরা ইতিহাসে দেখতে পাই না।
মাহমুদ মাদানী বলেন, এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব দরবারে প্রমাণ করেছে, ভারতে ন্যায়বিচার নেই। এটি বর্তমানে আদালতের স্বাধীনতার ওপরও প্রশ্ন উত্থাপন করে।
বাবরি মসজিদে হামলাকারীদের উপযুক্ত শাস্তি না হওয়া অপরাধীদেরকে আরও উৎসাহ যোগাবে এবং সংখ্যালঘুদের মনে শঙ্কা ও আদালতের প্রতি তাদের অনাস্থা তৈরি করবে।
মাহমুদ মাদানি বলেন, সিবিআইয়ের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হবে এবং দেশের সাধারণ স্বার্থ এবং ন্যায়বিচারের নীতিমালা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্তের ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং হবে তার ক্ষতিপূরণও চাওয়া হবে।
এদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্য জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি ও রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। বাবরি মসজিদ রায়ে লালকৃষ্ণ আদবাণী, মুরলী মনোহর জোশী থেকে শুরু করে বিজেপি ও আরএসএসের নেতারা বেকসুর ঘোষিত হওয়ার ঘটনায় নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, এর ফলে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হবে এবং তার পরিণতিতে নানা ঘটনা ঘটতে পারে।
জমিয়তের রাজ্য সভাপতি এবং রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বুধবার বলেন, প্রকাশ্যেই আদবাণী বাবরি ধ্বংস এবং রামমন্দির বানানো নিয়ে কী বলেছিলেন, তা সকলেরই মনে আছে। তার পরেও আদালতে কারও দোষ প্রমাণিত হল না, এই ঘটনা আশ্চর্যের এবং হতাশাজনক। এ দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা এর ফলে ধাক্কা খাবে। তার জেরে নানা রকম ঘটনাই ঘটতে পারে।
তবে হতাশা বা ক্ষোভের বশে কেউই যেন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটান, সেই আবেদনও জানিয়েছেন রাজ্য জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি ও রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।


