জো বাইডেন হোয়াইট হাউজের দোরগোড়ায়
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউজে দখলের স্বপ্ন জোরদার হচ্ছে ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেনের। ২৭০ ছোঁয়ার কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন তিনি। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ৫৩৮টি ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হিসেব জানাচ্ছেন বাইডেন ২৬৪টি ইলেক্টোরাল ভোটে এগিয়ে রয়েছেন যেখানে ট্রাম্পের ঝুলিতে ২১৪। ক্ষমতায় আসতে হলে ম্যাজিক ফিগার২৭০টি জয় দরকার। ২০১৬ সালে ট্রাম্পের জেতা উইসকনসিনে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন বাইডেন। তাছাড়া মিশিগানও তার অনুকূলে যাচ্ছিল কিন্তু সেখানে ভোট গণনা স্থগিত রাখার দাবি নিয়ে আদালতে গিয়েছেন ট্রাম্পের নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা সংগঠন। তাদের অভিযোগ মিশিগানে ব্যালটের সঠিক হিসেব পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া উইসকনসিনেও নতুন করে গণনার দাবি তুলেছে ওই সংস্থা। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প শিবির জর্জিয়ার কিছু এলাকায় ভোট গণনা স্থগিত করার আবেদন করেছে। জর্জিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটল গ্রাউন্ড রাজ্য যেটিতে এখনো কোন প্রার্থী জিততে পারেন, তা ধারণা করা যায়নি। পেনসিলভানিয়ায় ভোটের দিনের তিন দিন পরে আসা পোস্টাল ব্যালট গণনার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করছে রিপাবলিকানরা। ঐ রাজ্যে এখনো লাখ লাখ ভোট গণনা করা বাকি।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত পেয়েছেন ২১৪টি ইলেকটোরাল ভোট। যদিও ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করে বিতর্কে জড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এমনকি ভোট গণনা বন্ধে তিনি সুপ্রিমকোর্টের দারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছিলেন। এদিকে, ভোটপ্রাপ্তির দিক দিয়ে ডেমোক্রেট প্রার্থী হিসেবে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকেও ছাড়িয়ে গেছেন একই দলের প্রার্থী জো বাইডেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বারাক ওবামা ৬ কোটি ৯৪ লাখ ৯৮ হাজার ৫১৬ ভোট পেয়েছিলেন। জো বাইডেন এখন পর্যন্ত ৭ কোটি ৭ লাখেরও বেশি ভোট পেয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এত বেশি ভোট পেয়ে কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হননি।
ট্রানজিশন ওয়েবসাইট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দৃশ্যত ক্ষমতায় আসার পথে রয়েছেন জো বাইডেন। সরকার গঠনের প্রস্তুতি হিসেবে এরইমধ্যে একটি ট্রানজিশন ওয়েবসাইট চালু করেছেন তিনি। এক প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে অন্য প্রেসিডেন্টের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য প্রেসিডেন্সিয়াল ট্রানজিশন গঠন করা হয়। এ লক্ষ্যেই ট্রানজিশন ওয়েবসাইট চালু করেছে বাইডেন শিবির। নিয়ম অনুযায়ী, সামগ্রিক বিষয়ে ওয়াশিংটনে ট্রানজিশন টিমের অফিস থেকে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। আর এ প্রক্রিয়ার যাবতীয় আপডেট থাকবে ট্রানজিশন ওয়েবসাইটে।
ট্রাম্প অবশ্য এখন পর্যন্ত পরাজয় মেনে নেননি। ভোট গণনা থামাতে একাধিক মামলাও করেছে ট্রাম্প শিবির। তবে এর মধ্যেই ক্ষমতা গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাইডেন শিবির। ট্রানজিশন ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, দেশে যে ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে; মহামারি থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক মন্দা, জলবায়ু পরিবর্তন, বর্ণবাদী কর্মকা-ের মতো বিষয়গুলো মোকাবিলায় বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসন প্রথম দিন থেকেই কাজ চালিয়ে যাবে। ডেলাওয়ারের উইলমিনটনে দেওয়া এক ভাষণে ক্ষমতায় আসার বিষয়ে নিজের আশাবাদের কথা জানান বাইডেন। জো বাইডেন বলেন, তিনি নিজেকে জয়ী ঘোষণা করতে আসেননি। তবে তার জয় এখন স্পষ্ট। রানিং মেট কমলা হ্যারিসকে সঙ্গে নিয়ে দেওয়া ভাষণে বাইডেন আবারও ঐক্যবদ্ধ জাতি গড়ার অঙ্গীকার করেন। বলেন, লাল-নীল বিভেদ তিনি মুছে দিতে চান।
বাকি ভোট গণনার আগে নিজের জয় দাবি না করে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাইডেন বলেন, রাতভর গণনার পর এখন এটা স্পষ্ট। আমি এখানে ঘোষণা দেবো না যে, আমরা জিতে গেছি। কিন্তু বলতে চাই গণনা শেষ হলে আমাদের বিশ্বাস আমরাই জিতবো। বাইডেন বলেন নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পর প্রচারকালের কঠোরতাকে পেছনে ফেলে পরস্পরকে আবার দেখার, শোনার এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং যতœ করার সময় আসবে। দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রশ্নে বাইডেন বলেন, আমেরিকানদের পরস্পরকে শত্রু ভাবা বন্ধ হবে।
একজন আমেরিকান প্রেসিডেন্টের মতো দেশ শাসন করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ডেমোক্র্যাট জো বাইডেন বলেন, ‘জেতার পর কোনও লাল রাজ্য এবং নীল রাজ্য থাকবে না, কেবল ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা থাকবে। আমাকে যারা ভোট দেয়নি কিংবা ভোট দিয়েছে সবার জন্যই জোরালোভাবে কাজ করবো।’
নির্বাচনের ফলের দিকে ইঙ্গিত করে বাইডেন বলেন, প্রতিটি ভোট অবশ্যই গণনা করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণ নীরব থাকবো না।’ নিজের সম্ভাব্য জয়কে আমেরিকার জনগণের বিজয় হিসেবেও আখ্যায়িত করেন তিনি।


