ফাইজারের টিকা অনুমোদন দিল সৌদি
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ফাইজারের টিকার অনুমোদন দিল সৌদি আরব। করোনা সংক্রমণ রোধে মধ্যপ্রাচ্যে এর আগে এই টিকার প্রথম অনুমোদন দেয় বাহরাইন। সৌদি প্রেস এজেন্সি থেকে দেওয়া একটি বিবৃতির বরাত দিয়ে ‘আরব নিউজ’ ও ‘দ্যা হিল’ এ কথা জানায় ।
গণমাধ্যম দু’টির প্রতিবেদনে ওই বিবৃতি তুলে ধরে বলা হয়েছে, ‘সৌদি আরবে ফাইজার-বায়োএনটেকের উদ্ভাবিত করোনা ভ্যাকসিনের রেজিস্ট্রেশনের জন্য অনুমোদন দিয়েছে সৌদি ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অথরিটি। করোনা রুখতে দেশের স্বাস্থ্য দফতর এবার এই টিকা বিদেশ থেকে আমদানি করে ব্যবহার করতে পারবে।’ তবে কবে থেকে দেশের সাধারণ নাগরিক করোনার এই ভ্যাকসিনটি পাবে তা ওই বিবৃতিতে জানানো হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
আমেরিকার খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার তৈরি বিশেষজ্ঞ কমিটি ছাড়পত্র দিয়েছেন ফাইজারের করোনা টিকাকে। জরুরি ব্যবহারের জন্য এই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এর আগে ইতিমধ্যে ব্রিটেন, কানাডা, বাহারাইন ও সৌদি আরবে ফাইজারের টিকা জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। ভারতেও এমন ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছে ফাইজার-বায়োএনটেক। মার্কিন উপদেষ্টা প্যানেলের ১৭ সদস্য এটির জরুরি ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছেন। এদের মধ্যে চার জন বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন, একজন অনুপস্থিত ছিলেন। খবর বিবিসি’র।
বিবিসি জানায়, ১৭-৪ ভোটে ফাইজার এবং এর জার্মান পার্টনার বায়োনটেকের টিকাকে বয়স্ক ও ১৬ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর বলে ঘোষণা করা হয়। একজন ভোটদানে বিরত ছিলেন।
আনন্দবাজার পত্রিকা তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, বিশেষজ্ঞরা টিকা পরবর্তী সময়ের ঝুঁকির কথা মাথায় রাখতে বলেছেন। এছাড়া, বৈজ্ঞানিক ও সংক্রমক ব্যধি বিশেষজ্ঞসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে তৈরি এই কমিটি টিকা প্রয়োগের নানা দিক খতিয়ে দেখেছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবারই প্রায় ৪৪ হাজার মানুষের উপর টিকা প্রয়োগ করে তার ফলাফল নিউ ইংল্যান্ড জার্নালে প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। তারপরেই এসেছে ছাড়পত্র দেওয়ার দাবি।
ফলাফলে দাবি করা হয়েছে, এই টিকা গড়ে ৯৫ শতাংশ কার্যকর। তেমন কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও এই টিকার ফলে দেখা যায়নি। আরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই টিকা তৈরি করার ফলেই এই সাফল্য বলে জানিয়েছেন ফাইজারের বিজ্ঞানীরা। তবে খারাপ খবর এসেছে ব্রিটেন থেকে। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে টিকা নেওয়ার পর দুই স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে অ্যালার্জি দেখা দিয়েছে। সেই কারণে ছাড়পত্র পেলেও এই টিকার গায়ে একটি লেবেল থাকবে, যেখানে সতর্ক করা থাকবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়ে।


