ফুড ডেলিভারির বাজার উজ্জ্বল

ফুড ডেলিভারির বাজার উজ্জ্বল

ফুড ডেলিভারির বাজার উজ্জ্বল

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ফোনে হাত বুলাতেই দোরগোড়ায় গরম গরম খাবার হাজির। চাইলে পাওয়া যাচ্ছে কারও বাসায় রান্না করা খাবারও। মামুলি কোনও সেবা নয় ফুড ডেলিভারি। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে আছে হরেক ফুড ডেলিভারি অ্যাপ। দিনে ৩ কোটি টাকারও বেশি লেনদেন হচ্ছে এতে। বছরে যা ছাড়িয়ে যাচ্ছে হাজার কোটি টাকা। ফুডপান্ডা, সহজ ফুড, পাঠাও, ই-ফুড, হাংরি নাকি, ফুড পিয়ন, চালচাল, ইকুরিয়ার বিডি, হেলদি কিচেন, ফুড মার্ট, হারিকেন ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান এখন ফুড ডেলিভারি সেবায় নাম কুড়িয়েছে। এর মাঝে উবার ইটস ব্যবসা গুটিয়ে নিলেও চাঙ্গা হচ্ছে হোমমেড অনেক খাবারের সেবা। এর মাঝে প্রতিযোগিতা করে যারা টিকে আছে তারা দিন দিন ভালোই করছে বলেই সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে দেশীয় ফুড ডেলিভারি সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো করছে এবং এরইমধ্যে আস্থা তৈরি করতেও সক্ষম হয়েছেন বলে অভিমত খাত সংশ্লিষ্টদের।

ফুড ডেলিভারি খাত সূত্রে জানা যায়, এখন দিনে ফুড ডেলিভারি প্লাটফর্মে অর্ডার আসছে প্রায় ১ লাখ। যার অর্থমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। সেই হিসেবে বার্ষিক প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার দেশীয় বাজার রয়েছে এই খাতে। আর এই পেশায় বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার ডেলিভারিম্যান ও ৫ হাজার নির্বাহী ক্যারিয়ার গড়েছেন বলেও জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় অনলাইনভিত্তিক পণ্য ও সেবার কেনাকাটা বেড়েছে। মানুষ করোনাকালে ঘরে বসেই খাবার অর্ডার করতে পারছে। অনেকে আবার হোমমেড খাবার নিজস্ব ডেলিভারি ব্যবস্থায় পৌঁছে দিচ্ছে ভোক্তার কাছে। অনেকেই কাজটাকে নিয়েছেন ফুলটাইম পেশা হিসেবে।

টিকেটিং ও রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান সহজ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মালিহা এম কাদির বলেন, লকডাউনের সময় অনেক রেস্টুরেন্ট বন্ধ ছিল। সে সময় সহজ ফুড ডেলিভারিও বন্ধ ছিল। নিউ নরমাল পরিস্থিতিতে ফুড ডেলিভারি আগের পরিমাণের ৮০-৯০ শতাংশে ফিরেছে। তিনি জানান, বাঙালি ভোজনরসিক। লোকজন এখন অনলাইনে খাবার অর্ডার করছে। ফলে নতুন একটা আবহ তৈরি হয়েছে। খাতটা ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে।

মালিহা কাদির আরও জানান, হোম কুকিংয়েরও একটা চল শুরু হয়েছে। লোকজন বাসায় খাবার রান্না করে ফুড ডেলিভারি সার্ভিসকে ডাকছে। আগের চেয়ে এই খাতের প্রবৃদ্ধি বেশি। তবে তিনি পরিচ্ছন্নতা নিয়েও চিন্তিত। এটা ধরে রাখতে না পারলে এ খাতে ভালো করা যাবে না বলে জানান। এ ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোকে অনুসরণ করার পরামর্শ দেন সহজ-এর প্রতিষ্ঠাতা।

ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ইভ্যালি এক্সপ্রেস শপের আওতায় গ্রোসারি ও ফুড মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২০ হাজার অর্ডার হয়। ই-ফুড চালুর প্রথম মাসেই আমরা ৫০ হাজার গ্রাহককে সেবা দিতে পেরেছি। ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেটের জন্য ই-ফুডে ছয় হাজারের বেশি ‘ইভ্যালি হিরো’ কাজ করছে। এর বাইরে ফ্রিল্যান্সিং ভিত্তিতে আরও অন্তত ১৫ হাজার রাইডার নিবন্ধিত আছেন, যারা প্রতিদিন খাবার সরবরাহ করে আয় করছেন।

মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ই-ফুড সেবায় আমার গুণগত মান নিয়ে আপস করি না। বরং এই বিষয়টিতেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই। তিনি জানান, এই খাতের ভবিষ্যত ভালো। কোভিড-এর কারণে গ্রাহকরা এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা ভালো সেবা চান। আবার রেস্টুরেন্টের বাইরে অনেকে ঘরেই খাবার তৈরি করে এই সেবার মাধ্যমে ডেলিভারি করছেন। সরাসরি হোমমেড ফুড পাচ্ছে গ্রাহকরা।

রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাঠাও-এর পরিচালক (বিপণন) সৈয়দা নাবিলা মাহবুব জানান, লকডাউনের সময় ফুড সার্ভিসে নতুন ক্রেতা তৈরি হয়েছে। এ সময় এ খাত একেবারে স্তিমিত ছিল না। এখন অর্ডার আগের কাছাকাছি অবস্থানে চলে গেছে। তিনি বলেন, এ খাতে নতুন ক্রেতা বাড়ছে, গ্রোথ ভালো হচ্ছে। নতুন উদ্যোগগুলোকেও আশাবাদী করে তুলছে।

তিনি জানালেন, তার প্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে শতভাগ কঠোর অবস্থানে আছে। ডেলিভারিকর্মীদের মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার বাধ্যতামূলক। করোনা মহামারি কেটে গেলেও খাবার ডেলিভারিতে পাঠাও ফুড পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করবে বলে জানান তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *