পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের দ্বীতিয় ধাক্কার আশংকায় বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) থেকে ফের লকডাউনে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য।
এবারের লকডাউনের ধরন নিয়ে বুধবার ভোটাভুটির আগে আগামীকাল সোমবার হাউজ অব কমন্সে এ সংক্রান্ত বিবৃতি দেবেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এমনটাই আশা করা হচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টে হোম (ঘরে থাকুন) নামের নতুন এই লকডাউন কার্যকর হতে পারে বৃহস্পতিবার থেকে। আর এটি চলবে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এবারের লকডাউনে পানশালা, রেস্টুরেন্ট, জিম, জরুরি নয় এমন পণ্যের দোকান এবং প্রার্থনাগৃহ বন্ধ থাকবে তবে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলা রাখার অনুমতি দেয়া হতে পারে।
প্রথম লকডাউনের পর ব্রিটেনজুড়ে বিভিন্ন এলাকা ভিত্তিক লকডাউন দেয়া হলেও তা পরবর্তীতে অকার্যকর বলে প্রমাণিত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রিটেনে করোনার প্রথম তরঙ্গের চেয়ে দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেশি সংখ্যক প্রাণহানি ঘটতে পারে।
ব্রিটেনের বিভিন্ন সংস্থা গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দেশজুড়ে দ্বিতীয় লকডাউনের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে সরকার দেশের অর্থনীতি রক্ষার প্রশ্নকে সামনে এনে পুরো দেশে লকডাউন না দেয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় নতুন লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সরকার এটি লকডাউন না বলে নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রণ বলতে চাইলে বিরোধী লেবার পার্টি বলছে, এর অর্থ আবার লকডাউন ফিরিয়ে আনা।
তবে এবারের লকডাউনের সময়সীমা নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে। রোববার বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যে ক্যাবিনেট অফিস মন্ত্রী মাইকেল গোভ বলেছেন, তিনি মনে প্রাণে চাইছেন ইংল্যান্ডের নতুন লকডাউন ২ ডিসেম্বরেই শেষ হোক। কিন্তু মন্ত্রিপরিষদ এ ব্যাপারে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বাস্তব পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করবে। পরিস্থিতি দেখেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে লকডাউন ২ ডিসেম্বরের পরও বর্ধিত করতে হবে কিনা।
তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে আমাদের এখানে ‘আর’ রেট ১-এর নিচে থাকাটা জরুরি। ‘আর’ রেট বলতে বুঝায় আক্রান্ত এক ব্যক্তির মাধ্যমে অন্য সুস্থ মানুষ সংক্রমিত হওয়ার হার।
মাইকেল গোভ এর আগে স্কাই নিউজকে বলেছিলেন, এবারের লকডাউনের সময়সীমা ডিসেম্বর অতিক্রম করতে পারে।
/এএ


