মৃত্যুর আগেই তওবা করুন : সৈয়দ নুরুল করীম

মৃত্যুর আগেই তওবা করুন : সৈয়দ নুরুল করীম

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : তওবা করতে হবে মৃত্যুর শ্বাস উঠার আগে, মৃত্যুর শ্বাস উঠার আগেই ঈমান ঠিক করতে হবে, মৃত্যুর শ্বাস উঠে গেলে আর তওবা কবুল হবে না বলে জানিয়েছেন মরহুম মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করীম রহ. (চরমোনাই পীর) এর ছোট সাহেবজাদা কুরআন শিক্ষা বোর্ডের নির্বাহী সভাপতি মুফতি সৈয়দ নুরুল করীম।

তিনি বলেন, আলমে বারযাখের পর্দা যতক্ষণ ভারি থাকবে তা পাতলা না হয়ে যাবে, যতক্ষন গায়েব হাজের না হবে ততক্ষণ ঈমান ঠিক করা যাবে এবং তওবা ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল হবে। তাই তার আগেই নিজের সমস্ত গুনাহ থেকে তওবা করে নেন। ফিরে আসুন শুদ্ধতার পথে।

শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তাড়াইলের জামিয়াতুল ইসলাহ আল মাদানিয়া ময়দানে তিন দিনব্যাপী ইসলাহী ইজতেমার প্রথম দিন মাগরিবের পরে তিনি এসব বলেন।

সৈয়দ নুরুল করীম বলেন, দুনিয়া বান্দার পরীক্ষার জায়গা। পৃথিবীতে আল্লাহ বান্দার পরীক্ষা নেন। তিনি তো রহিম, রহমান। তিনি চান সবাই এখান থেকে পাশ করে বের হোক এবং জান্নাতের সার্টিফিকেট পেয়ে যাক, কিন্তু বান্দা নিজের বদ আমলের দরুন ফেল করে বসে। জাহান্নামের দিকে করে ফেলে নিজের রাস্তা। আখেরাতের পথ থেকে সে বিচ্যুত হয়ে যায়।

নারীদের চেহারা পর্দার অন্তর্ভুক্ত উল্লেখ করে ইজতেমাতে আগত পর্দার আড়ালে থাকা মা-বোনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, চেহারার মধ্যে ব্যক্তির সমস্ত অনুভূতি জমা হয়। সমস্ত অনুভূতির কেন্দ্রস্হল হল চেহারা। অন্যান্য অঙ্গাবলী যেখানে সমস্ত অনুভূতি প্রকাশ পায় না, সে অঙ্গগুলো যখন পর্দার অন্তর্ভূক্ত তখন সমস্ত অনুভূতির সম্মিলন স্থান চেহারাতে পর্দা অবশ্যই ফরজ।

কুরআন শিক্ষা বোর্ডের নির্বাহী সভাপতি বলেন, পৃথিবীতে বান্দা গুনাহ ও কৃতকর্ম মাফের ৪টি স্টেজ। এক. পার্থিব জীবনে আমলের মাধ্যমে বান্দা গুনাহ মাফ করিয়ে নেবে। এটা খুবি আসান। আমল করুন আর নিজের গুনাহ মাফ করিয়ে নেন।
দুই. যদি বান্দা দুনিয়াতে গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে না পারে, তাহলে কবরে হবে তার গুনাহের শাস্তি। দুনিয়ার শাস্তির চেয়ে কবরের শাস্তি আরও ভয়ানক ও মর্মন্তুদ। শাস্তির প্রতিটা স্তর আগের স্তরের চেয়ে ভয়ংকর বলেও জানান তিনি।
তিন. বান্দার মাফ না হওয়া গুনাহের শাস্তি হবে হাশরের ময়দানে। শাস্তি দিয়ে যদি গুনাহ মাফ হয় তো ভাল নচেৎ চতুর্থ স্টেজে তাকে জাহান্নামের আগুনে পুড়িয়ে শাস্তি দেয়া হবে। এই শাস্তি স্বাভাবিক শরীর নিতে পারবে না বলে তার শরীরকেও ৬০ হাত লম্বা বানিয়ে দেয়া হবে। প্রচন্ড শাস্তির এই সময়কাল শেষ হলে যেহেতু সে মুমিন জান্নাতে যেতে পারবে।

মৃত্যুর পরে শরীর এবং রূহ দুটোই শাস্তিভোগ করবে উল্লেখ করে নুরুল করীম বলেন, মৃত্যুর মাধ্যমে বান্দার দুনিয়ারে সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। তখন শরীর এবং রূহ দুটোই শাস্তিভোগ ও শান্তিলাভ করবে। আহলুস সুন্নত ওয়াল জামায়াতের বক্তব্য এটাই। অনেকে বলেন, শুধু রূহ শাস্তি পাবে। এটা ঠিক না ভুল বলেও জানান তিনি।

সৈয়দ নুরুল করীম আরও বলেন, পার্থিব জীবন থেকেই পরকালীন চির শান্তির জীবন অর্জন করে নিতে চাইলে দুটো কাজ করতে হবে। এক. ঈমান আনতে হবে। দুই. আমলে সালেহ করতে হবে। আমলে সালেহ প্রচুর রয়েছে তন্মধ্যে অন্যতম মৌলিক দুটি আমল হল, নামায ও যাকাত বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, এ দুইটা আমল আদম আ. থেকে আমাদের পর্যন্ত ধারাবহিকভাবে চলে আসা আমল।

এছাড়াও ইসলাহী ইজতেমাতে আগত মুসল্লী ও পর্দার আড়ালে থাকা সকল মা-বোনদের প্রতি আমলে সালেহার মাধ্যমে জিন্দেগি গঠন করার আহ্বান জানান মরহুম মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করীম রহ. (চরমোনাই পীর) এর ছোট সাহেবজাদা কুরআন শিক্ষা বোর্ডের নির্বাহী সভাপতি মুফতি সৈয়দ নুরুল করীম।

/এএ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *