কমছে না পেঁয়াজের দাম

কমছে না পেঁয়াজের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক ●  বৈশাখ মাসের আগে পেঁয়াজের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। এক সপ্তাহ আগে দেশি পেঁয়াজ (পাইকারি) প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের এই ঊর্ধ্বমুখী দাম আরো চার মাস বহাল থাকার কথা জানিয়েছেন রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতারা। দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ হয় পাবনা, ফরিদপুর ও রাজশাহী থেকে। সেখানেও পেঁয়াজের দাম অনেক বেশি।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা শাজাহান জানান, মূলত ইন্ডিয়ান পেঁয়াজের সঙ্গে প্রতিযোগিতা হয় দেশি পেঁয়াজের। ইন্ডিয়ান পেঁয়াজের দাম না কমলে দেশি পেঁয়াজের দাম কমবে না।

তার মতে, পৌষ থেকে মাঘ মাস পর্যন্ত দেশি পেঁয়াজের চারা লাগানো হবে। এরপর চৈত্র ও বৈশাখ মাসে সেই পেঁয়াজ আস্তে আস্তে বাজারে আসা শুরু করবে। তখন কিছুটা দাম কমা শুরু করবে। এর আগে ইন্ডিয়ান পেঁয়াজের দাম যদি না কমে তাহলে দেশি পেঁয়াজের দাম কমবে না।

৩০ বছর পেঁয়াজের ব্যবসা করা মো. আজিজ বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদিত পেঁয়াজ থেকে চাহিদা মেটে না। ইন্ডিয়ান পেঁয়াজের দরকার হয়। এ জন্য ইন্ডিয়ান বাজারের উপর নির্ভর করতে হয় বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজর। তিনি বলেন, দেশি পেঁয়াজের কোনো সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী নেই। কৃষকের গোলায় থাকে দেশি পেঁয়াজ। সেখান থেকে অল্প অল্প করে বাজারে আসে পেঁয়াজ। কিন্তু ঝামেলা বাধে ইন্ডিয়ান পেঁয়াজের কারণে। আমদানি করা পেঁয়াজ মজুদ করে রাখা হয়। যেখানে সরকারের কোনো হাত থাকে না। আমদানিকারকরা নিজেদের খেয়াল-খুশি মাফিক বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ করে থাকেন। আর দেশি পেঁয়াজের চাহিদা পূরণ করতে না পারায় ইন্ডিয়ান পেঁয়াজের উপর নির্ভর করতে হয়। যার ফলে ইন্ডিয়ান পেঁয়াজের দাম বাড়লে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়।

পাইকারি ব্যবসায়ী জসিম মিয়া বলেন, কাঁচা ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ আসা শুরু করেছে বাজারে। হয়তো কিছুটা দাম কমতে পারে ইন্ডিয়ান পেঁয়াজের। তবে দাম কমা নির্ভর করবে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের উপর। কারওয়ান বাজার পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতাদের কোনো সমিতি কিংবা সংগঠন নেই বলে জানান তিনি।

এদিকে চাল, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে হিমশিম খেতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

ধানমন্ডি থেকে কারওয়ান বাজারে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা সুমন আহমেদ বলেন, লোকাল বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ প্রায় ১০ টাকা বেশিতে কিনতে হচ্ছে। এ জন্য পাইকারি বাজারে কিনতে আসছিলাম। তবে এখানেও প্রতিপালা (৫ কেজি) দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা। আর ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ প্রতিপালা (৫ কেজি) ৩৫০ টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে প্রতি বছর পেঁয়াজের চাহিদা ২২ লাখ টন। আর দেশে উৎপাদন হয় প্রায় ১৮ লাখ টন। আমদানি করতে হয় ৪ থেকে ৫ লাখ টন পেঁয়াজ।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতা সবুজ জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে তিন দফায় পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পায়। এর কারণ হিসেবে তিনি অভিযোগ তোলেন ইন্ডিয়ান পেঁয়াজের দিকে। তিনি জানান, শুক্রবার পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিন দফায় ইন্ডিয়ান পেঁয়াজের দাম বাড়ে। সেই সঙ্গে দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *