আসাদউদ্দিন ওয়াইসি কেন প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন

আসাদউদ্দিন ওয়াইসি কেন প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন

আসাদউদ্দিন ওয়াইসি কেন প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন

চৌধুরী আতিকুর রহমান

শুভেন্দু অধিকারী পূর্ব মেদিনীপুরের একচ্ছত্র অধিপতি ছিলেন। সাংবিধানিকভাবে তিনি ছিলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। তাঁর পিতা শিশির অধিকারী আজীবন কংগ্রেসী রাজনীতি করে এসেছেন। তিনি এখন কাঁথি থেকে তৃণমূলের সাংসদ। কাঁথি পুরসভার প্রধান ছিলেন শিশিরবাবুর কনিষ্ঠপুত্র সৌমেন অধিকারী। নন্দীগ্রামের সংসদীয় কেন্দ্র তমলুকের সংসদ হলেন দিব্যেন্দু অধিকারি। অর্থাৎ ডাইনে-বাঁয়ে যেদিকে তাকানো যায় সেদিকেই অধিকারী পরিবার।

রাজনৈতিক পরিবার হিসেবে তাঁদের একটা পরিচিতি ছিল। কিন্তু তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর অধিকারী পরিবারের পরিচিতিটা আধিপত্যে পরিণত হয়। বলা যেতে পারে ক্ষমতার দিক দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতার পরেইো। তবুও শুভেন্দু অধিকারী বলেন তিনি নাকি বঞ্চিত। তাই তিনি ভাবছেন যেখানে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রকৃত মূল্য পাবেন সেই বিজেপিই হল তাঁর দল। সঙ্গে ল্যাংবোট হিসেবে পেয়েছেন ভাই সৌমেন্দুকে। যদিও কাঁথি পুরসভার প্রধান পদটি তিনি হারিয়েছিলেন।

নন্দীগ্রাম ভূমি সুরক্ষা কমিটির ব্যানারে আন্দোলন তৈরি হওয়ার বহু আগেই ভারতের বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দ নন্দিগ্রামের জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। সর্ব ভারতীয় নেতা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর পরিচালনায় স্থানীয় নেতা সৈয়দ আব্দুস সামাদের নেতৃত্বে আন্দোলন এমন পর্যায়ে চলে যায় যে বাম সরকারকে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে বাধ্য হতে হয় ‘নন্দীগ্রামে কোন কেমিক্যাল হাব হচ্ছে না’।

এরপরই অরাজনৈতিক আন্দোলনটি রাজনৈতিক রঙ নিতে থাকে। সিপিআইএম-এর হার্মাদ বাহিনির কাছে সরকারের পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ইগোতে আঘাত করে। এরপর বিরোধিতার নেতৃত্ব চলে যায় মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে। তবে এসইউসি, কংগ্রেসের একাংশ, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর রাজনৈতিক সংগঠন পি ডি সি আই আন্দোলন জোরদার করে।

এই সময় থেকেই পঞ্চায়েত স্তরের নেতা শুভেন্দু অধিকারীর উত্থান। হলদিয়া পৌর নির্বাচনেও লক্ষ্মণ শেঠের ফুৎকারে শুভেন্দু উড়ে যায়। ২০১১-র বিধানসভা নির্বাচন অধিকারী পরিবারকে সর্বপ্রথম জেতার স্বাদ এনে দেয়। অনুমেয় মুসলিম ও দলিত ভোটের অধিকাংশই গিয়েছিল মমতার হার না মানা, লড়াকু ইমেজ দেখে তৃণমূলের ভোট বাক্সে। কিন্তু মমতা তো সব জায়গায় প্রার্থী হতে পারেন না তাই অধিকারী পরিবার মমতার প্রতিরূপ হিসাবে দাঁড়িয়েছিল।

২০২১ নির্বাচনের প্রাক্কালে শুভেন্দুর দলত্যাগ এবং বিজেপির ছাতায় চলে যাওয়া কারণ যাই হোক নন্দীগ্রামের প্রাক্তন বিধায়ক হিসাবে নন্দীগ্রামের মানুষের সঙ্গে তিনি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। কংগ্রেস নেতা ও তীব্র তৃণমূল বিরোধী আইনজীবী অরুণাভ রায় বলেছেন নন্দীগ্রামের ৪০% মুসলিম ভোটারের সঙ্গে শুভেন্দু বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। মুসলিম প্রসঙ্গ এইজন্যেই আসছে শুভেন্দু তৃণমূল ছেড়ে গেছে এবং তার সঙ্গে সঙ্গে যাদের ভোটেই জিতে এসেছে তাদের জিহাদী বলতে ছাড়েনি।

এতক্ষণ পর বলা যায়, সেকুলার দলগুলোর নেতাদের পুরনো দল ছেড়ে বিজেপিতে প্রবেশ নতুন কোন কথা নয়। কিন্তু যারাই তাদের এতদিন ভোটে জিতিয়ে আনত তাদের সর্বোপরি বিশ্বাসঘাতকতা করা, হেয় প্রতিপন্ন করা, জিহাদি বলা ভালো মনে নিচ্ছে না। নন্দীগ্রাম থেকে শুভেন্দু আর ভোটে দাঁড়াবে না এটা নিশ্চিত। কিন্তু মুসলিম মননে ছাপ ফেলে যাচ্ছে এই নেতাগুলো হুট বলতেই বিজেপিতে চলে গিয়ে মুসলমানদের গালাগালি করছে। যদি কোন মুসলিম দল বা নেতাকে ভোট দেওয়া যেত তাহলে কিন্তু এই ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা ও গালাগালি তাদের পাওনা হতো না। নন্দীগ্রামে তৃণমূলই শক্তিশালী কিন্তু আসাদুদ্দিন ওয়াইসির গরম গরম কথা বার্তা ও দলবদলের ন্যূনতম সম্ভাবনা না থাকায় ক্রমে ওআইসির দল আইমিম প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।

আব্বাস সিদ্দিকীকেও দেখছি। ইসলাম বিরোধী কথা বলেও উনি কিছু মুসলিমের কাছে ত্রাতা। কেন হল? তার জন্যে মুসলিম ভোটে জিতে আসা নেতার দলত্যাগ করে বিজেপিতে হন্টন, অন্যতম কারণ হতে পারে।
লেখক : পশ্চিম বাংলার কলামিস্ট

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *