আলেমগণ স্কুল- কলেজ নিয়েও ভাবুন

আলেমগণ স্কুল- কলেজ নিয়েও ভাবুন

আলেমগণ স্কুল- কলেজ নিয়েও ভাবুন

আমিনুল ইসলাম কাসেমী : মাদ্রাসা শিক্ষার পাশাপাশি স্কুল- কলেজ নিয়ে আলেমদের ভাবার দরকার আছে। আমরা যেন দিনে দিনে আত্মকেন্দ্রীক হয়ে যাচ্ছি। শুধু নিজের চিন্তা। নিজের পরিবার নিয়ে ভাবনা। এছাড়া অন্য কিছু নিয়ে ভাবনা যেন আমাদের নেই।

আমরা কওমীর লোক, তাই শুধু কওমীকে নিয়ে ভাবি। কওম নিয়ে ভাববার সময় কোথায়? কিন্তু এটা কি কোন আলেমের সিফাত? এটা কি কোন আলেমের বৈশিষ্ট্য? একজন আলেমকে সব কিছু নিয়ে ভাবতে হবে। পুরো দেশ ও জাতিকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে। পুরো দেশের শিক্ষা- দীক্ষা, সমাজ ব্যবস্থা, রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে নিয়ে ভাবা চাই।

কওমী মাদ্রাসা খোলার জন্য উতালা হয়ে গেলাম আমরা। কওমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলেছে, এরপরে আর কোন কথা নেই। সব চুপ হয়ে আছি। কিন্তু স্কুল- কলেজ- আলিয়া মাদ্রাসা ওসব প্রতিষ্ঠান কি আমাদের নয়? কিন্ডার গার্টেন, কারিগরী শিক্ষা, ভার্সিটিতে কি আমাদের সন্তানেরা পড়ে না? সে গুলো কি খোলার প্রয়োজন মনে করি না?

যদিও স্কুল- কলেজের মাস্টার চুপ, অনলাইনে নাকি সব পড়া হয়ে যাচ্ছে। আর তারা মাসের শেষে বেতন পাচ্ছেন। কিন্তু সব ধরনের ছেলেদের বাড়িতে কি এ্যানড্রয়েট সেট আছে? সবাই কি সেই সুবিধা পান?
আসলে অনলাইনের সুবিধা সবাই পান না। তাছাড়া প্রাইমারী ও কিন্ডার গার্টেনে তো আর সব কিছু অনলাইনে সুষ্ঠু- সুন্দরভাবে হয় না। তাই স্কুল খোলা কিন্তু সময়ের দাবি।

স্কুল- কলেজের শিক্ষকগণ চিন্তা না করলেও ওলামায়েকেরামের সার্বজনিন চিন্তা করা দরকার। কোমলমতি শিশুদের নিয়ে ভাবা চাই সকলের। শিক্ষার্থীদের সবাইকে এক মনে করতে হবে। কওমী-আলিয়া – স্কুল – কলেজ এগুলোর মধ্যে কোন দুরত্ব না রাখা চাই। সবগুলো আমাদের প্রতিষ্ঠান। আলিয়া- কওমী কোন বিরোধ নেই। সব প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের মনে করে ভাবতে হবে। হৃদয়ের মাঝে বড় জায়গা করতে হবে।

এজন্য আলেমগণ শুধু কওমীকে নিয়ে থাকলে হবে না। কওমী যেভাবে খোলা হয়েছে , ছোটদের প্রতিষ্ঠান, স্কুল, আলিয়া মাদ্রাসা খোলার ব্যাপারে ঐরকম খোলাদিল থাকতে হবে। নচেৎ আমাদের শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আমাদের সার্বজনিন চিন্তা করা দরকার। বিশেষ করে আলেমদের আরো উদার হতে হবে। স্কুল – কলেজগুলোকে নিজের মত করে নিতে হবে। কেননা , একজন আলেম সবার জন্য। দেশের সকল মানুষের কল্যাণের জন্য।

চরমোনাই-এর মরহুম পীর সৈয়দ ফজলুল করীম সাহেব কে দেখতাম, তিনি সার্বজনিন চিন্তা করতেন। আলিয়া – কওমীর কোন ভাগাভাগি করেন নি। তাঁর ছাত্র সংগঠনের কওমীর ছাত্রদের সন্মেলন করেছেন, আবার আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্রদের সন্মেলন করেছেন। এবং সবাইকে এক যোগে ছাত্র আন্দোলনের কাতারে শামিল করে চালায়েছেন। যার দরুণ, চরমোনাই এর ছাত্র সংগঠন কওমী, আলিয়া, কলেজ, ভার্সিটি সব জায়গায়। এবং তারা শক্তিশালী।

আজ কয়টা ইসলামী সংগঠনের ভার্সিটিতে ছাত্রদের কমিটি আছে। কোন ইসলামী সংগঠন আছে, ভার্সিটিতে নির্বাচন করার শক্তি রাখে। কিন্তু চরমোনাই এর হুজুরের ছাত্র সংগঠন সব জায়গাতে। এটা উদারতার কারণে পৌঁছে গেছে তাদের কমিটির আওয়াজ।

ফেদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদা মাদানী রহ. তিনি সার্বজনীন কাজ করতেন। বাংলাদেশে যখনই আসতেন, তখনই তিনি আলেমদের মাদ্রাসার পাশাপাশি স্কুল- কলেজ- কিন্ডার গার্টেন প্রতিষ্ঠার কথা বলতেন। তিনি আরো বলতেন, খৃষ্টানেরা স্কুল করে ছাত্রদের খৃষ্টান বানাতে চায়, তোমরা তাদের মোকাবেলায় স্কুল করে সেসব ছাত্রদের খৃষ্টান হওয়া থেকে বাঁচাও। এজন্য ফেদায়ে মিল্লাত বহুদেশে খৃষ্টানদের শিক্ষা বিস্তারের মোকাবেলায় স্কুল করেছিলেন। বহু ধরনের প্রতিষ্ঠান হয়েছিল তাঁর হাতে।

সুতরাং আমাদের এভাবে সার্বজনীন চিন্তা করা দরকার। স্কুলও আমাদের, কিন্ডার গার্টেন আমাদের,আলিয়া মাদ্রাসা আমাদের, ওসব জায়গাতে আমাদের সন্তানেরা লেখাপড়া করে, তাদের সুবিধা – অসুবিধা নিয়ে আলেমদের ভাবতে হবে। তাদের লেখাপড়ার ব্যাপারে আমাদের খোঁজ নিতে হবে। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক : কওমি মাদরাসা শিক্ষক ও গবেষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *