আন্তর্জাতিক ডেস্ক ● কিংবদন্তি বক্সার ক্যাসিয়াস ক্লে কীভাবে মুহম্মদ আলি হলেন তা নিয়ে জল্পনা কম হয়নি। এবার বোধহয় এ প্রশ্নের একটা ইঙ্গিত মিলবে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বেলিন্ডা ওরফে খলিলা ক্যাম্যাকো আলির দেওয়া একটি প্রবন্ধের ভিত্তিতে। সাদা কাগজে নীল কালিতে আলির নিজের হাতে লেখা ওই প্রবন্ধ ‘?দ্য গ্রেটেস্ট’?-এর বহুবর্ণ চরিত্রের আরো একটি দিক তুলে ধরল।
সাক্ষাৎকারে বেলিন্ডা বলছেন, ১৯৬৪ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে হেভিওয়েট বক্সিংয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরই ধর্মান্তরিত হন আলি। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আলি তখন কাউকে মানতেন না। নিজেকে ঈশ্বরের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করেছিলেন। কয়েক বছর পর একদিন দাম্পত্য কলহের সময় বেলিন্ডা আলিকে বলেন, যতই নিজেকে সর্বসেরা বলুন, আলি কিছুতেই আল্লাহ?র চেয়ে সেরা হতে পারবেন না। কেন তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তার আসল কারণ লিখতে নির্দেশ দেন স্বামীকে। আলিও স্কুলছাত্রের মতো তৎক্ষণাৎ কাগজ-কলম নিয়ে প্রবন্ধ লিখে ফেলেন।
আলি লিখেছেন, লুইসভিলের রাস্তা দিয়ে কিশোরবেলায় একদিন সুন্দরী মেয়েদের দেখতে দেখতে হেঁটে যাওয়ার সময় এক খবরের কাগজ বিক্রেতাকে দেখেন তিনি। ‘?নেশন অব ইসলাম’? শীর্ষক ওই সংবাদপত্র এবং ওই সংগঠনের নেতা এলিজাহ মুহম্মদের সম্পর্কে আগে শুনেছিলেন তিনি। সেদিন কৌতূহলবশত কাগজটি কিনেও ফেলেন। সংবাদপত্রের একটি কার্টুনচিত্রের ওপর তার চোখ আটকে যায়। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এক শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি তার কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীতদাসকে জোর করে যিশুকে আরাধনার জন্য চাবুক মারছে। এরপরই ভিন্ন অনুভূতি হয় তার। তিনি উপলব্ধি করেন, খ্রিস্টধর্ম এবং ক্যাসিয়াস ক্লে নামটি তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি পছন্দ করে নেননি। এরপরই দাসত্বের এই শৃঙ্খল ভাঙতে উদ্যোগী হন আলি। এলিজাহ মুহম্মদের সংস্পর্শে এসে ইসলাম গ্রহণ করেন। ১৯৬৪ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ জেতার পর নিজের ধর্মান্তকরণের কথা জনসমক্ষে ঘোষণা করে বলেন, আল্লাহ এবং শান্তিতে বিশ্বাস থেকেই ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছেন।


