বিলাসবহুল সার্ভিসে পিছিয়ে বিআরটিসি

বিলাসবহুল সার্ভিসে পিছিয়ে বিআরটিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক : বেসরকারি পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে ভলভো, ম্যান, স্ক্যানিয়া, হিনোর মতো বিলাসবহুল ও আধুনিক বাস নিয়ে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত, সেখানে সরকারি পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) কোনো বিলাসবহুল সার্ভিস নেই। বরং লক্কড়-ঝক্কড় মার্কা পুরনো বাস নিয়েই চলছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি। ফলে দূরপাল্লা ও স্বল্পপাল্লার কোনো রুটেই বেসরকারি পরিবহন সংস্থার সাথে প্রতিযোগিতায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে সরকারি সংস্থাটি। সম্প্রতি বিআরটিসির পরিচালন শাখায় অত্যাধুনিক বাসের সংখ্যা জানতে চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, বিআরটিসির বহরে কোনো অত্যাধুনিক বাস নেই।

বিআরটিসি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিআরটিসি বর্তমানে আন্তঃজেলা রুটে ৩১৬টি বাস পরিচালনা করছে। কিন্তু সংস্থাটির চীন, কোরিয়া ভারত থেকে কেনা বাসের কোনোটিই দূরপাল্লার রুটে চলাচলের উপযোগী নয়। চীন ও কোরিয়ার বাসগুলোর প্লাস্টিকের তৈরি শক্ত ও অপ্রশস্ত আসনে আগ্রহ হারাচ্ছে যাত্রীরা। আর ভারত থেকে কেনা বাসগুলো দূরপাল্লার রুটে চলাচলের উপযোগী নয়। বর্তমানে বিআরটিসির বহরে বাস রয়েছে মোট ১ হাজার ৫৩৮টি। তার মধ্যে ৪৯৩টি অচল। সচল বাসের মধ্যে ৫৬৩টি সাধারণ, ৩০৩টি দুই দরজাবিশিষ্ট ডাবল ডেকার, ১৩৫টি এক দরজার ডাবল ডেকার ও ৪২টি আর্টিকুলেটেড। তার মধ্যে এসি বাসের সংখ্যা ২৩৮।

সূত্র জানায়, বিআরটিসি ২০০০ সালের দিকে দেশের ১৯৩টি আন্তঃজেলা রুটে বাস পরিচালনা করতো। কিন্তু ক্রমাগত রুটের সংখ্যা কমতে কমতে বর্তমানে তা ১৪০-এ নেমে এসেছে। বন্ধ হয়ে গেছে ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-রংপুর, ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি রুট। কখনো বেসরকারি পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বাধা, আবার কখনো অন্য কোম্পানির বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে বন্ধ হয়েছে ওসব রুট। দুই বছর আগেও আন্তঃজেলা ও সিটি মিলে ১৯৫টি রুটে চলত বিআরটিসির বাস। বর্তমানে রুটের সংখ্যা ১৮৪তে নেমে এসেছে। বিআরটিসি সংশ্লিষ্টদের মতে, জনবল সঙ্কট, অর্থের অভাব, সঠিক সময়ে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং বেসরকারি পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের বাধার কারণে সংস্থাটির কার্যক্রমে গতি আসছে না। আর যাত্রীরা বলছেন, সেবার মান খারাপ হওয়ায় বিআরসিটির বাসে উঠতে আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা।

সূত্র আরও জানায়, দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাসে অবশ্যই আরামদায়ক আসনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। আসনের সামনে ও পেছনে পর্যাপ্ত জায়গা থাকাও জরুরি। কিন্তু বিআরটিসি যেসব বাস পরিচালনা করছে, বিশেষ করে প্লাস্টিক আসনের বাসগুলো কোনোভাবেই দূরপাল্লার রুটে চলাচল উপযোগী নয়। সড়কপথে নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীরা বিআরটিসির বাসে ভ্রমণ অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানান, সিটগুলো নোংরা ও অপ্রশস্ত। স্টপেজের পরিমাণ এতো বেশি যে, বিরক্তি ধরে যায়। এমনকি মাঝপথে রাস্তা থেকেও যাত্রী তোলা হয়।

এদিকে বিআরটিসির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া যাত্রীসেবায় পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বাধা, অর্থের অভাব, সঠিক সময়ে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকে দায়ী করছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, বেসরকারি কোম্পানিগুলো তাদের বাসের মান যেভাবে বাড়িয়েছে, বিআরটিসি সে তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে। তবে যাত্রী সেবার মান বাড়াতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিআরটিসি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *