মন্ত্রিসভায় বালাইনাশক আইন অনুমোদন

মন্ত্রিসভায় বালাইনাশক আইন অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক ● সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদ- ও দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে বালাইনাশক আইন-২০১৭ অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া ৫ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়। চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া আইনটিতে ৩৬টি ধারা করা হয়েছে।  সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে বিকালে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। ব্রিফিংকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল জানান,  পেসটিসাইড অর্ডিনেন্স ১৯৭১-কে পরিবর্তন করে বালাইনাশক আইন-২০১৭ প্রণয়ন করা হয়েছে। গত ১৯ মার্চ কিছু পর্যবেক্ষণসহ আইনটি নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।  শফিউল আলম আরো বলেন, আইনটি ১৯৭১ সালের অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়। যা পরিমার্জন করে বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে। অধ্যাদেশ বালাইনাশক বা কীটনাশকের বিষয় উল্লেখ ছিল কিন্তু নতুন আইনে ইঁদুরের উপদ্রবসহ নানা ধরনের রোগ সংযুক্ত করা হয়েছে। আইনের ২৯ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি বালাইনাশকের বিজ্ঞাপন ভুলভাবে উপস্থাপন করে তবে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে একবছরের কারাদ-। দ্বিতীয়বার অপরাধ করলে জরিমানা হবে দুই লাখ অনাদায়ে দুই বছরে কারাদ-। তিনি আরও বলেন, আইন বাস্তবায়নের জন্য একজন পরিদর্শক থাকবেন। তাকে কাজে বাধা দিলে ৭৫ হাজার থেকে এক লাখ জরিমানা এবং সর্বনিম্ন এক বছর ও সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদ- হবে।

এছাড়া বালাইনাশক বিক্রেতা ডিলারকে মিথ্যা নিশ্চয়তা দিলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। আইনের ৩৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, পরিদর্শকের লিখিত অনুমতি ছাড়া কেউ মামলা করতে পারবে না। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বালাইনাশকের দাম সরকার প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করবে। গায়ে লেখা দামে বিক্রি করা যাবে না। তবে মামলার বিষয় নিষ্পত্তির জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পারবে সরকার। তিনি আরও বলেন, এখন থেকে প্রতিবছর ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস পালিত হবে। এটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রের খ ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। যদিও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ২২ মার্চ প্রস্তাব করে। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাস ভাষার মাস ও ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় গ্রন্থাগার ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। তাই এই দিনকেই জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস হিসেবে পালন করা হবে। জানা গেছে, সভায় জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে মন্ত্রিসভা বৈঠক সম্পর্কিত প্রতিবদেন উপস্থাপন করা হয়। এ সময়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে ৯টি, সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে ৮০টি, বাস্তবায়ন হয়েছে ৫৯টি বা ৭৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ, বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছে ২১টি বা ২৮ দশমিক ২৫ শতাংশ, চুক্তি অনুমোদন হয়েছে সাতটি এবং সংসদে আইন পাস হয়েছে ছয়টি। গত বছর একই সময়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে ৮টি, সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে ৫৬টি, বাস্তবায়ন হয়েছে ৩৬টি বা ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ, বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছে ২০টি বা ৩৫ দশমিক ৭১ শতাংশ, চুক্তি অনুমোদন হয়েছে চারটি এবং সংসদে আইন পাস হয়েছে ১০টি। এদিকে চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। শফিউল আলম বলেন, মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ২০১৭ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

তিনি  জানান, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয়টি মন্ত্রিসভা বৈঠকে ৮০টি সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে ৫৯টির, ২১টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে মন্ত্রিসভার আটটি বৈঠক হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ওই সময়ে সিদ্ধান্ত হয় ৫৬টি, যার মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে ৩৬টি। আর ২০টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন। বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। শফিউল আলম জানান, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে সাতটি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুমোদিত হয়েছে। আর সংসদে পাস হয়েছে ছয়টি আইন। আর ২০১৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুমোদিত হয়েছিল চারটি। ওই সময়ে সংসদে ১০টি আইন পাস হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *