পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার শেষ নেই। তবে এরমধ্যে এবার ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদেহ এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানান। আজ বুধবার জো বাইডেনের হাতে ট্রাম্পের ক্ষমতা হস্তান্তরের আগেই তেহরানের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা এল।
আনাদেলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলায়মানি এবং শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফখরিজাদেহ হত্যাকাণ্ডে মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতার দায়ে তাদের ওপর নিষেধজ্ঞা আরোপ করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদে বলেন, সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের জন্য মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আনা হয়েছে। তারা সন্ত্রাসবাদ উসকে দিয়েছেন এবং এর প্রতি সমর্থন দিয়েছেন যা ছিল আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। যুক্তরাষ্ট্রের এসব ব্যক্তি শান্তি এবং মৌলিক মানবাধিকারের নীতি লঙ্ঘন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন সাঈদ খাতিবজাদে।
এই মুখপাত্র জানান, ২০১৭ সালে ইরানের জাতীয় সংসদে পাস হওয়া একটি আইনের আওতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তিনি জানান, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাাহিনীর সাবেক কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার সঙ্গে এসব ব্যক্তির জড়িত থাকার বিষয়টিও নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে বিবেচনায় আনা হয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে ইরানের পার্লামেন্টে নতুন একটি আইন পাস করা হয়। ওই আইনের আওতায় এ নিষেজ্ঞা আরোপ করে মধ্যপ্রাচ্যে এ দেশটি। সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেন, জাতিসংঘও আন্তর্জাতিক নীতির তোয়াক্কা না করে ইরানের বিরুদ্ধে অযথাচিত অর্থনীতিকসহ একের পর এক নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
খাতিবজাদে জানান, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, মাইক পম্পেও, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্রিস্টোফার মিলার, অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মুচিন, সিআইএ পরিচালক জিনা হাসপেল, সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন, ইরান বিষয়ক সাবেক মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি ব্রায়ান হুক ও বর্তমান প্রতিনিধি ইলিয়ট আব্রামস এবং বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দফতরের প্রধান আন্দ্রেয়া গ্যাকি।
/এএ


