সাত নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশের বেশকিছু অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে দেশের সাতটি নদীর পানি ১১ পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
শনিবার দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তাদের তথ্যানুযায়ী, গাইবান্ধা পয়েন্টে ঘাঘট নদীর পানি ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, চক রহিমপুর পয়েন্টে করতোয়ার পানি ১১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি দুই সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, সারিয়াকান্দি পয়েন্টে যমুনার পানি ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, কাজীপুর পয়েন্টে যমুনার পানি ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনার পানি ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, সিংড়া পয়েন্টে গুড় নদীর পানি ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, বাঘাবাড়ী পয়েন্টে আত্রাই নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, এলাসিন পয়েন্টে ধলেশ্বরী নদীর পানি ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, আত্রাই পয়েন্টে আত্রাই নদীর পানি ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদনদীর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমছে এবং যমুনার পানি স্থিতিশীল আছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা উভয় নদীর পানি কমতে পারে। গঙ্গা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে, অপরদিকে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদীর পানি কমছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, চতুর্থ দফায় ফরিদপুর অঞ্চলের নদ-নদীর পানি এ সপ্তাহ ধরে বেড়েই চলছে; পদ্মার নদীর পানি গোয়ালন্দে বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপরে উঠেছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, “গত ১২ ঘণ্টায় পদ্মার নদীর গোয়ালন্দ পয়েটে পাঁচ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে এখন বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।” তবে প্রতিদিন আবারো পদ্মা, মধুমতি ও আড়িয়ালখার পানি বাড়লেও এ বৃদ্ধির হার কম বলে জানান তিনি। ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউপির চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিন্টু জানান, চরাঞ্চলের মানুষের জীবীকার প্রধান উৎস কৃষি। কিন্তু এবারের বন্যায় এ মানুষরা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে। “প্রথম ও দ্বিতীয় দফা বন্যায় ভূট্টা, বাদাম, পাটের ক্ষতি হয়েছে। এখন আবার পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়া কলাই, পেঁয়াজ বীজ তলা তলিয়ে গেছে।” কয়েকদিনে চরের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করায় গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। যার মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। অক্টোবর মাসের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এ পূর্বাভাস দেয়ার জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটির নিয়মিত সভা আগারগাঁওয়ের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। তার ভিত্তিতেই এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। মৌসুমী বায়ু প্রবাহকে বর্ষা বলা হয়। এ বায়ু প্রবাহের আগমনে বাংলায় শুরু হয় বৃষ্টি। বর্ষা ঋতু বিদায় নিলেও মৌসুমী বায়ু থেকে যাওয়ায় পরের ঋতুতেও বৃষ্টি হয়। যেমন এখন শরৎকালেও বৃষ্টি হচ্ছে। তবে এ মৌসুমী বায়ু চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে বিদায় নেবে। এর মধ্য দিয়ে চলতি মৌসুমে বিদায় ঘটবে বর্ষার।
অক্টোবরের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অক্টোবর মাসে দেশে স্বাভাবিক অপেক্ষা কিছুটা বেশি বৃষ্টি হতে পারে। এ মাসে বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। যার মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু প্রবাহ (বর্ষা) বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেবে।


