ত্রিশ বছরের মধ্যে এই প্রথম লোকসানের মুখে এমিরেটস

ত্রিশ বছরের মধ্যে এই প্রথম লোকসানের মুখে এমিরেটস

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক ভ্রমণ খাতের স্থবিরতায় টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে আকাশসেবা সংস্থাগুলো। বিশ্বের সবচেয়ে বড় দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহনকারী এয়ারলাইনার এমিরেটসও এ ধাক্কা সামাল দিতে পারেনি। ফলে তিন দশকের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো লোকসান গুনতে হয়েছে কোম্পানিটিকে। খবর ব্লুমবার্গ।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে এমিরেটস এয়ারলাইনের লোকসান হয়েছে ১ হাজার ৪১০ কোটি দিরহাম (৩৮০ কোটি ডলার)। এ সময়ে কোম্পানিটির যাত্রী পরিবহন কমেছে ২৪ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে আকাশসেবা সংস্থাটির পণ্য পরিবহন কিছুটা বাড়লেও তা বাণিজ্যিক ফ্লাইটের দুরবস্থার প্রভাব প্রশমনের জন্য যথেষ্ট ছিল না। ফলে ছয় মাসে এমিরেটসের রাজস্বে ৭৪ শতাংশ পতন দেখা গেছে।

গতকাল এক বিবৃতিতে এমিরেটসের চেয়ারম্যান শেখ আহমেদ বিন সায়িদ আল মাকতুম বলেছেন, ‘এমন এক সময়ে আমাদের চলতি হিসাব বছর শুরু হয়েছে, যখন বিশ্বজুড়ে লকডাউন চলার কারণে আকাশপথে যাত্রী চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমরা আশা করছি, কভিড-১৯ ভ্যাকসিন বাজারে এলে আকাশপথে যাত্রী চলাচলের চাহিদা আবার বেড়ে যাবে। সে অনুযায়ী সেবা দেয়ার জন্য আমরা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।’

মহামারীর প্রভাব এমিরেটসের ওপর একটু বেশিই পড়েছে। কারণ এর ব্যবসা কাঠামো গড়ে উঠেছে বড় আকারের জেটের মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় সব প্রান্তে যাত্রীসেবা দেয়ার ওপর ভিত্তি করে। এয়ারবাসের এ৩৮০ ও বোয়িংয়ের ৭৭৭ সিরিজের মতো বিশালাকার উড়োজাহাজ দিয়ে দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহন করে তারা। খাতসংশ্লিষ্টদের ধারণা, স্বল্পপাল্লার তুলনায় দূরপাল্লায় যাত্রী পরিবহন খাতে মহামারীর প্রভাব থেকে উত্তরণে একটু বেশি সময় লেগে যাবে। কারণ যাত্রীরা খুব বেশি প্রয়োজন না হলে আপাতত দূরের পথে যাত্রা এড়িয়েই যাবে।

কভিড-১৯ মহামারীর শুরুর দিকে প্রায় দুই মাস বেশির ভাগ ট্রিপ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় এমিরেটস। গত ২১ মে থেকে তারা রেগুলার প্যাসেঞ্জার ফ্লাইট চালু করতে শুরু করে। এখন পর্যন্ত করোনাপূর্ব সময়ের ছয়টি রুটে তারা কার্যক্রম শুরু করতে পেরেছে।

/এএ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *