ভার্চুয়ালি নয় স্টল বসিয়ে মেলা চান লেখক প্রকাশকরা

ভার্চুয়ালি নয় স্টল বসিয়ে মেলা চান লেখক প্রকাশকরা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : করোনা সংক্রমণ আশংকা সত্ত্বেও যখন দেশব্যাপী শপিংমল, সিনেমা হল, বিনোদন কেন্দ্র সব খুলে রেখে সভা সমাবেশ চলছে যখন তখন জাতীয় চেতনার ধারক অমর একুশে গ্রন্থমেলা স্থগিত করে ভার্চুয়াল মেলার প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন লেখক, প্রকাশক, অ্যাক্টিভিস্টরা।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া কোথাও কিছু আটকে নেই, সেখানে বইমেলা নিয়ে কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। বলছেন, একুশে মেলা কেবল বই কেনা-বেচার জায়গা নয়। ভার্চুয়ালি বই বিক্রির অনেক প্ল্যাটফর্ম আছে। সবকিছু স্বাভাবিকভাবে সাবধানতার সঙ্গে চলবে বলা হচ্ছে। সেটি নিশ্চিত করলেই এই প্রাণের মেলা বন্ধ করতে হয় না। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটলে বরং কিছুদিন পিছিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

করোনাভাইরাস মহামারির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামী বছরের অমর একুশে গ্রন্থমেলার আয়োজন ‘আপাতত স্থগিত রাখার’ আবেদন করবে বাংলা একাডেমি বলে জানান একাডেমির মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ সিরাজী। রবিবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে করতে যাওয়া আবেদনে অনলাইনে বইমেলা আয়োজন করা যায় কিনা, সেটাও বিবেচনায় রাখতে অনুরোধ করা হবে বলে জানান তিনি।

বইমেলার দৃশ্যমান যে উৎসব মুখর অবয়ব বা উদযাপন, তার বাইরেও এর অদৃশ্য বিশাল একটা সক্রিয়তা রয়েছে উল্লেখ করে জনপ্রিয় তরুণ লেখক সাদাত হোসেন বলেন, সেই সক্রিয়তা মূলত এর সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য মানুষের জীবিকা ও অস্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত। আমাদের বাস্তবতায় লেখকদের কথা না হয় বাদই দিলাম। কিন্তু বেশিরভাগ প্রকাশক থেকে শুরু করে ছাপাখানার কর্মী, মালিক, বাঁধাইখানার শ্রমিক, এমনকি দোকান ভাড়া থেকে শুরু করে অসংখ্য মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গেও এর সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। সারা বছর কী পরিমাণ বই বিক্রি হয়, তা আমরা জানি। আমরা এও জানি, এই সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকটি মানুষ মূলত অপেক্ষায় থাকেন এই এক মাসের বইমেলার জন্যই। এর ওপরই মূলত এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে যুক্ত অসংখ্য মানুষের টিকে থাকা নির্ভর করে। ফলে, বইমেলা না হলে এদের পরিস্থিতিটা কী হবে, সেটি ভেবে দেখাটা জরুরি। যেখানে এই করোনাকালে শপিং মল থেকে শুরু করে সব ধরনের জন-জমায়েতই আমরা দেখছি। নানান সভা-সমাবেশ, ওয়াজ-মাহফিল, মুক্ত গ্যালারিতে আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ পর্যন্ত। সেখানে করোনার দোহাই দিয়ে কেন কেবল বইমেলাই স্থগিতের প্রস্তাব উঠছে, বিষয়টি পরিষ্কার নয়। আমার মনে হয় করোনার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে হলেও বইমেলাটা হওয়া উচিত। সেটি মাসখানেক পিছিয়ে হলেও।

ভার্চুয়ালি আবার বইমেলা হয় কী করে? প্রশ্ন করে লেখক ও সাংস্কৃতিক অ্যাক্টিভিস্ট সৈয়দ তানজীনা ইমাম বলেন, ‘মহান একুশে গ্রন্থমেলা কি শুধুই বই ব্যবসা? বইমেলা লেখক পাঠক প্রকাশকসহ কত শত মানুষের মিলন মেলা। একুশে গ্রন্থমেলা এ ভূখণ্ডের ঐতিহ্যের অংশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোভিড ১৯ মহামারির কারণে শপিং সেন্টার কি বন্ধ আছে? শপিং সেন্টারগুলোর সামনে দিয়ে যাওয়া যায় না এমন যানজট। বন্ধু-বান্ধবদের টাইমলাইন ভর্তি বিভিন্ন অবকাশ কেন্দ্র আর রিসোর্টে বেড়ানোর ছবি। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে গিজগিজ করছে মানুষ। কই এসব ক্ষেত্রে তো কোনও নিষেধাজ্ঞা দেখি না।’

‘আমরা ভার্চুয়ালি নয় একচুয়ালি বইমেলা চাই। প্রয়োজনে আরও বড় পরিসরে আরও ছড়িয়ে দূরে দূরে স্টল তৈরি করেন। স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা ও দূরত্ব বজায়ের ব্যবস্থা করেন। তবু অমর একুশে গ্রন্থমেলা বাংলার সংস্কৃতির এক মাইলফলক এর কোনও ব্যত্যয় ঘটানো চলবে না।’

প্রয়োজনে কিছুটা পিছিয়ে হলেও ২১ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ২৬ মার্চ শেষ হোক প্রস্তাব দিয়ে লেখক সাখাওয়াত টিপু বলেন, বইমেলা অনলাইনে নেওয়ার বুদ্ধি দিলো কে? দেশে তো সবকিছুই খোলা। সবাই তো স্বার্থমতো সভা সমাবেশ করতে পারে। তাহলে কেন বইমেলা খোলা ময়দানে হবে না? বইমেলা খোলা ময়দানে হোক।

ইউপিএল প্রকাশনীর মাহরুখ মহিউদ্দীন মনে করেন, ভার্চুয়াল পার্ট রাখা যেতে পারে কিন্তু ডিসটেন্স রেখে স্টল করে ভিড় নিয়ন্ত্রণ রাখা অসম্ভব না। তিনি বলেন, আমাদের তো করোনা পরিস্থিতিতে পরিস্থিতিতে অনির্দিষ্টকাল থাকতে হবে বলে সবকিছুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে। সেখানে মেলা কেন হবে না। আমাদের যে টেকনোলজি আছে, ফ্যাসিলিটি আছে সেসবকে কাজে লাগিয়ে আমরা খোলা জায়গায় নিয়ম মেনেই মেলা করতে সক্ষম। ফলে প্রকাশকদের সঙ্গে বসে মতামত নিয়ে একটা সিদ্ধান্তে আসা সমীচীন হবে।

/এএ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *